নৈতিকতা-দৃঢ়তা দিয়ে দুর্নীতি ও অন্যায়ের প্রতিবাদ করবে: রাষ্ট্রপতি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ বলেছেন, দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ থেকে একজন গ্রাজুয়েট হিসেবে সবসময়ে সত্য ও ন্যায়কে সমুন্নত রাখবে। নৈতিকতা ও দৃঢ়তা দিয়ে দুর্নীতি ও অন্যায়ের প্রতিবাদ করবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরন্তর গবেষণার মধ্যে দিয়ে নবতর জ্ঞান ও বহুমুখী সৃষ্টিশীল কর্মকা-ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মননে মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত হয়। কিন্তু সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে কিছু কিছু ঘটনা এই মানবিক মূল্যবোধের বিকাশকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। আমরা এ ব্যাপারে বিশেষভাবে সচেতন থাকি এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে জ্ঞানচর্চা, মুক্তচিন্তা ও মানবিক মূল্যবোধের পীঠস্থান হিসেবে সমুন্নত রাখি।

শনিবার (৩০ নভেম্বর) বিকেলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একাদশ সমাবর্তনে শেখ কামাল স্টেডিয়ামে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ঘটে যাওয়া অপ্রীতিকর ঘটনা উল্লেখ করে আব্দুল হামিদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নামে ওঠা নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, শিক্ষকরা উন্নত জাতি তৈরির মহান কারিগর। শিক্ষকের কথা কেবল বক্তৃতা নয়- তা বাণী। বাণী শ্রোতার বুদ্ধি ও বিবেককে জাগ্রত করে। বাণী শ্রোতার অন্তরে জ্ঞানের মশাল প্রজ্জ্বলিত করে। আদর্শ, প্রচেষ্টা ও বৃত্তি ছাড়া পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাস মূল্যহীন। তাই একজন শিক্ষককে আদর্শ ও ন্যায়-নীতির প্রতীক হতে হবে। কিন্তু সম্প্রতি গণমাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে প্রকাশিত খবর আচার্য হিসেবে আমাকে মর্মাহত করে।

গ্রাজুয়েটদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘তোমরা দেশের উচ্চতর মানবসম্পদ। দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে ও অগ্রগতি নির্ভর করছে তোমাদের উপর। তোমাদের তারুণ্য, জ্ঞান, মেধা ও প্রজ্ঞা হবে দেশের উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তি।

তিনি আরো বলেন, তবে মনে রাখবে এ দেশের খেটে খাওয়া মানুষ তাদের শ্রম ঘামের বিনিময়ে তোমাদের শিক্ষার ব্যয়ভার বহন করছে। তাদের কাছে তোমরা ঋণী। এখন সময় এসেছে ঋণ পরিশোধ করার। তোমরা তোমাদের মেধা, কর্ম ও সততা দিয়ে দেশ ও জনগনের কল্যাণ করতে পরলে সেই ঋণ কিছুটা হলেও শোধ হবে। কর্ম উপলক্ষে তোমরা যেখানেই থাকো না কেনো, ভূলবে না শ্রদ্ধেয় শিক্ষকমন্ডলী, সহপাঠীসহ এ বিশ্ববিদ্যালয়কে। ভূলবে না এ দেশ ও সাধারণ জনগনকে।

বক্তব্যের শুরুতে রাষ্ট্রপতি অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং মুক্তিযুদ্ধসহ স্বাধিকার ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের স্মরণ করেন।

অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তা পশ্চিমবঙ্গ বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক রঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ক্যালেন্ডারে সমাবর্তন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনকে ‘কমেন্সমেন্ট’ বলা হয়, কারণ, তোমরা তোমাদের অর্জিত শিক্ষাকে সমাজের কল্যাণের উদ্দেশ্যে আজ নতুন যাত্রা সূচনা করছ। প্রার্থনা করি তোমরা তোমাদের অপরূপ সৌন্দর্যের দেশের প্রতি কর্তব্যকে সম্পূর্ণভাবে অনুধাবন করবে এবং সর্বপোরি সমগ্র বিশ্বকে আমাদের সকলের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ক্ষেত্র রূপে গড়ে তুলতে সদর্থক ভূমিকা পালন করবে।

সমাবর্তনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ড. দীপু মণি বলেন, বতর্মান সরকার উচ্চ শিক্ষার প্রসারে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সরকার একটি যুগোপযোগী শিক্ষানীতি প্রণয়ন করেছে এবং তা বাস্তবায়নে কাজ করছে। গবেষণা ছাড়া কোন বিশ্ববিদ্যালয় মূলত সনদ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। যা মোটেও কাম্য নয়। নিত্য নতুন গবেষণা দেশ এগিয়ে যাবে, মানসম্মমত শিক্ষা নিশ্চিত হবে। এটিই আমাদের সকলের কাম্য। উচ্চ শিক্ষাকে আরও গতিশীল করার জন্যে সকল বিশ্ববিদ্যালয়কে গবেষণা কার্যক্রমে আরও মনোযোগী হওয়া আবশ্যক।

এর আগে বিকাল ৩টা ২৫ মিনিটে দিকে রাষ্ট্রপতি সমাবর্তন মঞ্চে আসন গ্রহণ করেন। সাড়ে ৩টায় জাতীয় সঙ্গীত ও পরে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ করা হয়। রাষ্ট্রপতি সমাবর্তনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। পরে অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি গ্রাজুয়েটদের ডিগ্রি প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক মলয় ভৌমিকের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য দেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা । শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন কোষাধ্যক্ষ এ কে এম মোস্তাফিজুর রহমান আল-আরিফ। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন উপ-উপাচার্য চৌধুরী মো. জাকারিয়া। পরে বিকাল পৌনে ৫টায় রাষ্ট্রপতি অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করেন খোরশেদ আলম ও লুইপা।

(Visited 2 times, 1 visits today)