চর অঞ্চলে কৃষকের পানির ফেরিওয়ালা বিএডিসি

ইমরুল কায়েস মির্জা কিরণ, রংপুর:
ফেরিওয়ালা শব্দটির সাথে কম বেশি সবাই পরিচিত। সাধারণতঃ ফেরিওয়ালা বলতে আমাদের চোখে ভেসে ওঠে এক স্থান থেকে আর এক স্থানে ঘুরে ঘুরে খেলনা, ফলমূল, কাপড়-চোপড়, শাকসবজি ও অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি করা কোন ব্যক্তির কথা। তেমনি রংপুর অঞ্চলে তিস্তা নদীর জেগে ওঠা চরে চাষাবাদ করা কৃষকদের কাছে পানির ফেরিওয়ালা বলে পরিচিত বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)।

চর অঞ্চলে চাষাবাদের জন্য কৃষকদের নির্ভর করতে হতো ডিজেল চালিত সেচ পাম্পের উপর। এই পাম্পে সেচ খরচ অনেক বেশি হওয়ায় হাজার হাজার হেক্টর জমি ফাকা পড়ে থাকতো।

বিস্তীর্ণ এই চর অঞ্চলকে চাষের আওতায় নিয়ে আসার জন্য ‘রংপুর অঞ্চলে ভূ-উপরিস্থ পনি সংরক্ষণের মাধ্যমে ক্ষুদ্রসেচ উন্নয়ন ও সেচ দক্ষতা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের’ আওতায় তিস্তা নদীর জেগে ওঠা চরে ভ্রাম্যমান নৌকার মাধ্যমে সোলার চালিত লো লিফ্ট পাম্প (এল এল পি) এর মাধ্যমে কৃষকদের প্রয়োজনীয় সেচ সুবধা প্রদান করছে বিএডিসি।

এর ফলে তিস্তার এক সময়ের ধুঁ-ধুঁ বালুচর এখন সবুজে ছেঁয়ে গেছে। চরে গর্ত করে পলিথিন বিছিয়ে ভ্রাম্যমান এই সোলার পাস্পের সাহায্যে পানি জমা রেখে প্রয়োজনীয় সেচ কার্য পরিচালনা করছে কৃষকগণ। চাষ হচ্ছে আলু, পেঁয়াজ, রসুন, মিস্টি কুমড়া, স্কোয়াশ ও নান ধরনের সবজি।

প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী সঞ্চয় সরকার, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, বিএডিসি রংপুর সার্কেল বলেন, স্বল্প ব্যায়ে সর্বোচ্চ খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করতে আমাদের অব্যাহত প্রচেষ্টার মধ্যে একটি হচ্ছে সোলার চালিত এই সেচ ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি। তিস্তা নদীর দুর্গম চর অঞ্চলের কৃষকরা বিনা মূল্যে সেচ দিয়ে ফসল উৎপাদন করে যেন লাভবান হতে পারে সে লক্ষ্যেই এ সোলার পাম্প স্থাপন করা হয়েছে।

এছাড়াও জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার গোল নস্বর-৭ অর্থাৎ সবার জন্য ব্যায়সাধ্য, টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানী নিশ্চিত করতে সরকারের অভীষ্ট্য লক্ষ্য অর্জনে এ সেচ পদ্ধতি দৃঢ় ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্বাস করেন প্রকল্পটির পরিচালক।

সোলার চালিত ভ্রাম্যমান নৌকার এ সেচ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে রংপুরের তালুক শাহবাজ চরের প্রায় ৪২ একর জমি চাষের আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে। নৌকায় স্থাপিত এ সোলার পাম্পের সাহায্যে পুরো এলাকা ঘুরে ঘুরে প্রয়োজনীয় পানি কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিচ্ছে বিএডিসি যা ইতোমধ্যে ঐ এলাকায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। এছাড়া ঢুষমারা চরে সোলার চালিত ২ টি ডাগওয়েলের মাধ্যমে ৬০ একর জমিতে সেচ দেয়া হচ্ছে। এতে ফসল উৎপাদনে পূর্বে যেখানে একর প্রতি ন্যূনতম ৮ হাজার টাকা খরচ হতো সেখানে বর্তমানে প্রয়োজন হচ্ছে মাত্র ১ হাজার টাকা। এ অঞ্চলের উৎপাদিত ফসল স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপশি ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন জেলায়ও রপ্তানী করা হচ্ছে।

বিএডিসি’র এই উদ্ভাবনী প্রযুক্তিকে চর অঞ্চলের আশীর্বাদ হিসেবে দেখছে সংশ্লিষ্ট এলাকার কৃষকরা। তাই অন্যান্য চর একালার জন্য এরূপ সোলার চালিত সেচ পাম্প স্থাপনের জোর দাবী জানান এলাকাবাসী।

  •  
  •  
  •  
  •