সমাবর্তন উপলক্ষে বর্ণিল সাজে সেজেছে বাকৃবি

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) সপ্তম সমাবর্তন আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। আর এ সমাবর্তনকে সামনে রেখে নানান সাজে সেজেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ ক্যাম্পাস। উৎসবের আমেজ বিরাজ করেছে ক্যাম্পাস জুড়ে। পুরো ক্যাম্পাসকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে অলঙ্কিৃত করা হচ্ছে। পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থার দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ সমাবর্তনে উপস্থিত থাকার সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আলী আকবর।

এই সমাবর্তনে স্নাতক (জানুয়ারি-জুন/২০১৩ থেকে জানুয়ারি-জুন/২০১৪) এর ১ হাজার ৯১৯ জন, এম.এস (জানুয়ারি-জুন/২০১৪) এর ২ হাজার ৮৫১ জন এবং পিএইচডি (২০১১ থেকে ২০১৪) এর ৩৮ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করতে পারবেন। এছাড়া ৬ষ্ঠ সমাবর্তনের পর থেকে যাদের সনদ দেওয়া হয়নি এমন ৪ হাজার ৮০৮ জন শিক্ষার্থীকে মূল সনদ দেওয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে সপ্তম সমাবর্তন। এবারের সমাবর্তনে সভাপতিত্ব করবেন রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য মো.আবদুল হামিদ। এ অনুষ্ঠানে বরণ করে নেওয়া হবে ৮৮৬ জন গ্রাজুয়েটকে।

Con6এ বছর সমাবর্তন বক্তা হিসাবে থাকবেন বাংলাদেশের খ্যাতনামা প্রকৌশলী, গবেষক, শিক্ষাবিদ, তথ্যপ্রযুক্তিবিদ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিককের উপাচার্য প্রফেসর ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী। এছাড়াও আরও উপস্থিত থাকবেন ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়্যারম্যান অধ্যাপক আব্দুল মান্নান প্রমুখ।

সমাবর্তনে অংশ নেওয়া গ্রাজুয়েটরা আগামী ২১ ও ২২ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিউট অব এগ্রিবিজনেস এন্ড ডেভেলাপমেন্ট স্টাডিজ ভবন থেকে তাদের গাউন সংগ্রহ করতে পারবেন।

বহুল প্রতীক্ষিত এ সমাবর্তনকে ঘিরে উৎসবের হাওয়া বইছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল সদস্যদের মাঝে। শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিশ্ববিদ্যালয় আবাসিক এলাকায় বসবাসরত সকলের মনেই আনন্দ।

সমাবর্তনকে সামনে রেখে নতুন সাজে সাজানো হচ্ছে ক্যাম্পাস। ক্যাম্পাসের আকর্ষণীয় স্থাপনা, গুরুত্বপূর্ণ ভবন, রাস্তাঘাটসহ পুরো ক্যাম্পাস জুড়ে লেগেছে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার ছোঁয়া।

অন্যদিকে সমাবর্তন অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। বিশ্ববিদ্যালয়ের রাস্তাঘাট, সমাবেশস্থল ছাড়াও আশপাশের চারপাশে তৈরি করা হচ্ছে নিরাপত্তা বলয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আলী আকবর বলেন, বিভিন্ন প্রতিকূলতা পেরিয়ে সমাবর্তন আয়োজন করতে পেরে নিজেকে গর্বিত মনে করছি। দেশের কৃষি উন্নয়নে ঈপ্সিত গতি সঞ্চারের লক্ষ্যে সার্বিক নেতৃত্বদানে সমর্থ দক্ষ কৃষিবিদ, শিক্ষক, গবেষক ও ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ তৈরি করা আমাদের অন্যতম প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আগামীর দিনগুলোতে এদেশের কৃষি উন্নয়ন ও গ্রামীণ দারিদ্র বিমোচনে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তীর্ণ গ্রাজুয়েটগন অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ.কে.এম জাকির হোসেন বলেন, সমাবর্তন অনুষ্ঠান নির্বিঘ্ন করতে ক্যাম্পাসের প্রধান ফটক, পাশাপাশি বহিরাগতদের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সমাবর্তন নির্বিঘ্ন করার লক্ষ্যে আমরা ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছি। এ ছাড়াও সমাবর্তনকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, রেলওয়ে সড়ক ও জনপদ বিভাগসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হয়েছে। আশা করছি, ভালোভাবেই সম্পন্ন করতে পারব এ সমাবর্তন।

উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০১১ সালের ৮ মার্চ বাকৃবিতে ষষ্ঠ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান সে সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

Comments

comments