বাঁশ দিয়েই মাসে আয় ৪০ হাজার টাকা

ভোলার প্রতিনিধি:

ভোলার সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের মো. নজির মিয়া ও তার স্ত্রী জাহানারা বেগম বাঁশ দিয়ে বিভিন্ন জিনিস তৈরি করছেন। তারা বাঁশ দিয়ে সাজি, কুলা, চালনি, ডালি, খাঁচা তৈরি করে ভাগ্য পরিবর্তন করেছেন। তাদের সফলতা দেখে অন্য নারী-পুরুষও এ পেশায় আগ্রহী হচ্ছেন।

জাহানারা জানান, প্রায় ৩০ বছর আগে গরিব কৃষক নজির মিয়ার সাথে বিয়ে হয় তার। বিয়ের ৫ মাস পর তার স্বামীকে সাথে নিয়ে বাঁশ দিয়ে বিভিন্ন জিনিস তৈরি করতে শুরু করেন। প্রথম দিকে এসব জিনিস তার স্বামী ভোলার বিভিন্ন হাট-বাজারে বিক্রি করতেন। এখন আর তাদের হাট-বাজারে যেতে হয় না। পাইকার ও খুরচা ক্রেতারা বাড়ি থেকে কিনে নিয়ে যান।

তিনি আরও জানান, এসব জিনিস তৈরি করার পর থেকে তার স্বামী কৃষিকাজ ছেড়ে দিয়েছেন। প্রতি পিস সাজি তৈরি করতে খরচ হয় ৫০-৬০ টাকা। বিক্রি করেন ৩০০-৪০০ টাকা। মুরগির খাঁচা তৈরি করতে ২৩-৪০ টাকা খরচ হয়। বিক্রি করেন ১৫০-২০০ টাকা। এসব বিক্রি করে তারা মাসে ৩০-৪০ হাজার টাকা আয় করছেন।

নজির মিয়া জানান, স্ত্রীর কথামতো কৃষি ছেড়ে এ পেশায় নিয়োজিত হন তিনি। এখন তারা অনেক ভালো আছেন। তিনি স্ত্রীর কাজে সহযোগিতা করেন। তারা দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে বিয়ে দিয়েছেন। তাদের সংসারে কোনো অভাব নেই। তাদের আয়ের একমাত্র উৎস এসব হস্তশিল্প।

স্থানীয় কামাল ও রহিমা বেগম জানান, বাঁশের তৈরি বিভিন্ন জিনিস বিক্রি করে নজির ও জাহানারার অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। তা দেখে তাদের কাছে গিয়ে শিখে এখন তারাও এসব জিনিস তৈরি করছেন। তারাও অনেক ভালো অবস্থানে রয়েছেন।

ভোলা উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্পের প্রশিক্ষণ সমন্বয়ক মো. আরিফ হোসেন বলেন, ‘আমরা ওই দম্পতির সাথে কথা বলেছি। তাদের নিয়ে আমরা কাজ করবো। এছাড়া প্রশিক্ষণের জন্য নারী-পুরুষের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। তারাই ভোলাসহ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

(Visited 19 times, 1 visits today)