পাবনায় বেড়েছে সবজিতে কীটনাশক ব্যবহার

পাবনা প্রতিনিধি:
পাবনায় শীতকালীন সবজি চাষে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার করছে কৃষকরা। বছরের অন্য সময়ের তুলনায় শীত মৌসুমে কীটনাশক ব্যবহার বেড়ে যায় প্রায় দ্বিগুণ। এতে দিনে দিনে স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ছে ক্রেতা-ভোক্তাদের।

কৃষকদের দাবি, পোকার আক্রমণ থেকে সবজি রক্ষা করতেই কীটনাশক ব্যবহার করছেন তারা। কীটনাশকে উৎপাদিত সবজি মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর উল্লেখ করে কৃষক ও ভোক্তা পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। কৃষি বিভাগ বলছে, অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে কৃষকদের মাঝে সচেতনতা বাড়াতে কাজ করছে তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র ও কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, দেশে সবজি উৎপাদনে শীর্ষে রয়েছে পাবনা জেলা। দেশের চাহিদার প্রায় ২০ ভাগ যোগান আসে পাবনা জেলায় উৎপাদিত সবজি থেকে। পাবনায় উৎপাদন হয় ২৭ রকমের সবজি। এ বছর জেলায় সবজি আবাদ হয়েছে ২১ হাজার ৩৪০ হেক্টর জমিতে। আর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ লাখ ১৭ হাজার ৬২৩ মেট্রিক টন। আবহাওয়া ও মাটি সবজি চাষের উপযোগী হওয়ায় প্রতিবছর এ জেলায় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে সবজি চাষ। কিন্তু কৃষকরা ভালো ফলনের আশায় সবজি চাষে ব্যবহার করছেন অতিরিক্ত কীটনাশক। বিশেষ করে শীতকালীন সবজি শিম, বেগুন ও কপি চাষে ব্যবহার করা হচ্ছে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক।

ঈশ্বরদী উপজেলার আওতাপাড়া গ্রামের কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে এবং ভালো ফলন পাওয়ার আশায় তারা কীটনাশক ব্যবহার করছেন। পোকার আক্রমণ বেড়ে গেলে তারা দিনে দু’বারও কীটনাশক প্রয়োগ করছেন। সার-কীটনাশক ঠিকমতো ব্যবহার না করলে ফসলই পাওয়া যাবে না বলে দাবি তাদের।

আওতাপাড়া বাজারের কীটনাশক বিক্রেতা আরিফ হোসেন খান বলেন, বছরের অন্য সময়ের তুলনায় সেপ্টেম্বর থেকে তিন মাস সবজি চাষে কীটনাশক ব্যবহার বেড়ে যায় দ্বিগুণ। এ সময় কৃষকরা মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক প্রয়োগ করে সবজি উৎপাদনে। বছরের ৯ মাসে ২/৩ লাখ টাকার কীটনাশক বিক্রি হয়। আর শীতের বাকি তিন মাসে কীটনাশক বিক্রি হয় ৬ থেকে ৭ লাখ টাকার।

এ বিষয়ে পাবনার সিভিল সার্জন ডা. শহিদ মো. সাদিকুল ইসলাম বলেন, কীটনাশকে উৎপাদিত সবজি মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর। এসব সবজি খেলে ক্যান্সার হতে পারে, কিডনি ও লিভার ড্যামেজ, বিকলাঙ্গ শিশুর জন্মসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হতে পারে মানুষ। এ জন্য বাজার থেকে সবজি কিনে আনার পর পানিতে বেশকিছু সময় ভিজিয়ে রেখে রান্না করা উচিত। এ ছাড়া কৃষক ও ভোক্তাদের সচেতন করা প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খামারবাড়ি, পাবনার উপ-পরিচালক বিভূতিভূষণ সরকার বলেন, মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার থেকে দূরে থাকতে নানাভাবে কৃষকদের সচেতনতা বাড়াতে কাজ করছেন তারা। তাদের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা স্ব স্ব ব্লকে সচেতনতা বাড়াতে কাজ করছেন। উপজেলা ও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তারাও মাঠে গিয়ে কৃষকদের বলছেন- সবজি উৎপাদনে যতটা সম্ভব কম কীটনাশক ব্যবহার করতে। পাশাপাশি কৃষকদের সঙ্গে উঠান বৈঠক ও আইপিএম, আইসিএম কৃষক মাঠ স্কুলের মাধ্যমে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

এতে করে আগের তুলনায় সবজিতে কীটনাশকের ব্যবহার কমে আসছে বলেও দাবি করেন তিনি। কৃষকদের নিয়মিত মনিটরিং ও প্রণোদনার ব্যবস্থা করা গেলে ক্ষতিকর কীটনাশকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব বলে মনে করেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা।

  •  
  •  
  •  
  •  
ad0.3

Tags: