আখ ক্ষেতে আগুন দিয়ে প্রতিবাদ

নিউজ ডেস্কঃ

রংপুর চিনিকলসহ রাষ্ট্রায়ত্ত ছয়টি চিনিকলে আখমাড়াই বন্ধ রয়েছে। এর প্রতিবাদে শনিবার (১৯ ডিসেম্বর) দিনব্যাপী মহিমাগঞ্জে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। আখখেতে আগুন দিয়ে প্রতিবাদ করেছেন শ্রমিক-কর্মচারী ও আখচাষিরা।

আগামী ২৪ ডিসেম্বরের মধ্যে চিনিকল চালু করে দেয়া না হলে হরতাল, রাজপথ-রেলপথ অবরোধ ও চিনিকলের আওতাধীন সকল জমির দণ্ডায়মান আখ আগুনে পুড়ে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

শনিবার সকালে মহিমাগঞ্জের রংপুর চিনিকলের সামনে গোবিন্দগঞ্জ-মহিমাগঞ্জ সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে ও টায়ারে আগুন দিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করতে থাকেন শ্রমিক, কর্মচারী ও আখচাষিরা। এ সময় পথে চলাচলকারী ছোট-বড় বিভিন্ন যানবাহন আটকে পড়ে। অবরোধের কয়েক ঘণ্টা পরে দুপুরে অবরোধ তুলে নিয়ে রংপুর চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন, আখচাষী সমিতি, মহিমাগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ, অওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ সম্মিলিতভাবে সংবাদ সম্মেলন করেন।

লিখিত বক্তব্যে তারা জানান, ২০ ডিসেম্বর থেকে ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ, মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হবে। একই সঙ্গে, ২৪ ডিসেম্বর মহিমাগঞ্জ এলাকায় অর্ধদিবস হরতাল পালন করা হবে।

এ সময়ের মধ্যে দাবি মানা না হলে আগামী ২৫ ডিসেম্বর থেকে হরতাল, রাজপথ-রেলপথ অবরোধ, গণঅনশন ও চিনিকলের আওতাধীন সকল জমির দণ্ডায়মান আখ আগুনে পুড়ে দেয়া হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

এদিকে সংবাদ সম্মেলন চলাকালীন মিলস গেট সাবজোনের গোপালপুর গ্রামের জিল্লুর রহমান নামের এক আখচাষি দুপুর ১টার দিকে তার এক একর জমির আখখেতে আগুন লাগিয়ে দেন। সংবাদ পেয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানার একদল পুলিশ সেখানে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। পরে গোবিন্দগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সোনাতলা ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

বিক্ষুব্ধ আখচাষি জিল্লুর রহমান বলেন, ‘রংপুর চিনিকলের চেয়ে ছোট জয়পুরহাট চিনিকলে আখ দিতে গেলে তাদের জমিতেই আখ শুকিয়ে যাবে। ছয় মাসেও তারা আখ মাড়াই করতে পারবেন না। এর ফলে ধানের আবাদও করা সম্ভব হবে না। তাই এ আখ পুড়িয়ে দিলে আগামী বোরো মৌসুমে ধানের আবাদ করা যাবে।’

  •  
  •  
  •  
  •