সৌরবিদ্যুতে চলবে রাজুর নৌযান

হবিগঞ্জ সংবাদদাতা:
সৌরবিদ্যুৎ চালিত নৌযান আবিষ্কার করে চমকে দিয়েছেন কলেজছাত্র রাজু (১৮)। যা কোনো প্রকারের জ্বালানি ছাড়াই সৌরবিদ্যুতেই চলতে সক্ষম।

রাজু মিয়া হবিগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র। এ কলেজে ইলেট্রিক্যাল ওয়ার্কস এন্ড মেইনটেন্স বিভাগের লেখাপড়া করছে সে। সৌরবিদ্যুতের নানা ব্যবহার দেখে কৌতুহল জাগে হাওরের জেলা হবিগঞ্জের রাজুর মনেও। ভাবেন সৌরবিদ্যুৎ যেখানে এতো কাজে আসছে, সেখানে নৌযানও যদি সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে চালানো যায় মন্দ কি। সে ভাবনা থেকেই লেখাপড়ার পাশাপাশি আবিষ্কারের নেশায় লেগে যান রাজু মিয়া।

রাজুর প্রতি লক্ষ্যছিল তার কলেজ শিক্ষক ওয়াকিল আহমেদের। এ সময়ে তিনি অভিভাবকের মতো পাশে দাঁড়ান। দীর্ঘ প্রায় ৪ মাস যাবৎ চেষ্টার পর সৌরবিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রিত নৌযান আবিষ্কারে সফল হন তারা।

আলাপকালে কলেজ শিক্ষক ওয়াকিল আহমেদ বলেন, লেগে থাকলে যেকোনো বিষয়ে সফলতা নিয়ে আসা সম্ভব। এর প্রমাণ দিয়েছে রাজু। তার প্রতি লক্ষ্য রেখে কলেজের অন্য শিক্ষার্থীরাও গবেষণায় উদ্বুদ্ধ হচ্ছে।

রাজু হবিগঞ্জ সদর উপজেলার তেঘরিয়া গ্রামের বাসিন্দা। বাবা কদম আলী। রাজু মিয়া জানান, নদী মাতৃক আমাদের দেশ। নদীতে হাজার হাজার নৌযান চলাচল করছে। এসব নৌযানের জ্বালানি হিসাবে ব্যবহার করা হয় তেল-ডিজেল। যা নদীর পানিতে যুক্ত হয়ে পরিবেশ দূষণ করছে। পরিবেশকে দূষণের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য বিশ্ব নেতারা কাজ করে যাচ্ছেন। তাই আমিও ক্ষুদ্র প্রয়াস নিয়ে পরিবেশ বান্ধব সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহার করে নৌযান চালাবার কথা চিন্তা করি। এক পর্যায় এসে সফল হলাম। এনিয়ে আরও গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছি।

রাজু বলেন, ‘সৌর বিদ্যুৎ প্রথমে চার্জ কন্ট্রোলারের মাধ্যমে ব্যাটারিতে চার্জ দেই। পরে ব্যাটারি থেকে বা সোলার থেকে নৌযানটি চালাতে সক্ষম হই। এই নৌযানটি নদীর পাড় থেকেও মাইক্রোকন্ট্রোলারের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

রাজু নৌযানটি তৈরি করতে তার কলেজ শিক্ষক ওয়াকিল আহমেদ সহযোগীতা করেছেন বলে এ শিক্ষকের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানান।

প্রসঙ্গত, সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহার করে নৌযান চালানোর পদ্ধতি আবিস্কার করায় হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলায় করায় রাজুকে প্রথম পুরস্কার দেওয়া হয়। হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক সাবিনা আলম তার হাতে এ পুরস্কার তুলে দেন।

Comments

comments