প্রাণের উৎপত্তি অ্যামোনিয়া, মিথেন গ্যাস বা পানি হতে হয়নি, রাশিয়ান বিজ্ঞানী ওপারিনের থিওরী ভুল!

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:
হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, দিনাজপুর এর প্রফেসর ড. আব্দুল আহাদ এর নতুন আবিস্কার: জীবনের উৎপত্তি মিথেন গ্যাস, অ্যামোনিয়া ও পানি হতে হয়নি, রাশিয়ান বিজ্ঞানী ওপারিনের থিওরী ভুল; সৃষ্টিকর্তাই জীবন সৃষ্টি করেছেন।

তার প্রবন্ধটি ২০১৬ সালে ফ্রান্স থেকে ‘Martinia Journal, Vol.7, No.4.pp.1-19, 2016 (Thomson Reuters Impact factor-.87), সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। প্রবন্ধটির শিরোনাম ‘Invalid Oparin-Haldane’s theory (the soup theory) and all other theories about the origin of life———-), প্রবন্ধটির ২০১১ সালে কলকভতা/ ভারত থেকে প্রকাশিত International journal of bio-resource and Stress Management, Vol.2, No.1,pp.5-9. সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে ‘Evolution of first life without Oparin (primordial soup) theory of evolution’ শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছে ।

১৯২৪ সালে রাশিয়ান বিজ্ঞানী এ. আই. ওপারিন জীবনের উৎপত্তি সম্পর্কে থিওরী দেন যে, আদি পৃথিবীর সাগর উত্তপ্ত ছিল (১০০০ সি.)। আদি পৃথিবীতে মিথেন গ্যাস, অ্যামোনিয়া ও পানি মিলে আদি সাগরে প্রচুর ঘন অ্যামোইনো এসিড উৎপত্তি হয়, যা মুরগীর স্যুপ (Chicken Soup) নামে পরিচিত। এই স্যুপ হইতে হইতে প্রোটিন এবং পর্যায়ক্রমে একটি আনুবীক্ষনিক এককোষী ব্যাকটটেরিয়া জাতীয় প্রাণীর উৎপত্তি ঘটে। উল্লেখ্য যে, আদি পৃথিবীতে অক্সিজেন না থাকায় এই স্যুপ-এর পচন নিরোধ করে। সেই এককোষী জীব হইতে মানুষ সহ পৃথিবী সমস্ত প্রাণীর উৎপত্তি লাভ করেছে এবং বস্তুবাদ জন্ম লাভ করে। এই জন্য ওপারিনকে বিংশ শতাব্দীর ডারউইন বলা হয়। ১৯২৯ সালে বৃটিশ বিজ্ঞানী জে. বি. এস. হ্যালডেন জীবনের উৎপত্তি সম্পর্কে একই মতবাদ দেন। ফলে, ওপারিনের থিওরী, ওপারিন-হ্যালডেন থিওরী নামেও পরিচিত।

ড. মোঃ আব্দুল আহাদ আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের ৮৫টি জার্নাল যা পৃথিবীর বড় বড় জার্নাল যেন ন্যাচার, সাইন্স প্রভৃতিতে প্রকাশিত) ১৯ পৃষ্ঠার প্রবন্ধে আমেরিকান বিজ্ঞানীর ও বইয়ের সর্বাধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন ধরনের তথ্য দ্বারা (ছবিসহ) প্রমাণ করেছেন যে, বিজ্ঞানী ওপারিনের থিওরী আদৌ সঠিক না। তার যুক্তিগুলো অতি সংক্ষিপ্তভাবে নিম্নে তুলে ধরা হল-

Life5

প্রফেসর ড. মোঃ আব্দুল আহাদ নিম্ন উল্লেখিত যুক্তি দেখিয়েছেন:
১) সবচেয়ে সরলতম এককোষী আনুবীক্ষনিক ব্যাকটটেরিয়া ২৭টি মৌলিক পদার্থ দ্বারা গঠিত। একটি এককোষী জীব আপনা-আপনি উৎপত্তি হওয়া মানে পিনের আগার চেয়ে শততম সুক্ষ্মতম স্থানে ঐ ২৭টি মৌলিক একত্রিত সুনির্দিষ্ট রাসয়নিক বন্ড দ্বারা একত্রে আবদ্ধ হয়ে প্রোটিন, লিপিড, এনজাইম, ভিটামিন প্রভৃতি উৎপত্তি করতে হবে ও আরও সুনির্দিষ্ট পুণরায় রাসয়নিক বন্ড দ্বারা একত্রে আবদ্ধ হয়ে শক্তি উৎপাদনের জন্য ক্রেবচক্র, গ্লাই কোলাইসিস প্রভৃতি প্রক্রিয়া সক্রিয় হতে হইবে। যা আপনা-আপনি হওয়া মান ছাপা খাতা হইতে শত শত ডিকশনারী বের হয়ে আসার মতোই।

২) ওপারিন ধারণা করেছিলেন যে, আদি পৃথিবী অক্সিজেনবিহীন ছিল। কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞানের গবেষণায় দেখা যায় তা কোন সময়ই অক্সিজেনবিহীন ছিল না । ওপারিন ধারণা করেছিলেন পৃথিবী উত্তপ্ত ছিল এবং সাগরে প্রচুর ঘন অ্যামোইনো এসিড হইতে প্রোটিন ও পরে জীবের উৎপত্তি লাভ করে। আধুনিক বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করেছেন তাপ ও পানি উভয়ই অ্যামাইনো এসিড হইতে প্রোটিন তৈরিতে মারাত্মক বাধা সৃষ্টি করে। ফলে আদি পৃথিবীতে মুরগীর সুপ্যের কোনো অস্তিস্ত ছিল না।

৩) আধুনিক বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করেছেন অ্যামাইনো এসিড হইতে জীবের উৎপত্তি হয় না, অ্যামাইনো এসিড জীবের মুল উপাদান নয়; বরং নিউক্লিক এসিড বা ডিএনএ জীবের জীবনের মুল ভিত্তি; যা আপনা আপনি কোনোক্রমেই তৈরি হয় না।

৪) প্রকৃতিতে বা সাগরে ডানহাতি (Right-handed) ও বামহাতি (Left-handed) অ্যামাইনো এসিড সমান সংখ্যক দেখা যায়। কিন্তু জীবদেহে এর বিপরীত। জীবদেহ শুধুমাত্র বামহাতি অ্যামাইনো এসিড দ্বারা গঠিত। এতে সুস্পষ্ট প্রমাণ হয় যে, প্রকৃতিতে বিদমান বা আদি সাগরের অ্যামোনিয়া এসিড হতে কোনো ক্রমেই আদি এককোষী জীব তৈরি হয়নি; হলে জীবদেহ ডানহাতি ও বামহাতি অ্যামাইনো এসিড সমান সংখ্যক দেখা যেত।

৫) উল্লেখ্য যে, ১৯৫৩ ও ৫৫ সালে আমেরিকান বিজ্ঞানী স্টানলি মিলার পরীক্ষাগারে মিথেন, অ্যামোনিয়া ও পানি মিশ্রনে বৈদ্যুতিক স্পার্ক ঘটিয়ে অ্যামাইনো এসিড তৈরি করেন। তার এই পরীক্ষা ওপারিনের ধারণা একমাত্র সমর্থন ও প্রমাণ। ওরারিনের ধারণাকে থিওরীতে রূপান্তিত করেন।

ড. আব্দুল আহাদ যুক্তি দেখিয়েছেন যেহেতু মিলার ওপারিনের ধারণা যথা: আদি পৃথিবী উত্তপ্ত ও অক্সিজেনবিহীন ছিল এবং পানিতে জীব উৎপত্তি লাভ করেছে যা; তার এই ধারণা সঠিক মনে করে-মিলার অ্যামাইনো এসিড তৈরি করেছেন; যা আদৌ সঠিক না, তা একটু আগে প্রমানিত তাই তার পরীক্ষা বিফল, তার পরীক্ষা ওপারিনের থিওরীকে কোনো সমর্থন যোগায় না। এছাড়া স্টানলি মিলার শুধু মাত্র অ্যামোনো এসিড তৈরি করেছেন। জীবন শুধু অ্যামাইনো এসিড/প্রোটিন দিয়ে তৈরি না। তিনি এককোষী কোনোই অংশই তৈরি করেন নাই। এমনকি এ পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা একবিন্দু কার্বোহাইড্রেড বা শ্বেতসার জাতীয় পদার্থ তৈরি করতে ব্যর্থ।

৬) তিনি আরও যুক্তি দেখিয়েছেন। জীববিজ্ঞানের বায়োজেনেসিস ল, পদার্থবিজ্ঞানের থার্মোডিনামিস্ক ল্’ ও কসমোলোজির এ্যানথোপিক ল্’ প্রভৃতি ওপারিনের থিওরীকে সমর্থন করে না। তিনি সর্বশেষ বিভিন্ন যুক্তিতর্ক দিয়ে করেছেন প্রমাণ ওপারিন থিওরী “প্রিমিটিভ রসায়নের” একটি থিওরী জীব সৃষ্টিকর্তাই সৃষ্টি করেছেন।

৭) উল্লেখ্য যে, আমেরিকার নাসা (NASA), আমেরিকার নোবেল বিজয়ী ও ডিএনএ আবিস্কারক ওয়াটসন ও ক্রিক স্পিফিন হকিং প্রমুখ বিজ্ঞানীগণ ওপারিন এর থিওরী বিশ্বাস করেন না। এমনকি আধুনিক বিবর্তন বিজ্ঞানীর পিতা ডারউইনও বিশ্বাস করতেন, ডারউইনের : a) “I should infer from analogy that probably all the organic beings, which have ever lived on the earth, have descended from some primordial form, into which life was breathed by the creator” (Origin of Species, p.391). b) “There is grandeur in this view of life, with its several powers, having been originally breathed by the Creator into a few forms or into one” (Origin of Species, p.396).

২০১১ সালে ইন্ডিয়ার কোলকাতা থেকে প্রকাশিত প্রবন্ধটি হয় পড়ার জন্য এখানে click করুন।

Comments

comments