বন্যার জলে দেড় লাখ হেক্টর জমির ফসল প্লাবিত

নিউজ ডেস্কঃ

দুই দফা বন্যায় দেশের ৩৪ জেলায় দেড় লাখ হেক্টরেরও বেশি ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে।

এতে কৃষির ক্ষয়ক্ষতির হিসাব এখনও শেষ করতে পারেনি কৃষি বিভাগ; তবে সেই কাজ চলছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

প্রথম ধাপের বন্যার ক্ষত কেটে উঠতে না উঠতেই আরেক দফা বন্যার বিস্তারের কৃষকের মাথায় হাত এখন। আখ, উঠতি পাটসহ বিভিন্ন শাকসবজি তলিয়েছে পানিতে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবদুল মুঈদ বলেন, “এখন পর্যন্ত দেশের ৩৪টি জেলার ১ লাখ ৬০ হাজার হেক্টর ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে।

“বন্যায় ফসলের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে কাজ করছি; সেই সঙ্গে কৃষি পুনর্বাসনেও তৎপরতা নিচ্ছি। আজও মন্ত্রণালয়ে বৈঠক হয়েছে। সব বিষয়ে হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।”

তিনি জানান, প্রথম ধাপে ২৮টি জেলার প্লাবিত এলাকায় প্রায় ৩৪৯ কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি নিরূপণ করা হয়েছে। এরপর বন্যা দীর্ঘায়িত হল। এ অবস্থায় দ্রুত একীভূত তথ্য মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন আকারে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বন্যায় আউশ, আমন, সবজি, পাটসহ বেশ কিছু ফসলের অনেক ক্ষতি হয়েছে। বিকল্প বীজতলা তৈরি, ক্ষতিগ্রস্ত জমিতে বিকল্প ফসলের চাষের ব্যবস্থা, নিয়মিতভাবে আবহাওয়া মনিটরিং ও ভবিষ্যত প্রস্তুতি নিয়ে ফসলের ক্ষতি মোকাবেলা করা হচ্ছে।

কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, ২০১৭ সালের বন্যায় এবারের চেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছিল। কারণ ওই বছর আকস্মিক বন্যায় বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছিল।

কৃষকের জন্য কী

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নাসিরুজ্জামান বলেন, “আমাদের প্রধান ক্ষতিটা আমন বীজতলায়। অলরেডি আমরা বীজতলা দিয়েছি। একইসঙ্গে যেসব জায়গায় বন্যা একটু দীর্ঘায়িত হবে, কৃষকরা আর আমন দিয়ে ক্ষতি পুষাতে পারবে না, সেসব জায়গায় কৃষকদের হাতে মাসকলাই বীজ দিতে কৃষি কর্মকর্তাদের হাতে তা পৌঁছানো রয়েছে।”

পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে বীজ বিতরণ করে দেওয়া হবে বলে জানান সচিব।

তিনি বলেন, আমন কোনো কোনো এলাকায় ইতোমধ্যে লাগানো চলছে। ১১০% বীজতলা তৈরি হয়েছে। ১৫০ থেকে ১৬০ দিন লাগে এ জাতের জন্য। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি বীজতলা হলেও বন্যা উপদ্রুত এলাকায় ওই বীজ ব্যবহার আমনের তিন ধরনের বীজতলা ৫ অগাস্ট থেকে ১৫ অগাস্টের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়। যাদের শাক-সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তাদেরকে সহায়তা করা হবে।

বন্যা পরিস্থিতির উন্নতির আভাস

বন্যা পুর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, নদীগুলোতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ১০১টি পর্যবেক্ষণ স্টেশনের মধ্যে কমেছে ৬৬টি পয়েন্টে। বেড়েছে ৩৪টি পয়েন্টে। ১৯টি নদীর ২৭টি স্টেশনে বিপৎসীমার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকার নদ-নদীর পনি স্থিতিশীল রয়েছে; আগামী ২৪ ঘণ্টায় পানি কমতে পারে। পদ্মা অববাহিকায় পানি কমছে; তা আগামী ৪৮ ঘণ্টা তা অব্যাহত থাকবে।

অগাস্টের প্রথম সপ্তাহে পানি কমতে পারে ও দ্বিতীয় সপ্তাহে দেশের বন্যাকবলিত অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসার সম্ভবনা রয়েছে।

কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুজ্জামান ভুইয়া জানান, আগামী ২৪ ঘণ্টায় মুন্সিগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, চাঁদপুর, রাজবাড়ি, শরীয়তপুর, ঢাকা এবং ব্রাহ্মনবাড়িয়া জেলার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। এই সময়ে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, বগুড়া, জামালপুরনাটোর, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে।

ঢাকা জেলার আশপাশের নদ-নদীর পানি স্থিতিশীল অবস্থায় থাকবে আগামী ২৪ ঘণ্টা। ঢাকা সিটি করপোরেশন সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকবে।

  •  
  •  
  •  
  •