বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব না: সিপিডি

নিজস্ব প্রতিনিধি:
বাজেটে আয় ও ব্যয়ের যে লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে তা বাস্তবতার নিরিখে অর্জন করা সম্ভব হবে নয় বলে মনে করছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।

শুক্রবার সকালে রাজধানীর গুলশানে ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট প্রসঙ্গে মূল্যায়ন ও পর্যালোচনা তুলে ধরতে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সিপিডি। সংস্থাটির পক্ষে মূল্যায়ন তুলে ধরেন বিশেষ ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

বাজেটের সার্বিক মূল্যায়ন তুলে ধরে ড. দেবপ্রিয় বলেন, ‘আপনার যদি একটা লক্ষ্য থাকে, আর সেই লক্ষ্য যদি আপনি অর্জন করতে চান তাহলে আপনাকে তির চালাতে হবে এবং তার জন্য একটা ধনুক থাকতে হবে। আমাদের দেশে ধনুকটা হলো আয় আর তিরটা হলো ব্যয়। আমরা তির‍-ধনুকে সেই শক্তি দেখতে পাচ্ছি না। এই তির-ধনুক দিয়ে ওই লক্ষ্যভেদ করা যাবে বলে এখনো মনে করা যাচ্ছে না।’

‘আমি একটা অস্বস্তিমূলক স্বস্তির মধ্যে আছি’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘বাজেটে বিনিয়োগের যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে সেটা বাস্তবায়নে ব্যক্তিখাতে বাড়তি ৮০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। এই টাকা কোথা থেকে আসবে, ব্যাংক থেকে না পুজিঁবাজার থেকে এই বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট বক্তব্য নেই।’

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘প্রস্তাবিত বাজেটের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সঙ্গে আমরা একমত। কিন্তু এর আয় ও ব্যয়ের কাঠামোর মধ্যে সমস্যা রয়েছে। বাজেটে আয় ও ব্যয়ের যে লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে তার যৌক্তিকতা বাস্তবতার নিরিখে প্রশ্নবিদ্ধ।’

গত দু’বছরে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ কম ছিল- একথা উল্লেখ করে ড. দেবপ্রিয় বলেন, ‘প্রস্তাবিত বাজেটে ৭ দশমিক ২ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য সরকার বেসরকারি বিনিয়োগ যে পর্যায়ে উন্নীত করতে চায় তার জন্য এ খাত (বেসরকারি) থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকা বাড়তি বিনিয়োগ আসতে হবে। কিন্তু এই বিনিয়োগ কীভাবে আসবে সে বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট দিক-নির্দেশনা নেই।’

তিনি বলেন, ‘অনেক বড় বাজেট, তা আমরা বলব না। কারণ, অর্থনীতির সঙ্গে বাজেটের আকারও বাড়াতে হবে। কিন্তু বাজেটের আকার বাড়ানোর জন্য যে সক্ষমতার প্রয়োজন তাতে ঘাটতি আছে বলে আমরা মনে করি।’

এছাড়া বাজেট ঘাটতি পূরণে বৈদেশিক উৎস হতে অর্থায়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছে সিপিডি।

এ প্রসঙ্গে ড. দেবপ্রিয় বলেন, ‘প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতি মেটাতে অর্থমন্ত্রী চার বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক অর্থায়ন নেওয়ার কথা বলেছেন। কিন্তু এই পরিমাণ বৈদেশিক অর্থ ছাড় করার সক্ষমতা সরকারের আছে বলে আমরা মনে করি না।’

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, এডিপির অনেক প্রকল্প রয়েছে যার ৫০ শতাংশই সম্পন্ন হয়নি, যে প্রকল্পগুলো শেষ হবে বলা হচ্ছে সেগুলোতে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। ১৮টি প্রকল্পে মাত্র ১ লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, ২০টিতে মাত্র ১ কোটি টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মেগা প্রকল্পগুলোর মধ্যে পদ্মাসেতু ও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ছাড়া অন্যগুলোতে পর্যাপ্ত অর্থায়ন করা হয়নি।

তিনি বলেন, আর্থিক যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এটার ভেতরে করের হারে পরিবর্তন হচ্ছে না, কাঠামোতে এক ধরনের স্থিতিশীলতা আসছে। কর আহরণের পদ্ধতিগুলোতে এখন জোর দিতে হবে। কী পদ্ধতিতে কর আহরণ করা যায়, মানুষের কাছে কীভাবে পৌঁছানো যায় সেটাতে জোর দিতে হবে বলেও জানান ড. দেবপ্রিয়।

ভর্তুকির ক্ষেত্রে একটা একটা জাতীয় নীতিমালার দাবি করেন সিপিডির এই বিশেষ ফেলো।

সেসময় সিপিডির নির্বাহী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেমসহ সংস্থার অন্য গবেষকরা উপস্থিত ছিলেন।

Comments

comments