ক্ষুদ্রতম ডাইনোসর পাখি

নিউজ ডেস্ক:

ওজন এক আউন্সেরও কম। লম্বায় মাত্র দুই ইঞ্চি। মানুষের হাতের তালুতে এটি স্বচ্ছন্দে নাচানাচি করতে পারবে। শরীরের তুলনায় এর ঠোঁট লক্ষণীয়ভাবে দীর্ঘ আর শতাধিক দাঁতের অধিকারী। চোখ রক্তবর্ণ ও ঝলমলে। যেন ঠিকরে আগুন বের হচ্ছে। দুই ডানায় ভর করে ওড়ায় ছিল খুবই দক্ষ। এ পাখিকে বলা হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে খুদে ডাইনোসর। বিজ্ঞানীরা এর নাম দিয়েছেন ‘অক্টুলুডেন্টাভিস খ্রৌংগ্রাইয়ে’। এর অর্থ চোখ-দাঁত বিশিষ্ট পাখি।

বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশ মিয়ানমারের বিভিন্ন বনে প্রায় ১০ কোটি বছর আগে এসব ডাইনোসর পাখির অবাধ বিচরণ ছিল। ২০১৬ সালে মিয়ানমারে এ প্রজাতির প্রাণীর একটি মাথার সুরক্ষিত ফসিলের সন্ধান পান বিজ্ঞানীরা। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকী নেচারে এটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।

এতে বলা হয়, এ ডাইনোসর পাখির হাড়ের সবচেয়ে বাইরের স্তর অত্যন্ত পাতলা। এমনকি হাড়ের গড়নও খুব ছিদ্রময়। প্রায় ৯০ শতাংশ ফাঁপা। এই বিশিষ্টতাই একে অনেক হালকা করেছে। এ কারণে এদের আকাশে ওড়ার ক্ষমতা অনেক বেশি ছিল বলেই মনে করছেন গবেষকরা। এর আকৃতি এতই ছোট যে, কয়েক ফোঁটা সমপরিমাণ গাছের রজন মাথায় পড়লে মৃত্যু ঘটত বলে বিজ্ঞানীদের ধারণা। ফুলের মধু খেয়েই এরা বাঁচত। ফসিল থেকে থ্রিডি প্রযুক্তিতে এর একটি ছবি তৈরি করা হয়েছে। এতে ডাইনোসর পাখির লম্বা চোয়াল, ধারালো ও তীক্ষষ্ট দাঁত নিখুঁতভাবে ফুটে উঠেছে।

গবেষক যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের লুই চিয়াপ্পা বলেন, এটি সম্পূর্ণ নতুন প্রজাতি। বেইজিংয়ের চীনা একাডেমি অব সায়েন্সেসের গবেষক জিংমা ও’কনোর ডাইনোসর নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণা করেছেন। তিনি বলেন, ‘এটি সত্যিই ক্ষুদ্র এবং অদ্ভুত। এ যাবতকালে সন্ধান পাওয়া বিশ্বের সবচেয়ে ছোট ডাইনোসর। এর আগে এমন সুরক্ষিত ফসিল আমার চোখে পড়েনি।

(Visited 16 times, 1 visits today)