উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ থাকা নিয়োগের বিপরীতে লেকচারার পদে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ বাকৃবিতে

মো. আব্দুর রহমান:
উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ থাকা নিয়োগের বিপরীতে লেকচারার পদে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত করেছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ। বিশ্ববিদ্যালয়টির মেডিসিন বিভাগে লেকচারার নিয়োগের জন্য ২টি পদের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় গত ২৯ নভেম্বর, ২০১৯ তারিখে দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় যার একটি পদের বিপরীতে নিয়োগে (বাছাই সিদ্ধান্তে) উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ রয়েছে।

জানা যায়, ২০১৩ সালের ৪ সেপ্টেম্বর, মেডিসিন বিভাগের বাছাই কমিটি কর্তৃক লেকচারার পদে নিয়োগ পান মোস্তাফিজুর রহমান সুমন (মেধা স্থান ৪র্থ)। বাছাই কমিটিতে ছিলেন তৎকালীন উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রফিকুল হক, ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোঃ গোলাম শাহি আলম, সিন্ডিকেট মনোনিত বিশেষজ্ঞ সদস্য প্রফেসর মো. মোস্তাফিজুর রহমান, বিভাগীয় বিশেষজ্ঞ সদস্য প্রফেসর ড. মোজাহিদ উদ্দিন আহমেদ, বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. এ. কে. এম. আনিসুর রহমান এবং বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার জনাব মো. আব্দুল খালেক।

২০১৩ সালের ১০ অক্টোবর, লেকচারার পদে নিয়োগ না পাওয়া মো. মাহফুজুর রহমান (মেধা স্থান ৩য়) বাদী হয়ে উচ্চ আদালতে মামলা দায়ের করেন (রিট পিটিশন নং ৯৯৪১)। রিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচারার পদে নিয়োগের প্রথম ৭% শর্ত ভঙ্গ এবং মেধাক্রম রহিত করে নিয়োগ হয়েছে মর্মে নিয়োগ প্রক্রিয়া ২মাসের জন্য স্থগিতাদেশ দেন উচ্চ আদালত যা পরবর্তীতে বর্ধিত করা হয়। উচ্চ আদালতে এ মামলার স্থগিতাদেশ দেন বিচারপতি কাজী রেজা-উল-হক ও বিচারপতি এবিএম আলতাফ হোসেন। এ মামলার স্থগিতাদেশের কারনে বাছাই কমিটির সিদ্ধান্তটি সিন্ডিকেটে গড়ায়নি ফলে প্রার্থীর নিয়োগ চুড়ান্ত হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোন প্রকার পদক্ষেপ না নেওয়ায় মামলাটি আজ অবধি ঝুলে আছে এবং নতুন করে কাউকে ঐ বিভাগে নিয়োগ দেওয়া হয়নি।

জানা যায়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে লেকচারার পদে নিয়োগের জন্য মেধা স্থান (মেরিট পজিশন) ৭% এর মধ্যে থাকা বাঞ্চণীয়। সেক্ষেত্রে মেরিট পজিশন ৬ দশমিক (ভগ্নাংশ) হলেও ৭% বলে গন্য করা হয়। এ শর্তে অনেক প্রার্থী নিয়োগ পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। সেই প্রচলিত নিয়মে লেকচারার পদে নিয়োগ পান মোস্তাফিজুর রহমান সুমন।

২৯ নভেম্বর, ২০১৯ তারিখে মেডিসিন বিভাগে লেকচারার পদে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলে রিটকারী মো. মাহফুজুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়কে নোটিশ (অবহিত পত্র) প্রেরণ করেন। পাশাপাশি নতুন এ বিজ্ঞপ্তীতে প্রার্থী হিসেবে আবেদন করেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন উপদেষ্টা কফিল উদ্দিন মাহমুদ (সিনিয়র এডভোকেট, জর্জ কোর্ট, ময়মনসিংহ) বলেন, যেহেতু সেই সময়ের নিয়োগের উপর উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ ছিল যা নতুন করে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিয়োগের উপর কার্যকর হবে না।

চুড়ান্ত বাছইকৃত প্রার্থীর নিয়োগটি অসম্পূর্ণ থাকায় পদটি শুন্য বলে বিবেচিত হবে কিনা তা নিয়ে যথাযথ আইনি ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না কতৃপক্ষের নিকট। মামলা বিচারাধীন অবস্থায় এভাবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ঔ পদের বিপরীতে কাউকে নিয়োগ দিতে পারে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। এছাড়া নতুন বিজ্ঞপ্তীতে মামলার বাদী নতুন করে আবেদন করতে পারেন কি না তাও প্রশ্ন তোলেন অনেক শিক্ষক।

নিয়োগ যেহেতু পদের বিপরীতে হয় তাহলে বিচারাধীন মামলায় ঝুলে থাকা নিয়োগের পদটি শূন্য হিসেবে বিবেচিত হবে কিনা তা জানতে চাইলে কফিল উদ্দিন মাহমুদ বলেন, বিষয়টি ভালভাবে বুঝে বিশ্ববিদ্যালয়কে পরে মতামত দিব।

(Visited 1,246 times, 1 visits today)