১৭টি পশুর হাট বসল রাজধানীতে

নিউজ ডেস্কঃ

করোনা সংকটে নানা আশঙ্কার মধ্যে ঢাকায় এবার ১৭টি কোরবানির পশুর হাট বসছে। হাটের শর্ত ভেঙে ইতোমধ্যেই অনেক স্থানে বসে পড়েছে অস্থায়ী এসব হাট। করোনা মোকাবিলায় গঠিত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির নির্দেশনা উপেক্ষা করেই ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় বসেছে এসব হাট। সংক্রমণ ঠেকাতে নানা পদক্ষেপ নেয়ার কথা বললেও কোন হাটেই করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে ন্যূনতম পদক্ষেপও দেখা যাচ্ছে না।

ধর্মীয় ও সার্বিক দিক বিবেচনায় নিয়েই গতবারের তুলনায় এবার ৩০ শতাংশ হাট কম বসানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন সমবায় মন্ত্রী। আবাসিক এলাকার আশপাশে হওয়ায় সংক্রমণ ছড়ানোর ভীতিতে আছেন রাজধানীবাসী। পশু কোরবানি ও মাংস বিতরণের সময় বিপুল লোকসমাগমের বিষয়টিও আতঙ্কিত করছে নগরবাসীকে। সিটি করপোরেশন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মাস্ক পরিধান এবং ক্রেতা-বিক্রেতার দূরত্ব নিশ্চিতসহ হাটে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি পালনে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তবে পরামর্শ উপেক্ষা করে হাট বসানোয় নাখোশ কারিগরি কমিটি বলছে, হাটে জনসমাগম হবেই, করোনা ছড়াবেই। অনলাইনের মাধ্যমে হাট না দিয়ে এভাবে দেয়ায় ঈদের পর ঢাকাসহ আশপাশের জেলায় আবারও করোনা সংক্রমণ বাড়বে বলে মনে করছেন তারা। আগামী ১ আগস্ট দেশে পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হবে।

ঈদের দিনসহ মোট পাঁচ দিন হাট বসানোর নিয়ম। সে হিসেবে ২৮ জুলাই থেকে রাজধানীতে হাট বসার কথা। কিন্তু ২৪ জুলাই থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে হাট বসে গেছে। এবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ১১টি হাট বসবে। অন্যান্য সময় এখানে ১৪টি হাট বসত। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় এবার একটি স্থায়ীসহ মোট ৬টি হাট বসবে।

অন্যবার এখানে ৯-১১টি হাট বসত। ডিএনসিসি এলাকায় ৬টি পশুর হাট : এবার ডিএনসিসি এলাকায় মোট ৬টি পশুর হাট বসবে। এর মধ্যে ১টি স্থায়ী হাট এবং ৫টি অস্থায়ী হাট। স্থায়ী হাটটি বসবে গাবতলীতে। আর অস্থায়ী হাটগুলো হচ্ছে-উত্তরা ১৭ নম্বর সেক্টরে বৃন্দাবন হতে উত্তর দিকে বিজিএমইএ ভবন পর্যন্ত খালি জায়গা; কাওলা শিয়ালডাঙ্গাসংলগ্ন খালি জায়গা। ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্বাচল ব্রিজসংলগ্ন মস্তুল ডুমনী বাজারমুখী রাস্তার উভয় পাশের খালি জায়গা; ভাটারা (সাইদনগর) পশুর হাট; এবং উত্তরখান মৈনারটেক হাউজিং প্রকল্পের খালি জায়গা।

ডিএসসিসি ১১টি হাট : ডিএসসিসিতে মোট ১১টি হাট বসবে। চূড়ান্ত হওয়া ১১টি পশুর হাটের মধ্যে রয়েছে-কমলাপুর লিটল ফ্রেন্ডস ক্লাবসংলগ্ন গোপীবাগ বালুর মাঠ ও কমলাপুর স্টেডিয়ামসংলগ্ন বিশ্বরোডের আশপাশের খালি জায়গা, আফতাবনগর ব্লক-ই, এফ, জি এর সেকশন ১ ও ২ নম্বর এলাকা, হাজারীবাগ লেদার টেকনোলজি কলেজসংলগ্ন খালি জায়গা, উত্তর শাহজাহানপুর খিলগাঁও রেলগেট বাজারের মৈত্রী সংঘের মাঠসংলগ্ন খালি জায়গা, পোস্তগোলা শ্মশানঘাট সংলগ্ন খালি জায়গা, মেরাদিয়া বাজার সংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, দনিয়া কলেজ মাঠসংলগ্ন খালি জায়গা, ধূপখোলা মাঠসংলগ্ন খালি জায়গা, সাদেক হোসেন খোকা মাঠের পাশে ধোলাইখাল ট্রাক টার্মিনাল সংলগ্ন উন্মুক্ত জায়গা, আমুলিয়া মডেল টাউনের খালি জায়গা এবং রহমতগঞ্জ খেলার মাঠসংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা।

ডিএসসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা রাসেল সাবরিন বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগ গাইডলাইন দিয়েছে। ঈদের দিনসহ মোট পাঁচ দিন হাট বসানোর নিয়ম। কেউ নিয়ম ভাঙলে আমরা ব্যাবস্থা নেব।

করোনা পরিস্থিতির মধ্যে অস্থায়ী হাট বসানোর প্রয়োজনীয়তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা আমাদের বিষয় নয়। আমরা ওপরের মহলের নির্দেশে কাজ করি। তবে হাটে যেন স্বাস্থ্যবিধি মানা হয় সে বিষয়ে আমরা কঠোর অবস্থানে থাকব।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, যে ১১টি হাট ইতোমধ্যেই ইজারা দেয়া হয়েছে, সেসব হাটে আমরা একদিকে প্রবেশ এবং অন্যদিকে বের হওয়ার রাস্তা করে দেব। আর যেখানে গরুগুলো রাখা হবে সেখানে ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে যাতে তিন ফুট দূরত্ব বজায় থাকে, সেজন্য বৃত্ত করে দেব।

ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রি. জেনা. মোমিনুর রহমান মামুন বলেন, আমাদের এখানে ৬টি হাট বসছে। হাটে এক পরিবারের ২ জনের বেশি প্রবেশ করতে পারবেন না। বয়স্ক ও শিশুরা যেন প্রবেশ না করে সে বিষয়ে আমরা তাদের নিরুৎসাহিত করছি। সুষ্ঠ ব্যবস্থাপনার জন্য আমরা কসাই ও ইমাম প্রশিক্ষণ দিচ্ছি।

সবাই স্বাস্থ্যবিধি মানবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা চেষ্টা করব। সবার সচেতনতা ও সহযোগিতা প্রয়োজন।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, আমরা কয়েকটি হাট কমিয়ে দিয়েছি। এক্ষেত্রে আমরা রাজস্বের কথাও চিন্তা করিনি। যে হাটগুলো বসবে সেগুলোতে সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যবিধি পালন করা হবে।

ঢাকা দুই করপোরেশন স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন সমবায় মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষেই হাট বসিয়েছে। রাজধানীর হাটসংক্রান্ত সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সংবাদের সঙ্গে কথা হয় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী তাজুল ইসলামের। হাটে বেশি মানুষের সমাগম এবং করোনা সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা যে রয়েছে তা খোদ মন্ত্রীই স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, হাটে বেশি মানুষ সমাগম হলে করোনা তো বাড়বেই। কিন্তু ধর্মীয় বিষয় চিন্তা করে হাট বসাতেই হচ্ছে। আমরা চাইলে হাট বন্ধ করে লকডাউন দিতে পারি। কিন্তু কোরবানি না হলে ধর্মীয় অনুভূতি আঘাত হানবে। তাই সব কিছু বিবেচনা করেই হাট বসানো হয়েছে। এবার প্রায় ৩০ শতাংশ হাট কম বসানো হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, আমরা সবাইকে অনলাইনে কেনার জন্য উদ্বুদ্ধ করছি। কিন্তু সেখানে ক্রেতা কম। স্বাস্থ্যবিধি মানানোর জন্য আমরা সবধরনের ব্যবস্থা নিয়েছি।

এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আমরা চেষ্টা করব। আমি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছি। তারা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে।

করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে রাজধানীতে কোরবানির পশুর হাট না বসাতে পরামর্শ দিয়েছিল করোনা মোকাবিলায় গঠিত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি। তারপরও ঢাকায় বসানো হয়েছে পশুর হাট।

করোনা মোকাবিলায় গঠিত জাতীয় কারিগরি বিশেষজ্ঞ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শহীদুলল্লাহ বলেন, আমরা ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জসহ চার জেলায় হাট না বসানোর জন্য বলেছিলাম। কারণ হাটে জনসমাগম হবে। হাট না বসালে কমিউনিটি স্প্রেড নিয়ন্ত্রণ থাকতো। কিন্তু তারপরও হাট বসানো হচ্ছে। যাই হোক আমরা ৮টি স্বাস্থ্য গাইডলাইন দিয়েছি। সবচেয়ে ভালো হতো অনলাইনে করলে। বিশ্বের অনেক দেশেই সরকারি ব্যবস্থাপনা ও অনলাইনে এসব কাজ করা হয়ে থাকে। এটা খুবই ভালো সিস্টেম। এতে একটা নতুন পথের সৃষ্টি হতো। কিন্তু তারা তো শুনল না। আমরা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছি, হাটের কারণে অবশ্যই করোনার সংক্রমণ বাড়বে। কতটা বাড়ে সেটা সময়সাপেক্ষে বলা যাবে।

যেহেতু হাট বসেই গেছে, এই মুহূর্তে করণীয় কি জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা ৮টি গাইডলাইন দিয়েছি। এগুলো মেনে চলতে করোনা সংক্রমণ কিছুটা কমানো সম্ভব।

নগরীর উত্তর শাহজাহানপুর খিলগাঁও রেলগেট বাজারের মৈত্রী সংঘের মাঠসংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গায় বসানো সিটি করপোরেশনের অস্থায়ী কোরবানির পশুর হাটে গিয়ে দেখা গেছে, মাঠ পেরিয়ে আশপাশের বাসাবাড়ির সামনেও পশু রাখার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। বাসাবাড়ির উঠান ও পেছনের খালি জায়গাতে বাঁশের খুঁটি লাগানো হয়েছে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পোস্তগোলা শ্মশানঘাটের হাটের এলাকায়ও একই অবস্থা।

রাজধানীর আফতাবনগর আবাসিক এলাকা। এখানে পশুর হাট ইজারা দিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। বিভিন্ন জেলা থেকে এসেছেন পাইকাররা। হচ্ছে ক্রেতা সমাগমও। করোনা পরিস্থিতিতে সব হাটবাজার যেখানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর জোর দেয়া হচ্ছে সেখানে এই হাটে মানা হচ্ছে না অনেক কিছুই। হাটের প্রবেশপথে নেই জীবাণুমুক্ত করার ব্যবস্থা। ঢাকার বাইরে থেকে আসা পাইকারদের শরীরের তাপমাত্রা মাপারও কোন বন্দোবন্ত নেই। মাস্ক ছাড়াই ঘুরছেন ব্যবসায়ীদের অনেকেই।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে হাটে ও কোরবানির সময়কার স্বাস্থ্য গাইউলাইন তৈরি করা হয়েছে।

হাট কমিটির জন্য নির্দেশনা : হাট বসানোর জন্য পর্যাপ্ত খোলা জায়গা নির্বাচন করতে হবে। কোন অবস্থায় বদ্ধ জায়গায় হাট বসানো যাবে না। হাট ইজারাদার কর্তৃক হাট বসানোর আগে মহামারী প্রতিরোধী সামগ্রী যেমন-মাস্ক, সাবান, জীবাণুমুক্তকরণ সামগ্রী ইত্যাদি সংগ্রহ করতে হবে। পরিষ্কার পানি সরবরাহ ও হাত ধোয়ার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে তরল সাবান/সাধারণ সাবানের ব্যবস্থা রাখতে হবে। নিরাপদ বর্জ্য নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। পশুর হাটের সঙ্গে জড়িত সব কর্মকর্তা, কর্মচারী ও হাট কমিটির সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। হাট কমিটির সবার ব্যক্তিগত সুরক্ষা জোরদার করা এবং মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

হাটের সঙ্গে জড়িত সব কর্মীদের স্বাস্থ্যবিধির নির্দেশনা দিতে হবে। জনস্বাস্থ্যের বিষয়গুলো যেমন মাস্কের সঠিক ব্যবহার, হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার, শারীরিক দূরত্ব, হাত ধোয়া, জীবাণুমুক্তকরণ বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে। স্বাস্থ্যবিধিসমূহ সার্বক্ষণিক মাইকে প্রচার করতে হবে। মাস্ক ছাড়া কোন ক্রেতা-বিক্রেতা হাটের ভিতরে প্রবেশ করতে পারবেন না। হাট কর্তৃপক্ষ চাইলে বিনামূল্যে মাস্ক সরবরাহ করতে পারেন বা এর মূল্য নির্ধারণ করে দিতে পারেন। প্রতিটি হাটে সিটি করপোরেশন কর্তৃক ডিজিটাল পর্দায় স্বাস্থ্য অধিদফতরের নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি প্রচার করতে হবে।

পশুর হাটে প্রবেশের জন্য গেট (প্রবেশপথ ও বাহিরপথ) নির্দিষ্ট করতে হবে। পর্যাপ্ত পানি ও ব্লিচিং পাউডার দিয়ে পশুর বর্জ্য দ্রুত পরিষ্কার করতে হবে। কোথাও জলাবদ্ধতা তৈরি করা যাবে না। প্রতিটি হাটে সিটি করপোরেশন/পৌরসভা/ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক এক বা একাধিক ভ্রাম্যমাণ স্বেচ্ছাসেবী মেডিকেল টিম গঠন করে সেবা প্রদানের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। মেডিকেল টিমের কাছে শরীরের তাপমাত্রা মাপার জন্য ডিজিটাল থার্মোমিটার রাখা যেতে পারে, যাতে প্রয়োজনে হাটে আসা সন্দেহজনক করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিদের দ্রুত চিহ্নিত করা যায়। এছাড়া তাৎক্ষণিকভাবে রোগীকে আলাদা করে রাখার জন্য প্রতিটি হাটে একটি আইসোলেশন ইউনিট (একটি আলাদা কক্ষ) রাখা যেতে পারে। একটি পশু থেকে আরেকটি পশু এমনভাবে রাখতে হবে যেন ক্রেতারা কমপক্ষে ৩ ফুট বা ২ হাত দূরত্ব বজায় রেখে পশু ক্রয় করতে পারেন। ভিড় এড়াতে মূল্য পরিশোধ ও হাসিল আদায় কাউন্টারের সংখ্যা বাড়াতে হবে।

মূল্য পরিশোধের সময় সারিবদ্ধভাবে লাইনে দাঁড়ানোর সময়কাল যেন কম হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। লাইন ৩ ফুট বা কমপক্ষে ২ হাত দূরত্ব বজায় রেখে দাঁড়াতে হবে। প্রয়োজনে রেখা টেনে বা গোল চিহ্ন দিয়ে দিতে হবে। সব পশু একত্রে হাটে প্রবেশ না করিয়ে, হাটের ধারণক্ষমতা অনুযায়ী পশু প্রবেশ করাতে হবে। প্রবেশের সুযোগ দিতে হবে। অবশিষ্ট ক্রেতারা হাটের বাইরে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে অপেক্ষা করবেন। একটি পশু ক্রয়ের জন্য ১ বা ২ জনের বেশি ক্রেতা হাটে প্রবেশ করবেন না। অনলাইনে পশু কেনাবেচার জন্য জনগণকে উৎসাহিত করা যেতে পারে। স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে সব কাজ নিশ্চিত করতে হবে।

ক্রেতা-বিক্রেতাদের জন্য নির্দেশনা : ক্রেতা-বিক্রেতা সবাইকে অবশ্যই মাস্ক পরিধান করতে হবে।

সর্দি, কাশি, জ্বর বা শ্বাসকষ্ট নিয়ে কেউ হাটে প্রবেশ করবেন না। শিশু, বৃদ্ধ এবং অসুস্থরা হাটে আসতে পারবেন না। পশুর হাটে প্রবেশের আগে ও বের হওয়ার সময় তরল সাবান/সাধারণ সাবান এবং পানি দিয়ে হাত ধুতে হবে। মূল্য প্রদান এবং হাটে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় কমপক্ষে ৩ ফুট বা দুই হাত দূরত্ব বজায় রেখে সারিবদ্ধভাবে লাইনে দাঁড়াতে হবে। হাট কমিটি, স্থানীয় প্রশাসন, সিটি করপোরেশন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনা যথাযথভাবে পালন করতে হবে।

পশু কোরবানিকালীন নির্দেশনা :

পশু কোরবানির সময় প্রয়োজনের অধিক লোকজন একত্রিত হবেন না এবং কোরবানির মাংস সংগ্রহের জন্য একত্রে অধিক লোক চলাফেরা করতে পারবে না। পশুর চামড়া দ্রুত অপসারণ করতে হবে এবং কোরবানির নির্দিষ্ট স্থানটি ব্লিচিং পাউডারের দ্রবণ দিয়ে ভালোভাবে জীবাণুমুক্ত করে নিতে হবে।

  •  
  •  
  •  
  •