হেকেলের থিওরী ও ডারউইনের বিবর্তনের পুরাচিত্র বাতিল ঘোষণা করলেন ড. আহাদ

মো. আব্দুর রহমান:

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি), দিনাজপুর- এর প্রফেসর ড. মোঃ আব্দুল আহাদ ‘ডারউইনের থিওরীর শক্তিশালী প্রমাণ হেকেলের থিওরী (পুনঃরাবৃত্তি মতবাদ) ও ডারউইনের বিবর্তনের পুরাচিত্র (ডারউইনিয়ান ট্রি)’ বাতিল ঘোষণা করেছেন। এটা তার ১২তম প্রবন্ধ।

ড. মোঃ আব্দুল আহাদ ২০ পৃষ্ঠার এ প্রবন্ধেটিতে আমেরিকান ৭২ জন বড় বড় বিজ্ঞানীর সর্বাধুনিক তথ্য দ্বারা এই বাতিল ঘোষণা করেছেন। তার প্রবন্ধটি “Journal Entomology and Zoology Studies”-Gi Volume: 6, 9 Number 5, 2018 সংখ্যায় ভারত থেকে প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর প্রবন্ধটির শিরোনাম ‘Embryological evidences opposite to Darwin’s theory: Biogenetic law (Recapitulation theory) and Haeckel’s evolutionary tree is not valid.’

ডারউইনের থিওরী অনুসারে মানুষ-সহ সমস্ত জীব একটি আদি এককোষি জীব হইতে বিবর্তনের মাধ্যমে উৎপত্তি লাভ করেছে। ডারউইনের এই বিষয়টি সাথে সুর মিলিয়ে হেকেল চিত্র-সহ প্রমাণ দেখান যে, সমস্ত মেরুদন্ডী প্রাণী যথা- মানুষ, মুরগী, কচ্ছপ, খরগোশ, কুকুর, মাছ, শুকর, বানর, প্রভৃতির ভ্রুণ দেখতে একই রকম (চিত্র-১); কারণ, মানুষ-সহ এ সমস্ত প্রাণী একটি আদি প্রাণী হইতে বিবর্তনের মাধ্যমে উৎপত্তি লাভ করেছে। ফলে এ সমস্ত প্রাণীর ভ্রুণ ঐ আদি প্রাণীর পরিনত দশাকে পুনঃরাবৃত্তি ঘটায় (Ontogeny repeats the phylogeny), একে বায়োজেনেটিক ‘ল’ (Biogenetic law) বা রিক্যাসিচুলেশন থিওরী (Recapitulation theory) বলে।

হেকেলের ‘বায়োজেনেটিক ল’, ডারউইন তাঁর থিওরীর জোরালো প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করেন। হেকেলের থিওরী ও তাঁর আঁকা ছবি (চিত্র-১) সব ধরনের জীববিজ্ঞান ও চিকিৎসা বিজ্ঞান বইতে দেখা যায়। হেকেলের ‘বায়োজেনেটিক ল’ ও ‘ডারউইনিয়ান ট্রি’ বাতিল ঘোষণায় প্রফেসর ড. আহাদ এর ১৪টি যুক্তির কয়েকটি যুক্তি সংক্ষিপ্তভাবে তুলে ধরা হলো:

০১.) উদ্ভিদকূলের ভ্রুণসমূহ হেকেলের থিওরীকে আদৌ সমর্থন করে না। ০২.) আবার একাইনোডার্ম হতে সমস্ত মেরুদন্ড প্রাণী উৎপত্তি লাভ করেছে বলে বিজ্ঞানীরা অনুমান করেন। তাই একাইনোডার্মার ভ্রুণ হেকেলের থিওরীর একটা গুরুত্বপূর্ণ সমর্থন দেয়। কিন্তু এখন গবেষণায় দেখা গেছে যে, একাইনোডার্র্মার ভ্রুণ, হেকেলের থিওরীকে আদৌ সমর্থন করে না।
০৩.) হেকেল দেখিয়েছেন যে, সমস্ত মেরুদন্ডী (মানুষ, মুরগী, কচ্ছপ, খরগোশ, কুকুর, মাছ, শুকর, বানর, প্রভৃতি প্রাণীর ভ্রুণ) প্রাণীর ভ্রুণে ফুলকাছিদ্র/ভাঁজ (চিত্র-৩) বিদ্যমান। এর কারণ সমস্ত মেরুদন্ড প্রাণী একটি মাছ মতো আদি জীব হইতে উৎপত্তি লাভ করেছে। কিন্তু সম্প্রতি গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, শুধুমাত্র মাছের ভ্রুণ ছাড়া অন্যান্য সমস্ত মেরুদন্ড প্রাণী ফুলকাছিদ্র/ভাঁজ অনুপস্থিত।

০৪.) হেকেল তার আঁকা ছবিতে দেখিয়েছেন যে, মানুষ-সহ সকল মেরুদন্ডী প্রাণীর ভ্রুণ একই রকম দেখতে। কিন্তু সম্প্রতি বিভিন্ন গবেষনায় দেখা গেছে যে, ঐ সমস্ত মেরুদন্ডী প্রাণীর ভ্রুনের প্রাথমিক ধাপ ও শেষ ধাপগুলো হেকেলের আঁকা ছবির সাথে কোন মিল নেই (চিত্র-২); হেকেল কোন তথ্য ও প্রমাণ ছাড়াই তাঁর নিজের ইচ্ছা মতন ছবিগুলো এঁকেছিলেন; ডারউইনকে থিওরীর সত্য প্রমাণের জন্য; অর্থাৎ হেকেল বিজ্ঞানীদের সাথে প্রতারনা (Cheating) করেছেন।
০৫.) হেকেলের থিওরী ৩টি বিশ্বাসের/অনুমানের (Assumption) উপর ভিত্তি করে গঠিত। কিন্তু ড. আহাদ প্রমান করেছেন এই ৩টি বিশ্বাস সত্য নয়, বিজ্ঞান ভিত্তিক নয়। তিনি আরও যুক্তি দেখান, সৃষ্টিকর্তা বা আল্লাহকে বিশ্বাস যে বিজ্ঞান না, তেমনি হেকেলের বিশ্বাস (থিওরী) বিজ্ঞান না, তাই হেকেলের থিওরী ভুল।
০৬.) ‘ডারউইনিয়ান ট্রি’ হলো কিভাবে একটি আদি এককোষী জীব হইতে পৃথিবীর সমস্ত জীব বিবর্তনের মাধ্যমে উৎপত্তি লাভ করে গাছের ডাল-পালার মতো শাখা- প্রশাখা বিস্তার লাভ করেছে তার পুরা চিত্র অর্থাৎ ডারউইনের বিবর্তনের পুরাচিত্র (চিত্র-৪)। হেকেলের বায়োজেনেটিক ‘ল’ (Biogenetic law/ Recapitulation theory) উপর ভিত্তি করে হেকেল সর্বপ্রথম ‘ডারউইনিয়ান ট্রি’ ছবি আঁকেন, যেহেতু হেকেলের থিওরীর বাতিল, সেহেতু হেকেলের আঁকা ‘ডারউইনিয়ান ট্রি’ও বাতিল অর্থাৎ ডারউইনের পুরো বিবর্তনের ধারনা বাতিল।


০৭.) হেকেলের থিওরী, ডারউইনের থিওরীকে ভ্রুণবিদ্যা ঘটিত জোরালো প্রমাণ দেয়। যেহেতু হেকেলের থিওরী বাতিল, সেহেতু ডারউইনের থিওরীর ভ্রুণবিদ্যা ঘটিত প্রমাণও বাতিল।
০৮.) হেকেলের থিওরীর ভূল প্রমাণিত হওয়ায় বর্তমানে আমেরিকায় যে সমস্ত জীববিজ্ঞান ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের নতুন প্রকাশিত হচ্ছে, সেই সকল বই হইতে প্রকাশকগণ হেকেলের আঁকা ছবি ও তাঁর থিওরী ঐ সমস্ত বই হতে বাদ দিচ্ছেন।

উল্লেখ্য, কোন থিওরী দেওয়ার সময় বিজ্ঞানীরা একটি বিশ্বাস/অনুমান/ধারনা (Assumption) উপর ভিত্তি করে দেন। পরে ঐ বিশ্বাস বহু পর্যবেক্ষণের পর সত্য প্রমাণিত হইলে থিওরীতে পরিণত হয়। ঐ থিওরী আরও অধিকতর প্রমাণ ও পর্যবেক্ষণের উপর ভিত্তি করে ‘Law’ বা আইনে পরিণত হয়। হেকেলের বিশ্বাস/অনুমান/ধারনা-ও অধিক প্রমাণ ও পর্যবেক্ষণের উপর ভিত্তি করে প্রথমে থিওরী (রিক্যাসিচুলেশন থিওরী) এরপর Law-তে পরিণত হয়েছে। এই Law বাতিল ঘোষণায় প্রমাণিত হয় যে, বিবর্তনের থিওরীগুলো তার প্রমাণগুলো কত দূর্বল ভিত্তির উপরে প্রতিষ্ঠিত।

প্রবন্ধটির শিরোনাম (Embryological evidences opposite to Darwin’s theory: Biogenetic law (Recapitulation theory) and Haeckel’s evolutionary tree is not valid) underline অংশটুকু দিয়ে গুগল সার্চ দিলে অথবা নিম্নোক্ত ওয়েবসাইটগুলোতে www.academia.edu এবং www.researchgate.net ক্লিক করলে প্রবন্ধটি পাওয়া যাবে।

(Visited 431 times, 1 visits today)