গরুর লাম্পি স্কিন রোগ ছড়াচ্ছে দেশব্যাপী

নিউজ ডেস্কঃ

সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি) নামক এক প্রকার ভাইরাস জনিত চর্মরোগ দ্বারা বিপুল পরিমান গবাদি প্রাণী আক্রান্ত হচ্ছে ।

গরুর লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি) প্রথম দেখা দেয় চট্টগ্রামে। চলতি বছরের জুলাইয়ে কর্ণফুলী উপজেলার একটি খামারে ধরা পড়ে রোগটি। পরবর্তী সময়ে ছড়ায় অন্যান্য জেলায়। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এরই মধ্যে ৪০টি জেলায় ছড়িয়েছে লাম্পি স্কিন ডিজিজ। এসব জেলায় আক্রান্ত হয়েছে প্রায় আড়াই লাখ গরু। বেশকিছু গরু মারাও গেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারত থেকে আমদানি বন্ধ হওয়ার পর দেশে গরু পরিপালন বাড়তে থাকে। এতে সাফল্যও পান খামারিরা। গত অর্থবছরই ২ কোটি ৪২ লাখ ছাড়িয়ে গেছে গরুর সংখ্যা। বাড়ছে খামারের সংখ্যাও। লাম্পি স্কিন ডিজিজের প্রাদুর্ভাব থেকে খামারকে মুক্ত রাখা না গেলে এ অগ্রযাত্রায় বিঘ্ন ঘটতে পারে।

এ রোগে মৃত্যুহার কম হলেও ঝুঁকি বাড়াচ্ছে দুগ্ধ ও চামড়া শিল্পে। কারণ এ রোগে আক্রান্ত হলে পশুর চামড়া অনেকটাই অকার্যকর হয়ে যায়। আবার গাভী আক্রান্ত হলে দুগ্ধ উৎপাদন শূন্যের কোটায় নেমে আসে। দেশের দুগ্ধ উৎপাদন খামারগুলোয় এর প্রভাব পড়ছে। উৎপাদন কমে যাওয়ায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন খামারিরা। অনেকে বাণিজ্যিকভাবে গরু পালন ছেড়েও দিচ্ছেন।

খামারি ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে প্রতি বছর ভুটান, নেপাল, থাইল্যান্ড ও ভারত থেকে গরু আমদানি করা হয়। এমনকি কার্গো বিমানে করে ব্রাহামা জাতের গরুও আনা হচ্ছে। কিন্তু আমদানিকারকরা কী ধরনের গরু আনছেন বা আমদানি করা গরুর শরীরে প্রাণঘাতী ভাইরাস আছে কিনা, সে পরীক্ষা করা হচ্ছে না, যা রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। মূলত মশা ও মাছির মাধ্যমে ভাইরাসজনিত রোগটি সারা দেশে সম্প্রসারিত হচ্ছে। আগে এ ধরনের রোগ দেশে ছিল না। ওষুধেরও তাই প্রয়োজন পড়েনি। লাম্পি স্কিন ডিজিজের চিকিৎসায় গোট পক্সের ভ্যাকসিন প্রাথমিকভাবে কাজে লাগতে পারে। তবে এ ভ্যাকসিনেরও যথেষ্ট অভাব রয়েছে দেশে। এ অবস্থায় দ্রুত রোগটি প্রতিরোধের ব্যবস্থা না নিলে ঝুঁকির মধ্যে পড়বে দেশের প্রাণিসম্পদ খাত।

এদিকে, বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের গবাদি পশুর এই মারাত্মক রোগ হতে রক্ষার্থে এবং খামারীদের আর্থিক ক্ষতির হাত থেকে মুক্ত করতে বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করে যার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের  মহাপরিচালক ড. নাথু রাম সরকারে  নির্দেশক্রমে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট, আঞ্চলিক কেন্দ্র, যশোর খামারী ও জনসাধারনের সচেতনতার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, আফ্রিকার জাম্বিয়ায় ১৯২৯ সালে প্রথম এই রোগ সনাক্ত করা হয় এবং ১৯৪৩ সাল থেকে ৪৫ সালের মধ্যে বিস্তীর্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশে এই রোগ সর্বপ্রথম ২০১৯ সালে দেখা যায় এবং যশোর , গোপালগঞ্জ , শরিয়তপুর সহ একাধিক জেলায় ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ে। আফ্রিকাতে এই রোগের গড় মৃত্যুহার ৪০%। লাম্পি স্কিন ডিজিজ আফ্রিকায় একাধিকবার মহামারী আকারে দেখা গেলেও আমাদের দেশে গরুতে এই রোগের প্রাদুর্ভাব এর আগে কখনো ব্যাপক আকারে দেখা যায় নাই।

(Visited 5 times, 1 visits today)