মরিচ চাষ করে বিপাকে মানিকগঞ্জের চাষিরা

নিউজ ডেস্কঃ

ঘিওর উপজেলাসহ মানিকগঞ্জের চাষিরা মরিচ চাষ করে বিপাকে পড়েছেন। এবার মরিচের বাম্পার ফলন হলেও ন্যায্য মূল্য না পেয়ে মরিচ চাষিদের মাঝে বিরাজ করছে চরম হতাশা।
উৎপাদন খরচ, ক্ষেত থেকে মরিচ তুলে বাজারে নিয়ে বিক্রি করতে যে টাকা খরচ হয় সে টাকাও উঠছে না। এতে চাষিরা মরিচ নিয়ে পড়েছেন মহাবিপাকে। এবার মরিচের দাম আর যদি না বাড়ে তাহলে মোটা অংকের টাকা লোকসান গুণতে হবে এ অঞ্চলের চাষিদের।

অপরদিকে করোনাভাইরাসের কারণে বিমান চলাচল বন্ধ থাকায় প্রায় শূন্যের কোটায় মানিকগঞ্জের কাঁচা মরিচের রফতানি বাজার। নামে মাত্র অল্প কিছু মরিচ পাঠানো হচ্ছে বিদেশের বাজারে।

চাহিদা থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র বিমান চলাচল বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। যার প্রভাব পড়েছে স্থানীয় হাট-বাজারে। এতে করে লোকসানে রয়েছে মানিকগঞ্জের মরিচ চাষিরা।

জেলার ঘিওর উপজেলার ঘিওর হাট, বানিয়াজুরী বাসস্ট্যান্ড, কেল্লাই আড়ত, বাঠইমুড়ি বাজার, হরিরামপুর উপজেলার ঝিটকা, বাল্লা, বাস্তা, মাচাইন, শিবালয় উপজেলার বরংগাইল, নালী, রূপসা, তাড়াইল, শাকরাইল এবং মরিচ কেনা-বেচার বিখ্যাত হাট-বাজার।

মানিকগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, গত বছর মরিচের দাম ভাল হওয়াতে এবার মরিচের আবাদ বেড়েছে এবং ফলনও ভাল হয়েছে। এ বছর ৫ হাজার ৭০৯ হেক্টর জমিতে মরিচ আবাদের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হলেও আবাদ হয়েছে ৬ হাজার ৭৫০ হেক্টর।

গত বৃহস্পতিবার জেলার বৃহত্তর মরিচ হাট বরংগাইলে গিয়ে দেখা গেছে, বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শত শত কৃষক বস্তা ভর্তি মরিচ নিয়ে বসে আছেন একটু ভাল দাম পেয়ে বিক্রির আশায়। কিন্তু তাদের এই আশা সফল হয়নি। এক সপ্তাহ ধরে কাঁচা মরিচের দাম একই জায়গাতেই রয়ে গেছে।

হাটে মরিচ বিক্রি করতে আসা বেশ কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এবার মরিচের বাম্পার ফলনই কাল হয়েছে কৃষকের। উৎপাদন কম হলে দাম ভাল পাওয়া যেতো এমন কথা অনেকের।

আবার অনেকে বলছেন, সামনে রমাজান মাসে কাঁচা মরিচের চাহিদা ও দর দুটোই বৃদ্ধি পেতে পারে। তখন হয়তো কৃষকরা একটু ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবে।

পাইকারী ব্যবসায়ী মনির হোসেন জানালেন, এবার দুই লাখ পকেটে নিয়ে মরিচ কেনা বেচায় নেমেছিলাম। এ পর্যন্ত ৮০ হাজার টাকা খোয়া গেছে।

তিনি বলেন, বরংগাইল হাট থেকে প্রতিদিন মরিচ কিনে চট্রগামে পাঠাই। ব্যবসা টিকিয়ে রাখার জন্য এই ক্ষতি মেনে নিতে হচ্ছে।

বরংগাইল পাইকারি মরিচ বাজারের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হক জানান, প্রতিদিন ৬০ থেকে ৭০ টন মরিচের আমদানি হয় বরাংগাইল বাজারে।

এখান থেকে ৩২ জন আড়তদার মরিচ কিনে দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন বাজারে পাঠান। তবে বিমান চলাচল সীমিত হয়ে যাওয়ায় বিদেশের বাজারে মরিচ রফতানি করা যাচ্ছে না। যে কারণে চাহিদা কমেছে মরিচের। আর এতে করে লোকসান গুনতে হচ্ছে চাষিদের।

বরংগাইল হাটে মরিচ বিক্রি করতে আসা কৃষক হরিপদ সরকার জানান, অন্যের কাছ থেকে এক বছরের জন্য বর্গা নিয়ে ১৪ হাজার টাকা খরচ করে মরিচ ক্ষেত করেছিলাম। কিন্তু আমাগো এখন মাথায় হাত। মরিচের দাম নাই।

এই হাটে মরিচ বিক্রি করতে আসা অনেক কৃষকের ধারনা, এখান থেকে পাইকরারা কম দামে মরিচ কিনে শহরের বেশি দামে বিক্রি করছে। শহরের সঙ্গে গ্রামে দামের ফারাক আকাশ পাতাল।

ঘিওর উপজেলার রাধাকান্তপুর গ্রামের মরিচ চাষি মুন্নাফ মিয়া জানান, গতবার মরিচের ভাল দাম পাওয়ায় এ বছর ৩ বিঘা জমিতে মরিচের আবাদ করেছেন তিনি। মরিচের ফলন অনেক ভাল। কিন্তু শ্রমিক সংকট আর শ্রমিকের উচ্চমূল্যের কারণে ক্ষেত থেকে প্রতি কেজি মরিচ তোলা ও পরিবহন মারফত হাটে নিয়ে বিক্রি করতে মোট খরচ হচ্ছে ৬/৮ টাকা।

জমি চাষবাস থেকে শুরু করে চারা লাগান এবং পরিচর্যাসহ উৎপাদন খরচতো রয়েই গেছে। অথচ গত এক সপ্তাহ ধরে পাইকারী বাজারে প্রতি কেজি মরিচ ১৫ টাকা দরে বিক্রি করছেন। মরিচের এরকম দাম অব্যাহত থাকলে এবার মোটা অংকের টাকা লোকসান গুণতে হবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সহ পরিচালক কৃষিবীদ আশরাফ উজ্জামান বলেন, এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মরিচের উৎপাদন অনেক ভাল হয়েছে। দাম কয়েকদিন আগেও ভাল ছিল। বর্তমানে দাম অনেক কম থাকায়, কৃষকরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছেন।

  •  
  •  
  •  
  •