গোলটেবিল বৈঠক: শিক্ষাঙ্গনে রাজনীতি ও শিক্ষার মান

সবুজবাংলাদেশ24.কম এর আয়োজনে ‘শিক্ষাঙ্গনে রাজনীতি ও শিক্ষার মান’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক ১৩ অক্টোবর ২০১৯ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত আলোচকদের বক্তব্য সংক্ষিপ্ত আকারে প্রকাশিত হলো।

 

সঞ্চালক: ড. মোঃ সহিদুজ্জামান:

শিক্ষাঙ্গনে রাজনীতির গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার পরিবেশে এর নেতিবাবচক প্রভাব পড়ছে। বর্তমান সময়ে এসে তা প্রকট আকার ধারণ করেছে। শিক্ষক ও ছাত্র রাজনীতির বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে দেশজুড়ে চলছে কড়া সমালোচনা। আশংকায় রয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। সাধারণ শিক্ষার্থীরা যদি দলীয় রাজনীতি করতে না চান তাহলে তাদের জোড় করে এ পথে নেয়া উচিত কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষকরে দলীয় লেজুরবৃত্তিক রাজনীতি শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষার পরিবেশ ও মানের উপর কতটুকু প্রভাব ফেলছে তা নিয়ে আজকের এই আলোচনা।

আলোচকবৃন্দ:

১. প্রফেসর ড. মো. মাহমুদুল হাসান শিকদার, ফার্মাকোলজি বিভাগ, বাকৃবি:

শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষার মানের অবনমনের অনেক কারণের মধ্যে ছাত্র-শিক্ষক লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি অন্যত্তম। শিক্ষাঙ্গনে লেজুরবৃত্তিক রাজনীতির পরিবর্তে পেশাগত রাজনীতির চর্চা থাকা উচিত। লেজুড়বৃত্তিক সাংগঠনিক রাজনীতি ছাড়াও ছাত্ররা তাদের প্রতিবাদ ও দাবীদাবা আদায় করতে পারেন। সাম্প্রতিক সময়ে তার উদাহারণ দেখা যায় যেমন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলন, গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্দোলন, কোটা সংস্কার আন্দোলন, নিরাপদ সড়কের আন্দোলন। এসব আন্দোলনের প্রতিটি ছাত্র রাজনীতি মুক্ত ছিল। তবে ছাত্র নেতৃত্ব গড়ে তোলার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যে ছাত্র সংসদ রয়েছে তা চালু করতে হবে। শিক্ষার্থীদের প্রতিভা বিকাশের জন্য সাংষ্কৃতিক কার্যক্রমের সুযোগ সুবিধা বাড়াতে হবে।

শিক্ষকরা দলীয় রাজনীতিতে বিভাজন না হয়ে ইনডিভিজুয়াল দাঁড়াবে এবং শিক্ষার্থীরা ছাত্র সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে (কোন প্যালেন থাকবে না শুধু পোষ্ট থাকবে) স্ব-স্ব ক্ষেত্রে যোগ্য নেতৃত্ব গড়ে তুলবেন। পত্র পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র-শিক্ষক রাজনীতি নেই তারা ভাল করছে।

ছাত্র-শিক্ষক রাজনীতি না থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন উগ্রবাদ জন্ম নেওয়ার আশংকা থাকলে তা নিয়ন্ত্রন করা কোন ছাত্র সংগঠনের কাজ নয়, এর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আছে, গোয়েন্দা সংস্থা আছে, রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা আছে।

২. প্রফেসর ড. মো. হারুনুর রশীদ, ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, বাকৃবি:

দেশের অর্থনীতির জন্য কৃষি শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষকদের শিক্ষা ও গবেষণায় ফিরিয়ে আনতে হবে। শিক্ষার্থীদের কাউন্সিলিং করতে হবে। রাজনীতি করতে যে সময় নষ্ট হয় তা না করে ছাত্রদেরকে সময় দিতে হবে। বাকৃবিতে এ পর্যন্ত ১৯ জন ছাত্রের হত্যাকান্ড হয়েছে কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনটির বিচার হয়নি। বিচারহীনতার সংস্কৃতি ছাত্রদেরকে বেপড়োয়া করে তোলে যার ফলশ্রুতি এখন দেখতে পাচ্ছি।

কালচারাল কার্যক্রম বাড়াতে হবে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেড়িয়ে আসতে হবে। লেজুড়বৃত্তিক শিক্ষক ও ছাত্র রাজনীতি উভয়ই ক্ষতিকর। লেজুরবৃত্তিক ছাত্র-শিক্ষক রাজনীতি বন্ধ হতে পারে। শ্রীলংকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোন রাজনীতি নেই। সেখানে নেতা কিভাবে তৈরি হচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লেজুরবৃত্তিক রাজনীতি নেই সেসব দেশে কি নেতৃত্ব তৈরি হচ্ছে না?

শিক্ষকদের পেশাগত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে হবে। সিসিটিভি, ভিজিলেন্স নিরাপত্তা বাড়ানো এগুলো ছাত্র রাজনীতির প্রভাব কমানোর ক্ষেত্রে হার্ডওয়্যারের অংশ কিন্তু আমাদের সফটওয়্যারে কাজ করতে হবে। চারিত্রিক, মেধা ও নেতৃত্ব, সুকুমারবৃত্তির চর্চা বাড়াতে হবে।

৩. প্রফেসর ড. মো. আবদুল আলীম, প্যারাসাইটোলজি বিভাগ, বাকৃবি:
আবাসিক হলগুলোতে পড়াশোনার উপযুক্ত পরিবেশের অভাবে আগ্রহী শিক্ষাথীরা ভাল ফলাফল করতে পারছে না। আন্তরিকার সহিত ক্লাস নিলেও অনেকের মনোযোগ থাকে না। জানা যায়, কমবেশী প্রতিদিন গেষ্টরুমে হাজিরা , ম্যানার শেখানোর নামে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন তাদেরকে আতংকিত করে রাখে। তাদের ভিতর জন্ম নেয় হতাশা, মাদকাসক্তি, চাঁদাবাজি, মারামারি সহ নানান অছাত্রসুলভ আচরন। নষ্ট হয়ে যায় তাদের উজ্জল ভবিষ্যৎ।

এসবের দ্রুত অবসান করে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ নিশ্চিত এখন সময়ের দাবি। দল মত নির্বিশেষে সবাই প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে পারলে এর দ্রুত সমাধান সম্ভব।

৪. প্রফেসর ড. সাইদুর রহমান, কৃষি অর্থনীতি বিভাগ:
বুয়েট সংগত কারণে ছাত্র-শিক্ষক রাজনীতি বন্ধ ঘোষণা করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যখন রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরি হয় তখন শুধুমাত্র এগুলো নিয়ে ভাবা হয়, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার ভুলে যাওয়া হয়।

ছাত্র রাজনীতি থাকা উচিত, তবে তারা ছাত্রদের ন্যায্য অধিকার ও দাবী নিয়ে কথা বলবে। ছাত্রদের কল্যানে কাজ করবে। রাজনীতি বন্ধ করলে যে গেষ্টরুম কালচার বন্ধ হবে তা মনে করার কারণ নেই। সুষ্ঠু রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনার উপর কাজ করা দরকার।

ক্লাসিফাইড় সমাজে নানাবিধ সমস্যা থাকবে। শিক্ষকরা দল মত নির্বিশেষে যদি কোন পদ্ধতিগত পরিবর্তনে প্রশাসনকে সাথে নিয়ে কাজ করতে পারে তাহলে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছা সম্ভব হবে।

৫. প্রফেসর ড. মো. জাকির হোসেন, ফসল উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগ, বাকৃবি:
রাজনীতির ধারা পরিবর্তন হয়েছে। দেশ এগিয়ে যাওয়ার কারনে ছাত্র রাজনীতির প্রয়োজনীয়তা কমে যাচ্ছে। ছাত্র-শিক্ষক রাজনীতি এমন এক পর্যায়ে চলে গেছে তা পরিশোধন দরকার। শিক্ষকদেরও উদার হওয়া দরকার, শিক্ষক-ছাত্র সম্পর্কের জায়গাটিতে কাজ করা দরকার। কালচারাল অঙ্গনে শিক্ষকদের আরো ভুমিকা রাখার প্রয়োজন আছে। লেজুরবুত্তিক নয় ছাত্ররাজনীতি থাকবে যারা শুধু শিক্ষার্থীদের অধিকার, শিক্ষার মান ও ন্যায্য প্রাপ্তি নিয়ে কথা বলবে।

অপরাজনীতি, দুর্নীতি রোধে মিড়িয়ার ভুমিকা গুরুত্বপূর্ণ। গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী, যে সব বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী নির্যাতন হয় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় তার মধ্যে একটি। এটি আমাদের জন্য অবশ্যই লজ্জার বিষয়। দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে এর সমাধান করতে হবে। টাস্কফোর্সকে সক্রিয় করতে হবে। প্রয়োজনে টাস্কফোর্সকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে কাজ করা যেতে পারে। বর্তমান উপাচাযের্র যোগ্য নেতৃত্বে সকলে মিলে কাজ করলে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

৬. প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, পশুবিজ্ঞান বিভাগ, বাকৃবি:
সমাজের সর্বত্র নৈতিক অবক্ষয় হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় যেহেতু সমাজের একটি অংশ তাই এটিও বাদ যায়নি। অনৈতিকভাবে অর্থ উপার্জনের আকাঙ্খা সমাজের সর্বস্তরে বিরাজমান। অনৈতিকতা ও অর্থবৃত্তির লোভ-লালসা ছাত্র-শিক্ষক রাজনীতিকে যে অবস্থায় নিয়েছে তাকে গ্যাংগ্রিন (পচন) বলা যায় যা পরিশোধনের সুযোগ নেই। এর থেকে ফিরে আসারও কোন উপায় নেই।

রাজনৈতিক প্রভাবকে ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্মম হত্যাকান্ড বারবার ঘটেই চলছে। এহেন ঘটনায় জাতি হতবিহ্বল, অভিভাবকরা আতংকিত ও উদ্বিগ্ন। বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিবাবকদের নিয়ে বছরে একদিন হলেও সভা বা মিটিং হওয়া প্রয়োজন। দেশের রাজনীতিবীদরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে কিভাবে দেখতে চায় সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ছাত্র রাজনীতি কিভাবে চলবে তা নির্ধারণ করার জন্য খোদ প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঠিক করতে নির্দেশ দিয়েছেন। অতএব বিষয়টি নিয়ে আমাদের ভাবার সময় এসেছে।

৭. প্রফেসর ড. সুবাস চন্দ্র দাস, পোল্ট্রি বিজ্ঞান বিভাগ, বাকৃবি:
আলোচনায় সমৃদ্ধ হওয়া যায় যা আজকের এ আলোচনায়ও হচ্ছে। এক ছাত্র আরেক ছাত্রকে মেরে বস্তায় ভরাবে, তোষক দিয়ে মোড়ায়ে ফেলে রাখবে, ইয়াবা বিক্রি করবে এগুলোকে ছাত্র রাজনীতি বলা যাবে না। শিক্ষক ক্লাস নিবেন না, অন্যখানে পড়াবেন, অনৈতিকভাবে অর্থ উপার্জন করবেন এটাকে শিক্ষক রাজনীতি বলা যাবে না।

আগের প্রাইমারী ও সেকেন্ডারি শিক্ষা এবং বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা এক নয়। বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় মানবিক গুনাবলী বিকশিত হওয়ার জায়গা বন্ধ হয়ে গেছে যা আগে ছিল। দানবিক চরিত্র বিকশিত হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা রাজনীতিবিদ হচ্ছেন, দেশ চালাচ্ছেন। সঠিক রাজনৈতিক নেতৃত্ব গড়তে হবে। বীজ সঠিক হতে হবে। আমাদের গোড়ায় সমস্যা। প্রাকটিক্যাল হতে হবে। শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে হবে। দেশ যত উন্নতির দিকে এগিয়ে যাবে তত মানুষের মধ্যে মানবিক গুনাবলী কমিয়ে দানবিক গুনাবলী বেড়ে যাবে। চিন্তার জায়গায় আমরা আত্মকেন্দ্রিক হয়ে যাচ্ছি যা কোন শুভ লক্ষণ নয়।

৮. প্রফেসর ড. মো. আজহারুল হক, পশু প্রজনন ও কৌলিবিজ্ঞান বিভাগ, বাকৃবি:
একজন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী নিশ্চয়ই খারাপ হয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয় না, সে এখানে পরিবেশগত কারণে হয়তবা নষ্ট হচ্ছে। এর জন্য মানসম্মত ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত প্রয়োজন। ছাত্র-ছাত্রীদের কাউন্সিলিং বাড়াতে হবে।

বাকৃবিতে ইতমধ্যে নিরাপত্তা জোড়দার করা হয়েছে। আবাসিক হল সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলো সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হচ্ছে। মনিটরিং বা ভিজিলেন্স বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া হলে সিট সংকটের কারণে মাষ্টার্স শেষ করার সাথেসাথে হল ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি আগের চেয়ে কিছুটা স্বাভাবিক হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও হল প্রশাসন যৌথভাবে তৎপরতার সহিত কাজ শুরু করে দিয়েছে। অভিভাবক শুধু তার সন্তানকে মাসে মাসে টাকা পাঠালে হবে না খোঁজ খবরও নিতে হবে।

৯. প্রফেসর ড. মো. শহীদুল হক, বায়োটেকনোলজি বিভাগ, বাকৃবি:
শিক্ষকদের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও খোঁজখবর নেয়া উচিত তার সন্তান কি করছে। সন্তানের কোন পজিটিভি বা নেগেটিভ পরিবর্তন হচ্ছে কিনা বাবা মা ভাল বুঝতে পারেবেন। সন্তান কার সাথে মেশে, কার সাথে চরাফেরা করছে, অর্থ উপার্জন করে থাকলে তা কিভাবে করছে, ছেলের চুলের স্টাইল কেন পরিবর্তন হল, পোশাক আশাকে কেন পরিবর্তন হল এগুলো খেয়াল রাখতে হবে। উশৃঙ্খল আচরন করছে কিনা, কোন কিছু লুকাচ্ছে কিনা তা বোঝার দায়িত্ব ও অভিভাবকদের।

বিশ্ববিদ্যালয়কে অভিভাবকদের সাথে সম্পর্ক তৈরি করতে হবে। পরীক্ষার ফলাফলও অভিভাকদের জানানো উচিত। বিশ্ববিদ্যালয় ও হল প্রশাসন যদি শক্ত থাকে এবং তৎপর থাকে তাহলে অনেক অনাকাঙ্খিত ঘটনা এড়ানো সম্ভব।

১০. প্রফেসর ড. এম. এ. এম. ইয়াহিয়া খন্দকার, পশু প্রজনন ও কৌলিবিজ্ঞান বিভাগ, বাকৃবি:
আজকের যে আলোচনার বিষয়বস্তু “শিক্ষাঙ্গনে রাজনীতি ও শিক্ষার মান” এর প্রেক্ষিতে এককথায় বলা যায় বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার মানের যে অবনমন তার জন্য লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি অনেকাংশে দায়ী। রাজনীতি আমাদের যে দাম্ভিকতা দিয়েছে তা শিক্ষক, ছাত্র, কর্মকর্তা, কর্মচারি সবার মধ্যে লক্ষনীয়।

শুধু ছাত্র রাজনীতি নয়, শিক্ষক রাজনীতিরও গৌরবাজ্জল ইতিহাস রয়েছে। ১৯৯০ এর পর থেকে ছাত্র রাজনীতির যে ইতিহাস তা অতীতের গৌরবোজ্জল ইতিহাসের সাথে তুলনা করার কোন অবকাশ নেই। এর কারনে নানান জায়গায় সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। আজকের এ আলোচনার একটা ইমপ্যাক্ট আছে। এসব আলোচনা বেশি বেশি হওয়া দরকার। আমরা কি ধরণের রাজনীতি চাই তা ভাবার সময় এসেছে। প্রভু ও দাস হওয়ার রাজনীতি আমরা চাই না। একই সঙ্গে পড়ে একই মেধার অথচ একজন শিক্ষার্থী প্রভু হবে আরেকজন দাস হবে এটি হতে পারে না । এইসঙ্গে চাকরি করি, একই বিভাগে চাকরি করি একজন প্রভু হবে আরেকজন দাস হবে এই রাজনীতি চাই না। অতএব যে রাজনীত আমাদের প্রভু সৃষ্টি করে ও দাস বানায় সে রাজনীতি আমরা করব না। সকলে একসাথে বসে এই অপরাজনীতির ধারা রিভিউ করতে হবে। আমরা সামনে কি রকম দেশ দেখতে চাই তা নিয়ে আমাদের ভাবার সময় এসেছে। নৈতিক দায়িত্ব থেকে সবাই মিলেমিশে কাজ করলে এ অবস্থা থেকে উত্তোরনের সম্ভাবনা রয়েছে। ছাত্র-শিক্ষক রাজনীতি আপাতত বন্ধ করে সামনের দিকে এগুতে হবে।

আলোচনায় সুপারিশ:
১. ছাত্র বা শিক্ষক রাজনীতি নয়, ক্যাম্পাসভিত্তিক যে কোন দলীয় লেজুড়বৃত্তিক সাংগঠনিক রাজনীতি বন্ধ করা প্রয়োজন।
২. বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেড়িয়ে আসতে হবে।
৩. শিক্ষকদের দলীয় প্যানেলবিহীন নির্বাচন করতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব গড়তে ছাত্র সংসদ চালু করতে হবে।
৪. টাস্কফোর্সকে সক্রিয় করতে হবে এবং সাংস্কৃতিক চর্চা বাড়াতে হবে।
৫. ছাত্র-শিক্ষক আদর্শিক সম্পর্ক বাড়াতে হবে এবং কাউন্সিলিং করতে হবে।
৬. পরিবার ও প্রাথমিকে নৈতিক শিক্ষার উপর জোর দিতে হবে।
৭. শিক্ষকদের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও খোঁজখবর নেয়া উচিত তার সন্তান কি করছেন।

Comments

comments