পোলট্রি ও মৎস্য ব্যবসায় ধ্বস কুমিল্লায়

নিউজ ডেস্কঃ

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া মরণব্যাধি করোনায় বিপর্যস্ত অর্থনীতি। করোনাভাইরাসের প্রভাবে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে খামারীরা। সেই সাথে থমকে যাচ্ছে অর্থনীতির নানা খাত। মহামারীর এই করোনায় খুঁজে পাওয়া যাবে না ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি এমন কোন খাত।

করোনার প্রভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকাও সচল হচ্ছে না গত প্রায় চার মাস ধরে। কৃষি, পরিবহন, মৎস্য, গবাদিপশু পালনের মত ক্ষুদ্র ও মাঝারী শিল্পগুলোর অনেক গুলো বন্ধ হয়ে গেছে এরই মধ্যে। ডেইরী, পোল্ট্রি ও মৎস্য খামার ব্যবসায়ীরাও চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন করোনা মহামারীতে।

কুমিল্লায় করোনা পরিস্থিতিতে দীর্ঘ ৩/৪ মাস অচলাবস্থা থাকায় মৎস্য ও পোলট্রি ব্যবসায়ও নেমেছে ধ্বস। যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় এবং লক ডাউনের ফলে পোল্ট্রি ও মৎস্য খামারে খাবার সংকটে চাষিদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। নিয়মিত পরিচর্যা করতে না পারায় মৎস্য খামারে মাছের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

কুমিল্লায় ঐতিহ্যবাহী বৃহত্তর দীঘি ধর্ম সাগরের মৎস্য নেতৃবৃন্দ জানান, গত ২/৩ মাস লকডাউনের ফলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় ধর্ম সাগরে নিয়মিত মাছের খাবার দিতে না পারায় এবং পরিচর্যা না করায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ইতিমধ্যে খাদ্য ও ঔষধ দিতে না পারায় ধর্ম সাগরের প্রায় ২০ থেকে ২২ লাখ টাকার মাছ মরে মরে যাওয়ায় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে তারা। প্রতিদিনই ধর্ম সাগরে বিপুল পরিমাণে মাছ মরে যাচ্ছে বলেও জানা নেতৃবৃন্দ।

গত ২০১৯ সনের এপ্রিল মাসে ধনঞ্জয় মৎস্য সমিতির নেতৃবৃন্দ জেলা প্রশাসন কর্তৃক ঐতিহ্যবাহী ধর্ম-সাগর দীঘিটি তিন বছরের জন্য লীজ গ্রহণ করে মৎস্য চাষ করছেন।

চাষকৃত মাছগুলো আকারে বড় হয়েছিল এবং বিক্রির উপযোগী হয়েছিল। তারা আশা করেছিলেন পহেলা বৈশাখের সময় মাছ বিক্রি করে লাভবান হবেন। কিন্তু হঠাৎ করে করোনা মহামারীর কারণে তাদের সে আশা গুড়েবালি হয়ে পড়ে। বিশাল অংকের টাকা ক্ষতি হওয়ায় তাঁরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। এ অবস্থায় তাঁরা মৎস্য চাষিদের জন্য সরকারি প্রণোদনা দাবী করছেন।

  •  
  •  
  •  
  •