দিন দিন বেড়ে চলেছে সরিষার চাষ

নিউজ ডেস্কঃ

উৎপাদন খরচ কম ও ভালো দাম পাওয়ায় লাভজনক হওয়ায় দিনাজপুরের হিলিতে দিন দিন বাড়ছে সরিষার চাষাবাদ। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া সরিষা চাষাবাদের অনুকূলে থাকায় ভালো ফলনের পাশাপাশি ভালো দাম পেলে লাভবানের আশাবাদ কৃষকদের।

 

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে হাকিমপুর উপজেলায় সরিষা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ৮২০ হেক্টর জমিতে। আবাদ হয়েছে ৮২৫ হেক্টর জমিতে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫ হেক্টর বেশি জমিতে সরিষার চাষাবাদ হয়েছে। উপজেলার ইসমাইলপুর, ডাঙ্গাপাড়া, জালালপুর, ছাতনি, বোয়ালদাড়সহ বিভিন্ন এলাকার বিস্তিন্ন এলাকা জুড়ে সরিষার চাষাবাদ হয়েছে। বর্তমানে উপজেলায় বারি-১৪, বারি-১৭. বারি-১৮ জাতের সরিষার চাষাবাদ করা হয়েছে। বর্তমানে সরিষার ফুলে ফুলে ছেয়ে গেছে পুরো ফসলের মাঠ, বর্তমানে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সরিষা বেশ ভালো রয়েছে। এমন অবস্থা থাকলে চলতি মৌসুমে ১১৯৬ টন সরিষা উৎপাদন হবে বলে আশা করছি।

হিলির চন্ডিপুর গ্রামের কৃষক পলাশ বসাক ও অনুপ বসাক বলেন, আমন ধান কাটার পর বোরো ধান লাগানোর আগ পর্যন্ত প্রায় আড়াই মাস জমি পতিত থাকে। আর সরিষা চাষাবাদ করলে ঠিক সময়ের মধ্যে ফসল তুলে নিয়ে তাতে ধান চাষ করা যায় তাতে কোনোরকম সমস্যা হয় না। দুফসলি জমিতে বাড়তি আর একটি ফসল চাষাবাদ করে কিছু অর্থনৈতিক সুবিধার জন্য আমরা সরিষা চাষাবাদ করে আসছি। আমি এবারে প্রায় ৯বিঘা জমিতে সরিষা রোপণ করেছি। বর্তমানে যে ধরনের আবহাওয়া রয়েছে তাতে করে সরিষা বেশ ভালো রয়েছে। এমন আবহাওয়া থাকলে তাতে করে এবারে আশা করছি সরিষার বেশ ভালো ফলন হবে। বেশ কয়েকবছর ধরেই সরিষা আবাদ করি কিন্তু এবারে আবহাওয়া ভালো থাকায় রোগ পোকা মাকড়ের তেমন কোনও সমস্যা না হওয়ায় ফলন ভালো হবে।

 

হিলির ইসমাইলপুরের কৃষক মহসিন আলী ও ইদ্রিস আলী বলেন, সরিষা চাষাবাদ থেকে শুরু করে সরিষা ক্ষেত থেকে উত্তোলন পর্যন্ত তেমন কোনও খরচ নেই। লাগানোর সময় সেচ ও সার দিয়ে রোপন করার পর সরিষা চাষে আর তেমন কোনও খরচ নেই। বাড়তি ফসল হিসেবে আমরা সরিষা পাই, প্রতি বিঘাতে সবমিলিয়ে ৩ হাজার টাকা খরচ হলেও যে পরিমাণ সরিষা পাওয়া যায় তাতে করে ৮/১০ হাজার টাকা পান কৃষকরা। এতে করে বিঘাতে ৫/৭ টাকা লাভ হয় কৃষকদের। সরিষা আবাদের ফলে পরিবারের যে তেলের চাহিদা সেটাও মিটছে। এছাড়া বাড়তি সরিষা বাজারে বিক্রি করে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। বাড়তি হিসেবে পাওয়া সরিষার গাছগুলো পরিবারের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। গতবছর ১৭০০-১৮০০ টাকায় বিক্রি করলেও এবারে সবধরনের তেলের দাম বেশি হওয়ায় সরিষার দাম ২ হাজারের বেশি হবে বলে আশা করছি।

 

মনতাজ হোসেন নামের আরেক কৃষক বলেন, সরিষা হলো একেবারে ফ্রি আবাদ, সরিষা চাষে তেমন কোনও খরচা নেই। যা পাই সেটাই লক্ষ্মী। বিঘাতে ৫/৭ মণ করে সরিষা পাই। এর ওপর সরিষা তুলে সেই জমিতে ধানও বেশ ভালো হয় তেমন কোনও সার দিতে হয় না।

 

হাকিমপুর উপজেলা কৃষি অফিসার ড. মমতাজ সুলতানা বলেন, কৃষকরা সরিষা চাষ করে আশানুরূপ দাম পাওয়ায় ও লাভজনক হওয়ায় কৃষকরা সরিষা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে। ফলে দিন দিন এই উপজেলায় সরিষার চাষাবাদ বাড়ছে। কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে সবধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে যাতে করে কৃষকরা আরও আশানুরূপ ফল পেতে পারে। এবারের আবহাওয়া সরিষা চাষের জন্য বেশ ভালো রয়েছে, রোগ পোকা মাকড়ের আক্রমণ না থাকায় ফসল ভালো রয়েছে। তাতে করে ভালো ফলনের আশা করছি।

  •  
  •  
  •  
  •