পশুপালনে পড়াশুনা ও চাকরি

মো. আব্দুল ওয়াহাব, বাকৃবি:
বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে কৃষির অবদান অনস্বীকার্য। আর এই কৃষি খাতের একটি অন্যতম অংশ হচ্ছে প্রাণী সম্পদ। মূলত এই প্রাণী সম্পদকে নিয়েই শিক্ষা কার্যক্রম ও গবেষনা পরিচালনা করে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) পশুপালন অনুষদ। পশুপালন অনুষদ বাকৃবির একটি জ্যোষ্ঠ অনুষদ। ১৯৬২ সাল থেকে শুরু করে অদ্যাবধি পর্যন্ত এই অনুষদ তার শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং গড়ে তুলছে দক্ষ কৃষিবিদ। তবে দেশে পশুপালন গ্রাজুটের চাহিদার কথা চিন্তা করে সম্প্রতি পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে এই অনুষদ খুলা হয়েছে।

শিক্ষা কার্যক্রম:
দেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার আমিষের চাহিদা পূরনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে পশুপালন (অ্যানিমেল হাজবেন্ড্রি) অনুষদীয় স্নাতকেরা। পশুর প্রজনন, খাদ্য, কৌলিন তত্ত্ব ও পশুর বৈঙ্গানিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে পরিচালিত হয় পশুপালন অনুষদীয় শিক্ষা কার্যক্রম। এই অনুষদীয় শিক্ষা কার্যক্রম ৫টি বিভাগের (পশু বিজ্ঞান, ডেইরি বিজ্ঞান, পোল্ট্রি বিজ্ঞান, পশু-পুষ্টি বিজ্ঞান, পশু প্রজনন ও কৌলিন তত্ব) অধীনে পরিচালিত হয়। প্রত্যেক বিভাগের রয়েছে নিজস্ব গবেষনাগার ও খামার যেখানে তত্ত্বীয় ক্লাসের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের হাতে কলমে শিক্ষা দেওয়া হয়। একাডেমিক সময় কাল ৪বছর ৬ মাস, এর মধ্যে শেষ ৬ মাস শিক্ষার্থীদের ব্যাবহারিক ঞ্জান বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন ব্যাবসায়িক খামার ও ইন্ড্রাস্ট্রিতে ইন্টার্নশিপে পাঠানো হয়।

চাকরি:
পশুপালন বিষয়ে পড়ে কি করবে শিক্ষার্থীরা? তাদের চাকুরি প্রাপ্তির নিশ্চয়তা কতখানি? এই বিষয় নিয়ে পশুপালন অনুষদের ডীন প্রফেসর ড.সচ্চিনানন্দ দাস চেীধুরি বলেন, পশুপালন অনুষদীয় শিক্ষার্থীদের চাকরির ক্ষেত্র অত্যন্ত বিস্তৃত। অন্যান্য সাধারণ বিষয়ের ডিগ্রীধারী গ্রাজুয়েটরা যেখানে চাকরির আবেদন করতে পারবে, পশুপালন অনুষদীয় গ্রাজুয়েটরাও সেখানে আবেদন করতে পারবে। কিন্তু এদের জন্য রয়েছে বিশেষ কিছু ক্ষেত্র, যেখানে সাধারণ বিষয়ের ডিগ্রীধারি গ্রাজুয়েটরা আবেদন করতে পারবে না।

প্রথমেই আসা যাক সরকারী চাকরির কথায়, বাংলাদেশ কর্ম কমিশনের (বিসিএস) পরীক্ষায় কৃষিবিদরা টেকনিক্যাল ও সাধারন উভয় ক্যাডারে আবেদনের সুযোগ পাওয়ায় দেশের সর্ব ক্ষেত্রে যোগ দিতে পারবেন। তাছাড়া কৃষি ব্যংক গুলাতে অগ্রাধিকারসহ দেশের সরকারি ও বেসরকারি ব্যংকে চাকরি করছেন হাজবেন্ড্রিয়ানরা।

স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান গুলোর মধ্যে আছে, মিল্ক ভিটা, বাংলাদেশ প্রাণী সম্পদ গবেষনা কেন্দ্র (BLRI), সাভারে বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় গো প্রজনন কেন্দ্র, সিলেটের ছাগল প্রজনন কেন্দ্র, বাগের হাটের মহিষ প্রজনন কেন্দ্র, কক্রবাজারের হরিণ প্রজনন কেন্দ্রসহ বিভিন্ন পশু-প্রজনন কেন্দ্রে চাকরি করছে পশুপালন স্নাতকরা। বিভিন্ন চিড়িয়াখানায় ক্যাডারে কিউরেটর এবং নন-ক্যাডারে জ্যু অফিসার হিসেবে চাকরি করতে পারেন এই বিভাগের শিক্ষাত্রীরা।

প্রাইভেট চাকরি সম্পর্কে পশু-পুষ্টি বিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-মামুন বলেন, দেশে পশুপালন অনুষদের গ্রাজুয়েটদের চাহিদা অনেক। প্রতি বছর যে পরিমান গ্রাজুয়েট বের হয় তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। পোল্ট্রি, ডেইরি,ও বিভিন্ন প্রজনন খামার গুলিতে বৈঙ্গানিক কর্মকর্তা ও ব্যাবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় পশুপালন থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের। গবাদি পশু ও পোর্ল্টির খাদ্য উৎপাদনকারী এবং ডেইরি পণ্য উৎপাদনকারী (দুধ, দই, মিষ্টি, বরফ, ঘি, মাখন, পনির ইত্যাদি) কোম্পানি গুলোতে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। প্রাইভেট কোম্পানিগুলার মধ্যে আড়ং ডেইরি, কাজী ফার্মস, ফার্ম প্রেশ, প্রাণ, প্যারাগন, আফতাব বহুমুখী ফার্ম, অ্যাংকর, সিপি ফুড উল্লেখযোগ্য।

দেশে পশুপালন অনুষদীয় গ্রাজুয়েট কম থাকায়, কোম্পানি গুলাতে যেকোন সময় ভাল বেতনের (শিক্ষানবীশ অবস্থায় প্রায় ২৫-৩০ হাজার টাকা) চাকরিতে যোগ দিতে পারে। শেষে তিনি বলেন, মোট কথা সুন্দর ক্যারিয়ারের জন্য এই অনুষদের শিক্ষার্থীদের কোন চিন্তা করতে হয় না।

Comments

comments