ছাদঁ নয় যেন নির্মল উদ্যান

নিউজ ডেস্কঃ

২৫শ’ বর্গফুটের ছাদে শোভা পাচ্ছে পুদিনা পাতা, বেগুন, মাল্টা, স্ট্রবেরি, ক্যাপসিকাম, কমলা, সূর্যমুখী, আম, লিচুসহ ফুল, ফল, সবজি মিলিয়ে প্রায় ৪৪ প্রজাতির গাছ। গাছে গাছে ঝুলে আছে বিভিন্ন রকমের ফল, ফুলসহ নানান রকমের সবজি। যে কারোর দেখেই মনে হবে এ যেন ছাদ নয় এক টুকরো নির্মল উদ্যান।
ব্যক্তিগত উদ্যোগে কৃষি ব্যাংক ফেনী শাখার ছাদে এমনই এক মনোমুগ্ধকর ছাদ কৃষি করেছেন বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ফেনী অঞ্চলের মুখ্য আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মো. মোস্তাফিজুর রহমান।

সোমবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ব্যাংক কর্মকর্তার আমন্ত্রণে ছাদ কৃষির এমন মনোমুগ্ধকর পরিবেশ পরিদর্শনে গিয়েছিলেন জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুজজামানসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক বলেন, জমিতেও যেসব সবজি মানুষ চাষ করার কথা চিন্তা করতে পারেনা সেসব প্রজাতির সবজি ফুল ফলের দেখা মিলছে এই ছাদে। যেটি খুবই মনোমুগ্ধকর। এমন ছাদ কৃষির ফলে মানুষ তার দৈনন্দিন খাবারের যে প্রয়োজন তা মেটাতে পারবেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, এই ছাদে স্ট্রবেরি হতে শুরু করে ক্যাপসিকাম যেগুলো বাজারে অনেক দাম সেসবসহ অনেক রকমের ফুল ফল সবজির গাছের দেখা মিলছে। যেগুলোর মানও অনেক বেশি ভালো। স্বাস্থ্যকর পরিবেশে এগুলো বেড়ে উঠছে। এ সময় তিনি বাসার ছাদে খালি জায়গা থাকলে অথবা বাসার আশেপাশে খালি জায়গায় বাগান করার পরামর্শ দেন।

ছাদ কৃষির উদ্যোক্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, কৃষি আমার অনেক পছন্দের। তাই কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার উদ্দেশ্যে আমার নিজ চেষ্টায় মাত্র ৮০ হাজার টাকা ব্যয়ে ছাদে এ বাগান করেছি। কীটনাশকমুক্ত সবজি ও ফল উৎপাদন করাই আমার লক্ষ্য। একটি ফল খেলে সবজি খেকে কীটনাশকমুক্ত খাবো।

তিনি বলেন, এইখানে প্রায় ৪৪ প্রজাতির ফুল, ফল সবজির গাছ রয়েছে। আজ থেকে ৬০ দিন আগে এগুলো লাগিয়েছিলাম। এরমধ্যে ৩ বার শাক জাতীয় সবজিগুলো আমরা রান্না করে খেয়েছি। সবুজায়ন ও কীটনাশক মুক্ত খাবার নিশ্চিত করতে এমন কৃষি বাগান করার আহ্বান জানান তিনি। এছাড়াও শহরে বাসার ছাদকে কাজে লাগিয়ে এমন বাগান করলে পরিবেশসহ মানুষ উপকৃত হবেন।

জানা গেছে, ওই কৃষি ব্যাংকের ছাদে শোভা পাচ্ছে পুদিনা, ধনিয়া পাতা,টমেটো, কলি কপি, লাল কপি,লাল শাখ, পালং শাখ, লেটুস পাতা, গোল আলু, লাল আলু, পেঁয়াজ, শসা, বরবটি, করলা, সরিষা, আম, পেয়ারা, লেবু, মাল্টা, স্ট্রবেরি, লিচু, কমলা, ডালিম, জাম্বুরা,আমলকি, মিষ্টি তেঁতুল, কাঁঠাল, সফেদা, আমড়া, গাঁদা, ডালিয়া, সূর্যমুখী, নটারফুল, পেঁপে, চিচিঙ্গা, শালগম, শিম, ঢাটাশাখ, ঢেঁড়স, মূলাসহ হরেক রকমের ফুল ফল ও সবজির গাছ।

বাগান পরিদর্শনকালে আরো উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক ড. মোহাম্মদ মঞ্জুরুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. গোলাম জাকারিয়া, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সুজন চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আজগর আলী, ফেনী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসরীন সুলতানা, পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াছমিন আক্তারসহ কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা কর্মচারীরা।

  •  
  •  
  •  
  •  
ad0.3

Tags: