সবজি চাষে নীরব বিপ্লব

নিউজ ডেস্কঃ

বরেন্দ্রর মাটিতে সবজি চাষে যেন এক নীরব বিপ্লব ঘটছে। রাজশাহীর তানোর, পবা, গোদাগাড়ী, চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল, রহনপুর ও নওগাঁ জেলা বরেন্দ্র অঞ্চল হিসাবে পরিচিত। এখন শত শত কৃষক ধান চাষ ছেড়ে সবজি চাষ শুরু করেছেন।

ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমাতে বরেন্দ্র অঞ্চলে এখন বোরো ধান ছেড়ে অন্য ফসল চাষে উৎসাহী করছে কৃষি বিভাগ। কৃষক জানায়, কয়েক বছর ধরে বাজারে ধানের দাম কম থাকায় তাদের লোকসান গুনতে হয়েছে। তাই ধান চাষ বাদ দিয়ে তিন-চার বছর আগেই সবজি চাষ শুরু করেছেন।

সব ধরনের সবজির ভান্ডার এখন রাজশাহী। বিশেষ করে পবা, মোহনপুর আর গোদাগাড়ীর সবজির খ্যাতি দেশজুড়ে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এ তিন উপজেলার সবজি এখন বড় বড় মোকাম ধরছে। এতে ক্রমেই লাভবান হয়ে উঠছে কৃষক।

একসময় লাল মাটিতে ধানই ছিল প্রধান ফসল। এখন সে ধারা পাল্টে চাষাবাদ হচ্ছে সব ধরনের সবজির।

আলু চাষাবাদে কয়েক বছর ধরে কৃষক লাভবান হওয়ায় পাশাপাশি সবজি চাষে সবুজ বিপ্লব ঘটেছে তিন উপজেলায়। এর মধ্যে পবা ও মোহনপুরে সারা বছর চাষ হচ্ছে লাউ, কুমড়া, পুঁই, পালং, মুলা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন, পটোল, করলা আর গোদাগাড়ীতে বিপ্লব ঘটেছে টমেটো-শিম ও শসায়। দেশের বেশির ভাগ টমেটো এখন উৎপাদন হচ্ছে গোদাগাড়ীতে।

এসব উপজেলার বাড়ির আঙিনা থেকে শুরু করে ফসলের মাঠ সবখানেই সবজি আর সবজি। পবার মুরারীপুরের কৃষক মনোয়ার হোসেন ১০ বছর ধরে কপি চাষ করে আসছেন। এবার তিনি বর্গা নিয়ে ১১ বিঘা জমিতে প্রায় ৬ লাখ টাকা খরচ করেছেন। বিঘাপ্রতি কপি চাষ থেকে শুরু করে ফসল ওঠা পর্যন্ত ৫০ হাজার টাকা খরচ করেছেন। এবার ১ বিঘা জমির কপি ১ লাখ টাকার বেশি বিক্রি করেছেন।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, গোদাগাড়ীর টমেটো এখন জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখছে। রাজশাহীতে শীত মৌসুমে টমেটো উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ থাকে সাড়ে ৩ হাজার হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে কেবল গোদাগাড়ী উপজেলাতেই ২ হাজার ৯৫০ হেক্টরে টমেটো চাষ হয়। ফলে আমের পর টমেটো এ অঞ্চলে কৃষিবিপ্লব ঘটিয়েছে।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিফতরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) উম্মে ছালমা জানান, প্রতি বছরই গোদাগাড়ীতে টমেটো ও অন্যান্য সবজির চাষ বাড়ছে।

প্রথমবারের মতো জমিতে মাচায় শসা চাষ করেছেন কৃষক সানাউল্লাহ। আর প্রথমবারই তিনি দেখিয়েছেন চমক। তাঁর জমিতে হয়েছে বেশ বড় আকারের শসা। একটি শসার ওজন ২ কেজি পর্যন্ত হয়। শসা উৎপাদনের পর বিক্রির জন্য দেশের বিভিন্ন বাজারে পাঠানো হচ্ছে। এ শসার চাহিদা বেশ ভালো বলেও তিনি জানান।

  •  
  •  
  •  
  •  
ad0.3

Tags: