নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ পরবর্তীতে ধরা পড়ছে ডিমওয়ালা ইলিশ

নিউজ ডেস্কঃ

ইলিশের প্রধান প্রজনন মওসুমে মা ইলিশ রক্ষায় নদীতে মাছ ধরার ১৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়েছে ৯ অক্টোবর শুক্রবার। গতকাল শনিবার থেকে নদীতে মাছ ধরা শুরু করেছে জেলেরা। চাঁদপুরের প্রায় ত্রিশ হাজার জেলে পরিবারে এখন উৎসবের আমেজ। তবে জেলে, অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তা ও মৎস্য ব্যবসায়ীদের দাবি, এ বছর মা ইলিশ রক্ষা কার্যক্রম সঠিক সময়ে দেয়া হয়নি। কারণ, পরিপক্ক ইলিশ ডিম ছাড়ার সময় এখনো শেষ হয়নি। সামনের অমাবস্যা-পূর্ণিমার মধ্যে মা ইলিশ ডিম ছাড়বে। ওই সময় পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা থাকলে মা ইলিশ ডিম ছাড়ার পুরোপুরি সুযোগ পেতো।

গতকাল শনিবার ভোরে চাঁদপুর সদর উপজেলার হরিণা, বহরিয়া, লক্ষ্মীপুরসহ বেশ কটি মাছের আড়ত সুত্রে জানা যায়, জেলেদের জালে ধরা পড়া অধিকাংশ ইলিশে ডিম রয়েছে। অবশ্য জাটকাও ধরা পড়ছে। জেলেরা বলছে, এ অমাবস্যা-পূর্ণিমার মধ্যে নিষেধাজ্ঞা থাকলে মা ইলিশ ডিম ছাড়ার পুরো সুযোগ পেতো। কিন্তু এবার অনেক আগে থেকে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার। বাস্তবতা হচ্ছে, সামনে ডিম ছাড়ার সময় এখনো রয়ে গেছে। এবারের মা ইলিশ রক্ষা কার্যক্রম দ্বারা ইলিশের উৎপাদন খুব বাড়বে বলে মনে হয় না। নিষেধাজ্ঞার সময়টি এবার সঠিক সময়ে ছিল না বলে মনে করেন এখানকার জেলেরা। এ ব্যাপারে জেলে জয়নাল, আনোয়ার হোসেন, মনির শেখ ও রফিক জানান, এ বছর অভিযান সফল হয়েছে, কিন্তু মাছের মধ্যে এখনো ডিম রয়ে গেছে। মা ইলিশে ডিম রয়ে গেছে বলে স্বীকার করলেন নদীতে সর্বোচ্চ অভিযানের দায়িত্বে থাকা সাহসী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কামাল মোহাম্মদ রাশেদ। তিনি বলেন, আমরা অভিযান সফল করতে যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি।

লক্ষীপুর লোকাল পত্রিকার সুত্রে জানা যায়, বাজারে ওঠা প্রতিটি ইলিশের পেটে এখনো ডিম রয়ে গেছে৷ বিশাল আকৃতির ডিমওয়ালা মা ইলিশ এখন অবাধে ধরা পড়ছে জেলেদের জালে। মা ইলিশ সুরক্ষার নিষেধাজ্ঞা পেরিয়ে দ্বিতীয় দিনের চিত্র এটি। গত ৯থেকে ৩০অক্টোবরে নদীতে যে মা ইলিশ ধরা নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছিলো, তাতে অধিকাংশ ইলিশ ডিম ছাড়েনি। ফলে, অভিযান শেষেও ধরা পড়া ইলিশের পেটে ডিম দেখে হতবাক হচ্ছেন, জেলে, ইলিশ ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত জনগোষ্ঠী, নদীপাড়ের মানুষরা। তারা বলছেন, যে সময়ে মা ইলিশ ডিম ছাড়বে, সে সময়ে অভিযান না দিয়ে তার অনেক আগ থেকেই এ অভিযান দেয়া হয়েছে। যার ফলে, অধিকাংশ ইলিশের পেটে এখনো ডিম রয়ে গেছে। এতে জেলে, ইলিশ ব্যবসায়ী এবং দেশের সর্বনাশ হয়েছে বলে দাবি করছেন নদীপাড়ের মানুষগুলো।

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের মতিরহাট মেঘনাতীরের মাছঘাটে দীর্ঘদিন পর আড়তদারদের ইলিশ বিক্রির হাকডাক শোনা যাচ্ছিলো বলে জারা যায়। সেখানে ইলিশের পেটে ডিম দেখে হতাশই হচ্ছে স্থানীয় জনগণ, জেলে ও ব্যবসায়ীরা। কেননা, ঘাটে যে ইলিশগুলো চোখে পড়েছে তার শতকরা ৮০ভাগ ইলিশের পেটে এখনো ডিম আছে। এ নিয়ে ইলিশ গবেষকদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন জেলে সম্প্রদায়ের মানুষগুলো। তারা বলছেন, অভিযান যদি ২৫অক্টোবর থেকে দেয়া হতো, তাহলে এখন আর ডিমওয়ালা মা ইলিশ ধরা পড়তো না। এজন্য কর্তৃপক্ষের কাছে দেশের ইলিশ সম্পদ রক্ষায় যথাযথ প্রদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তারা

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের ইলিশ গবেষক ড. আনিসুর রহমান জানান, অভিযান আরো কিছু দিন বাড়ানো গেলে ভালো হতো। আমরা সাধারণত পূর্ণিমার উপর নির্ভর করে কর্মসূচি দেই। তবে দুই পূর্ণিমার সময়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারলে তথা আরো কিছুদিন বাড়িয়ে অভিযান দিতে পারলে ভালো হতো। তবে এ বিশেষ অভিযান এতো লম্বা সময় ধরে পরিচালনা করাও প্রায় অসম্ভব। উল্লোখ্য, এ বছর মা ইলিশ রক্ষায় ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ৯ অক্টোবর এ পনের দিন নদীতে ইলিশসহ সকল প্রকার মাছ ধরা নিষিদ্ধ করে সরকার।

Comments

comments