কৃষিতে শামুক আতংক

মো. আব্দুর রহমান, বাকৃবি:

শামুককে বলা হয় প্রাকৃতিক ফিল্টার। শামুক পরিবেশের বিশেষ বন্ধু হিসেবে পরিগণিত। শামুক মরে গিয়ে তার মাংস ও খোলস পঁচে জমির মাটিতে প্রাকৃতিকভাবে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও পটাশ তৈরি করে। ফলে জমির ঊর্বরতা বৃদ্ধিসহ ধানগাছের শিকড় মজবুত ও ফসল অধিক হতে সাহায্য করে। শামুক নিরীহ জলজ প্রাণী হওয়ায় সহজেই একে কুড়িয়ে নেওয়া যায়।

সাধারণত শামুকের তেমন কোনো ক্ষতিকর প্রভাব চোখে পড়ে না। ধানের জমিতে শামুকের ডিম খেয়ে ইঁদুর তার পেটপূর্তি করায় ধান নষ্ট করা থেকে বিরত থাকে। প্রাকৃতিক ও দেশীয় মাছের প্রধান খাদ্য হচ্ছে শামুকের ডিম ও মাংস। বিশেষ করে কৈ, শিং, মাগুর, ট্যাংরা, টাকি, শোল মাছের ডিম থেকে সদ্যোজাত পোনার একমাত্র খাদ্য হচ্ছে শামুকের নরম ডিম। আর এ খাবার না পেলে ওই পোনা মারা যায়। শামুকের খোলসের ভেতরের নরম অংশ চিংড়িসহ বিভিন্ন মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার হওয়াতে দক্ষিণাঞ্চলের ঘের মালিকেরা শামুক কিনে নিয়ে যায়।

কিন্তু সম্প্রতি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) নিরীহ এ প্রাণিটি প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে। বিচিত্র নতুন প্রজাতির এ শামুকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। শুধু ছড়িয়েই পড়েনি, হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি ব্যবস্থাকে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের বাগান মালিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিবছর শীতকে সামনে রেখে হলের সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য বিভিন্ন রকম ফুলের গাছ রোপন করেন তারা। কিন্তু ঐ শামুক এবছর এই শামুক গাদা, জিনিয়া, সিলভিয়, বাগানবিলাস, ক্যাকটাসসহ বিভিন্ন গাছের কচি পাতা খেয়ে ফেলছে। কোনো গাছই কোনোভাবে টেকানো যাচ্ছে না। এমনকি হলের নোটিশ বোর্ডে টানানো কাগজও খেয়ে ফেলছে। আর একবার কোনে গাছ আক্রমণের শিকার হলে সে গাছকে বাঁচানো যাচ্ছে না।

শামুকটি সম্পর্কে ভেটেরিনারি অনুষদেপ্যারাসাইটোলজি বিভাগের প্রফেসর ড. আবদুল আলীম জানান, এটি হচ্ছে আফ্রিকান জায়ান্ট ল্যান্ড স্নেইল। বিদেশিদের আগমনের সময় এটি হয়তো আমাদের দেশে এসে থাকবে। আমাদের দেশীয় যে শামুক আছে সেটি উপকারী এবং তারা স্থলভূমিতে উঠে আসে না, বরং পানিতেই থাকে। কিন্তু এটি গাছপালা, লতাপাতা, ফলমূল খেয়ে ধ্বংস করে। এমনকি দিনের বেলা অনেক গাছের যেমন-পেঁপে মাথায় উঠে গাছের পাতা খেয়ে গাছ ধ্বংস করে। যা আমাদের দেশের কৃষির জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ।

তিনি আরও বলেন, এর মাংস খুবই শক্ত বিধায় পশু-পাখিরাও খায় না।এরা ফসলের জন্য খুব ক্ষতিকর। বাগান নষ্ট করে ফেলে। সন্ধ্যা হলেই ঝাঁকে ঝাঁকে বের হয়ে আসে। আর দিনের বেলা অত্যাধিক সূর্যালোক থেকে বাঁচতে লুকিয়ে থাকে। অতি বৃষ্টির সময় এরা দালানের দেয়াল বেয়ে উপরে উঠে আশ্রয় নেয়।

ড. আলীম বলেন, ক্ষতিকর শামুকের এ প্রজাতিটি নির্মূলের জন্য এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে এবং যেভাবেই হোক এর প্রজনন ও বৃদ্ধি প্রক্রিয়া নষ্ট করতে হবে। অন্যথায় এটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়বে। ফলে দেশের গোটা কৃষি ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়বে।

Comments

comments