ভারতের ‘জাতীয় শিক্ষা পুরস্কার’ পেলেন বাকৃবি শিক্ষক ড. আবুল মনসুর

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাৎস্য বিজ্ঞান অনুষদ এর ফিশারিজ টেকনোলজী বিভাগের স্বনামধন্য শিক্ষক ও গবেষক প্রফেসর ডঃ মোঃ আবুল মনসুর ভারতের ‘জাতীয় শিক্ষা পুরস্কার’ এবং ‘বিশ্ব শিক্ষা পুরষ্কার’ লাভ করেছেন।

সম্প্রতি ভারতের মহারাষ্ট্রের মুম্বাই নগরীতে অনুষ্ঠিত ৮ম বিশ্ব শিক্ষা সম্মেলনে বিশ্বর খ্যাতনামা শিক্ষাবিদগণের সাথে প্রফেসর ডঃ মোঃ আবুল মনসুরকে এ বিরল সম্মানে ভূষিত করা হযেছে। একটি আন্তর্জাতিক জুরী বোর্ড এর মূল্যায়নে এবং সুপারিশের ভিত্তিতে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে নির্বাচিতদেরকে এ পুরষ্কার দেয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক জুরী বোর্ডে ভারত, ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র ও এশিয়ার অন্যান্য দেশের ইমেরিটাস অধ্যাপক, বিজ্ঞানী, শিল্পপতি, উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠাতাবৃন্দ সদস্য ছিলেন।

এবারের বিশ্ব শিক্ষা সম্মেলনের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল একটি দেশের উপযুক্ত/টেকসই (বহনীয় ও সহনীয়) উন্নয়নের জন্য সফল শিক্ষানীতি। এ শিক্ষানীতি কেমন হওয়া উচিৎ এ বিষয়ে শিক্ষাবিদ, নীতি-নির্ধারক, শিল্পপতি, সমাজপতি ও শিক্ষকবৃন্দ গুরুত্বপূর্ণ মতামত প্রদান করেছেন।

সম্মেলনের তাৎপর্য সম্পর্কে প্রফেসর ডঃ মোঃ আবুল মনসুর বলেন, শিক্ষকবৃন্দকে শিক্ষা, জ্ঞান, মেধা ও শিক্ষা উপকরণ দ্বারা গড়ে তোলা ও প্রস্তুত করা একটি উপযোগী ও ভালো শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষক ও জনগণের মধ্যে চিন্তা ও মত বিনিময়, বিশ্ব বিদ্যালয় ও শিল্প-কারখানার মধ্যে সহযোগীতাও গুরুত্বপূর্ণ। অধিকতর ভালো, শান্তিপূর্ণ, বহনীয় ভবিষ্যত নির্ভর করে অধিকতর ভালো, গুণগত শিক্ষা এবং অধিকতর শিক্ষিত তরুণদের উপর। তিনি একটি অধিকতর ভালো শিক্ষানীতির উপর গুরুত্বরোপ করেছেন। তিনি আরও বলেন উক্ত সম্মেলনে মূল প্রবদ্ধ উপস্থাপন করেন ডঃ আমিন বিন সেনিন।

মূল প্রবন্ধে তিনি উল্লেখ করেছিলেন, বহনীয় ও সহনীয় উন্নয়নের লক্ষ্যে ডিজিটাল প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন অগ্রসর করা প্রয়োজন। ভারতের ডঃ সোনাম মানসুখানী উদার শিক্ষা, জ্ঞান ভিত্তিক শিক্ষার ব্যাপারে গুরুত্ব আরোপ করেছেন। উদার শিক্ষা বলতে শিক্ষার্থীর স্বাধীনতা ভিত্তিক শিক্ষা বুঝানো হয়েছে যেমন- পাঠ্যক্রম, কোর্স দক্ষতা পছন্দের স্বাধীনতা/অধিকার।

৮ম বিশ্ব শিক্ষা সম্মেলনের উদ্ভোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রেখেছিলেন ড আর.এল. ভাটিয়া, ড. অরুণ অরোরা, ড. তারিতা শংকর। এছাড়া মালয়েশিয়ার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক ডঃ আমিন বিন সেনিন গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন।

৮ম বিশ্ব শিক্ষা সম্মেলনে প্যানেল আলোচনায় বক্তাগণ একটি সুন্দর বহনীয় ও সহনীয় ভবিষ্যতের জন্য একটি ভালো শিক্ষানীতি প্রণয়ন করার ব্যাপারে গুরুত্ব আরোপ করেছেন। ভালো শিক্ষানীতির ফলে ভালো শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে উঠে। পুরুষ ও নারী সম্মিলিতভাবে কাজ করে জাতির একটি সুন্দর ভবিষ্যত গড়ে তুলতে পারে। ভালো শিক্ষানীতি প্রণয়ন করার ক্ষেত্রে কতিপয় ব্যাপারে প্রাধান্য দিতে হয় সেগুলো হলঃ শিক্ষার্থী বান্ধব শিক্ষা, শিক্ষকবৃন্দকে যথাযথভাবে গড়ে তোলা ও শিক্ষা উপকরণ ও পরিবেশ প্রদান করা, সেক্টর, শিল্প কারখানা এবং নিয়োগ কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয়তা ও চাহিদা বিবেচনা করা, গুণী তরুণ শিক্ষিত সৃষ্টি করা, বিশ্বের ও জাতীয় পরিবর্তনশীল সমস্যা যেমনঃ অতিমাত্রায় বেকার সমস্যা বিবেচনা করা। ভারতের মহারাষ্ট্রের মাননীয় মূখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা সোয়েতা শালিনী তাঁর বক্তব্য উপস্থাপন করেন। তিনি “শিক্ষা ব্যবস্থা ও দক্ষতা উন্নয়ন” শীর্ষক বক্তৃতা করেন।

যুক্তরাজ্যের ডঃ মার্ক লেষ্টার উল্লেখ করেছেন যে, বিশ্বর ৪০% নিয়োগ কর্তৃপক্ষ নিয়োগ প্রদানের অসুবিধার সম্মূখীন হয়েছে। দক্ষ জনশক্তির অভাবে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন প্রচলিত/সনাতন বিশ্ব বিদ্যালয় পদ্ধতিতে দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টি করা সম্ভব নয়। ২০২২ সালে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের কর্মীর দক্ষতা উন্নয়ন প্রয়োজন হবে। বিষয়ভিত্তিক শিক্ষা, বিভিন্ন বিষয়ের শিক্ষা, পদ্ধতিগত শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বিশ্ব ব্যাপী উচ্চ শিক্ষা হ্রাস ব্যাপারেও আলোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন মধ্যবিত্ত শ্রেণীর সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে প্রত্যাশা ও চাহিদা বৃদ্ধি পাবে। তিনি বিশ্ব বিদ্যালয় ও শিল্প কারখানার অংশীদারিত্বের উপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। ভূটানের ডঃ তানডিন দর্জি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভালোরীতি অনুসরণ করার ব্যাপারে গুরুত্ব আরোপ করেন। শিশুবান্ধব বিদ্যালয়, পারস্পরিক আদান-প্রদান, সহাবস্থান ইত্যাদির ব্যাপারেও গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

ভারতের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য, বাংলাদেশ, নেপাল, ভূটান, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, ফিলিপিনস, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের প্রতিনিধিবৃন্দ এ সম্মেলনে অংশ গ্রহণ করেছেন।

(Visited 1 times, 1 visits today)