বাংলাদেশ অপরাজিত বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন

স্পোর্টস ডেস্ক:

শিরোপায় চোখ রেখে দক্ষিণ আফ্রিকা গিয়েছিল বাংলাদেশ। শিরোপা নিয়েই ঘরে ফিরছে বাংলাদেশ। ক্রিকেট বিশ্ব অপলক দৃষ্টিতে যুব বিশ্বকাপের নতুন চ্যাম্পিয়নদের দেখছে।

‘স্বপ্ন দেখলে বড় করে দেখো। সেটাই তোমাকে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত করবে।’ জার্মান কবি ও দার্শনিক জোহান গথে বলেছিলেন এ কথা। বাংলাদেশ দলের ড্রেসিংরুমের প্রত্যেক লকারে লকারে যেন টাঙানো মহান এ উক্তি। আর তাতেই অনুপ্রাণিত গোটা দল। তাইতো দুই বছরের অক্লান্ত পরিশ্রমে, শত পথ পেরিয়ে, শত বাধা ডিঙিয়ে বাংলাদেশ পেল শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট।

পচেফস্ট্রুমে বিজয়ের কেতন উড়িয়েছে বাংলাদেশ। একেবারে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন। বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে কোনো দল বাংলাদেশের সামনে বাধা হতে পারেনি।

ফাইনালের মঞ্চ যেন সকাল থেকেই প্রস্তুত ছিল। টস জয়ের মধ্য দিয়ে শুরু হয় আনুষ্ঠানিকতা। বোলিং নিয়ে ভারতকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে ১৭৭ রানে আটকে দেয় বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংস শেষেই জয়ের সুবাস আসতে থাকে ড্রেসিংরুমে। তবে ভারত তো ছেড়ে দেওয়া দল নয়। চেষ্টা চালাল, লড়াই করল শিরোপা ছুঁয়ে দেখতে। কিন্তু পারল না।

আকবরের দৃঢ় মনোবল ও একনিষ্ঠ প্রচেষ্টায় জয়ের সুখস্মৃতি পেল বাংলাদেশ। বৃষ্টিতে লক্ষ্য নেমে আসে ১৭০ রানে। ৩ উইকেট হাতে রেখে ২৭ বল আগে জয় নিশ্চিত করে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

শেষ এক বছরে এ নিয়ে তৃতীয় ফাইনালে মুখোমুখি দুই দল। দুই দলই প্রতিপক্ষের আগাগোড়া সব জানা। তাইতো ফাইনালটা হলো হাড্ডাহাড্ডি। সবশেষ এশিয়া কাপের মঞ্চ ফিরিয়ে এনেছিল আকবররা। সেবার ভারতকে ১০৬ রানে গুটিয়েও শিরোপা জেতা হয়নি। হয়তো বড় কিছু তোলা ছিল বাংলাদেশের! তাইতো এবার ১৭৭ রানে আটকে বাংলাদেশ পেল শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট।

এর আগে চারবার ভারত যুব বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে। ফাইনালের অলিগলি অনেকটাই চেনা তাদের। বাংলাদেশের জন্য একেবারেই নতুন মঞ্চ। কিন্তু শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এক মুহূর্ত বিচলিত হয়নি দলটি। বরং ভারতকে নাড়িয়ে দিয়ে তাদের মনোবল নষ্ট করেছে।

পেসার অভিষেক গতিতে যেমন ঝড় তুলেছিলেন, চোখে চোখ রেখে ব্যাটসম্যানকে ভড়কে দিয়েছেন। তাতে শুরুতেই মিলেছে সাফল্য। সাক্সেনা ২ রানে ফেরেন সাজঘরে। ওই ধাক্কায় ভারতের ব্যাটিং হয়ে যায় মন্থর। ১০ ওভারে রান মাত্র ২৩। তবুও আশা দেখাচ্ছিল জয়সওয়াল ও তিলকা ভার্মা। ৯৪ রানের জুটিতে তারা প্রতিরোধ গড়েন।

কিন্তু বাংলাদেশের বোলারদের তাদের থামানোর উত্তর জানা ছিল। পেসার সাকিবের বলে এগিয়ে এসে ডিপ পয়েন্ট দিয়ে উড়াতে গিয়ে সীমানায় শরীফুলের অসাধারণ ক্যাচে পরিণত হন ভার্মা (৩৮)। এরপর জয়সাওয়াল একাই দলকে টেনে নেন। মাঝে ৭ রানে ভারতের অধিনায়ককে সাজঘরের পথ দেখান প্রিয়াম দার্গ (৭)। সেমিফাইনালে সেঞ্চুরির স্বাদ পাওয়া জয়সাওয়াল আরেকটি মাইলফলকের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু তাকে হতাশ করেন শরীফুল। বাঁহাতি পেসারের শর্ট বলে মিড উইকেটে ক্যাচ দেন ৮৮ রানে।

জয়সাওয়েল উইকেটের পর রূপকথার মতো সময় কাটে বাংলাদেশের। ২১ রান তুলতেই ভারত অলআউট। এজন্য বাংলাদেশের বোলারদের করতে হয় মাত্র ৪৬ বল। বিপজ্জনক জয়সাওয়াল ১২০ বলে করেন ৮৮ রান। বাকিরা সবাই মিলে করেন ৮৯। সব মিলিয়ে ফাইনালের মঞ্চে ভারতের রান ১৭৭।

দুর্দান্ত ফিল্ডিং, নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ভারতকে ছন্নছড়া করে আকবর আলীর দল। অভিষেক দাস ৪০ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ছিলেন দলের সেরা বোলার। ২টি করে উইকেট পেয়েছেন শরীফুল ও সাকিব। স্পিনার রকিবুল পেয়েছেন ১ উইকেট। আরেকটি পরিসংখ্যান তো দেওয়াই যায়, ২৮২ বল করেছিল বাংলাদেশ যার ১৬৯ রানই ছিল ডট।

লক্ষ্য তাড়ায় বাংলাদেশের শুরুটা ছিল আক্রমণাত্মক। তানজিম ও ইমন ৫০ রানের জুটি গড়েন চোখের পলকে। কিন্তু লেগ স্পিনার রবি বিশ্বনই বল হাতে নেওয়ার পর সব ওলটপালট। ৫০ থেকে ৬৫ রানে যেতেই বাংলাদেশের ৪ ব্যাটসম্যান সাজঘরে। ৪টি উইকেটই পেয়েছেন লেগ স্পিনার।

কিন্তু টিকে ছিলেন আকবর। তার দৃঢ় মনোবলে আবার জয়ের রাস্তায় ফেরে বাংলাদেশ। তার ব্যাটেই আসে জয়। তাকে দারুণ সঙ্গ দেন ইমন। ৪৭ রান করা ইমন যখন সাজঘরে ফেরেন তখনও বাংলাদেশের লাগত ৩৫ রান। কিন্তু ক্যাপ্টেন কুল আকবর দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন। ৭৭ বলে ৪ চার ও ১ ছক্কায় সাজানো তার ৪৩ রানের ইনিংসটি নির্বাচিত হয় ম্যান অব দ্য ম্যাচ।

১৯৯৮ সালে প্লেট চ্যাম্পিয়ন দিয়ে শুরু বাংলাদেশের। ২০২০ সালে এসে মিলল কাঙ্ক্ষিত শিরোপা। এ শিরোপা শুধু শিরোপা নয়, এ শিরোপা ক্রিকেট বিশ্বকে দিচ্ছে এক বার্তা, ‘আসছে একঝাঁক ইয়ং টাইগার।’

(Visited 8 times, 1 visits today)