ভারতের রাজধানী দিল্লিতে প্রকোপ আকার ধারন করেছে কৃষি আন্দোলন

নিউজ ডেস্কঃ

কৃষক আন্দোলনের মুখে ভারতের রাজধানী দিল্লি এখন উত্তাল। আন্দোলনকারী কৃষকদের দাবিগুলোর মধ্যে অন্যতম নতুন কৃষি আইনের আওতায় কোনো পণ্যের ন্যূনতম মূল্য কমিয়ে আনা কিংবা উঠিয়ে নেয়া যাবে না। এ পরিস্থিতিতে ভারতের কেন্দ্রীয় খাদ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়াল জানিয়েছেন, চিনিকলগুলোর দীর্ঘদিনের দাবি থাকা সত্ত্বেও আখের ন্যূনতম বিক্রয়মূল্য কমানো হয়নি। একই সঙ্গে চিনি রফতানি বাড়াতে সাড়ে ৩ হাজার কোটি রুপি (ভারতীয় মুদ্রা) ভর্তুকি দেয়া হবে। ভারতীয় চিনি উৎপাদনকারীদের সংগঠন ইন্ডিয়ান সুগার মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (আইএসএমএ) ৮৬তম বার্ষিক সাধারণ সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এমন মন্তব্য করেন। খবর বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ও বিজনেস রেকর্ডার।

ভারতের চিনি শিল্পে ন্যূনতম বিক্রয়মূল্য ফেয়ার অ্যান্ড রিমিউনারেটিভ প্রাইস (এফআরপি) নামে পরিচিত। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে প্রতি মৌসুমে এ দর নির্ধারণ করে দেয়া হয়। সরকারের বেঁধে দেয়া এ দর মেনে আখচাষীরা মৌসুমজুড়ে চিনিকলগুলোর কাছে আখ বিক্রি করেন। এবারের মৌসুমে ভারতীয় আখচাষীদের জন্য এ দাম নির্ধারণ করা হয়েছে কেজিপ্রতি ৩১ রুপি (ভারতীয় মুদ্রা)।

দেশটির চিনিকলগুলো দীর্ঘদিন ধরে এ দাম কমানোর দাবি জানিয়ে আসছিল। তাদের যুক্তি, বাজারে চিনির দামে উত্থান-পতনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আখের এ ন্যূনতম দাম নির্ধারণ করা প্রয়োজন। তা না হলে চিনিকলগুলোর আর্থিক লোকসানের ঝুঁকি কমিয়ে আনা সম্ভব হবে না। তবে চলমান কৃষক আন্দোলনের মধ্যে চিনিকলগুলোর এমন দাবি নাকচ করে পীযূষ গয়াল বলেন, আখের ন্যূনতম বিক্রয়মূল্য কমানো হয়নি।

এ সময় তিনি আরো বলেন, অক্টোবরে ভারতে আখ ও চিনির ২০২০-২১ বিপণন মৌসুম শুরু হয়। এবারের মৌসুমে ৬০ লাখ টন চিনি রফতানির লক্ষ্য পূরণে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে ৩ হাজার ৫০০ কোটি রুপি ভর্তুকি দেয়া হবে।

চিনি শিল্পে ভর্তুকির বিষয়ে ভারতের প্রভাবশালী এ মন্ত্রী বলেন, উৎপাদন বেশি হওয়ায় এরই মধ্যে চিনিকলগুলোর গুদাম ভরে উঠেছে। বাড়তি চিনি বিক্রি নিয়ে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে এ শিল্প। এ পরিস্থিতিতে অভ্যন্তরীণ বাজারে দরপতন ঠেকাতে মজুদের পরিমাণ সীমিত রাখার বিকল্প নেই। আর মজুদ কমাতে বাড়তি চিনি রফতানি করতে হবে। পণ্যটির রফতানি বাজার চাঙ্গা করার জন্য ভর্তুকি প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র সরকার।

এ সময় পীযূষ গয়াল ভারতীয় চিনি শিল্পকে আরো রাজস্ববান্ধব করে গড়ে তুলতে আখের নতুন মূল্যনীতি নিয়ে কাজ এগিয়ে নিতে এবং এ খাতে রঙ্গরাজন কমিটির সুপারিশগুলো মেনে চলতে আইএসএমএ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, রাজস্ব আয় বাড়াতে শুধু চিনির ওপর নির্ভর করে থাকলে হবে না। আখ থেকে বিকল্প পণ্য উৎপাদনে জোর দিতে হবে। আমরা এখনো ১০ শতাংশ ইথানল উৎপাদন করছি। জ্বালানি পণ্যটির উৎপাদন বাড়িয়ে ২০-৩০ শতাংশে উন্নীত করতে হবে। এর ব্যবহার জনপ্রিয় করার ওপর জোর দিতে হবে। এতে সরকার, আখচাষী, চিনিকল সবার লাভ হবে।

ভারতীয় চাষীরা মৌসুমের শুরুর দিকে চিনিকলে আখ বিক্রি করেন। পরবর্তী সময়ে তা থেকে উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করে কলগুলো চাষীদের পাওনা পরিশোধ করে। তবে পাওনা পরিশোধ নিয়ে দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগ বেশ পুরনো। চাষীদের দাবি, চিনিকলগুলো ইচ্ছা করে চাষীদের পাওনা আটকে রাখে। তবে আইএসএমএ বলছে, উৎপাদিত চিনি বিক্রি না হওয়ায় আর্থিক লোকসানের কারণে অনেক চিনিকল সময়মতো পাওনা পরিশোধ করতে পারে না। পীযূষ গয়াল বলেন, ভর্তুকিমূল্যে চিনি রফতানি করলে ভারতীয় কলগুলো সময়মতো আখচাষীদের পাওনা পরিশোধ করতে পারবে।

ব্রাজিলের পর বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ চিনি উৎপাদনকারী দেশ ভারত। পণ্যটির রফতানিকারকদের বৈশ্বিক শীর্ষ তালিকায় দেশটি তৃতীয় শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। অক্টোবরে শুরু হওয়া চলতি ২০২০-২১ মৌসুমের প্রথম আড়াই মাসে (১ অক্টোবর-১৫ ডিসেম্বর) ভারতের চিনিকলগুলোয় সব মিলিয়ে ৭৩ লাখ ৭৭ হাজার টন চিনি উৎপাদন হয়েছে বলে জানিয়েছে আইএসএমএ। আগের মৌসুমের একই সময়ের তুলনায় চলতি মৌসুমের প্রথম আড়াই মাসে ভারতে চিনি উৎপাদনের এক-পঞ্চমাংশ বা প্রায় ২০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি বজায় রয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •