সফল উদ্যোক্তা কৃষক ইউনুস

নিউজ ডেস্কঃ

কৃষক ইউনুস ভূঁইয়া কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার কাজিয়াতল গ্রামের একজন সফল উদ্যোক্তা। তিনি কুল, লেবু, মাল্টা, ফুলকপি, মরিচ, টমেটোর বাম্পার ফলন ফলিয়ে নিজ এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন। তিনি ১৮৩০ শতক জায়গায় গড়ে তুলেছেন নানা জাতের ফল ও সবজি বাগান।

জানা যায়, এই প্রজেক্টের ভিতর দুই হাজার পাঁচশো বল সুন্দরী জাতের কুল, সাত হাজার লেবু, সাথী ফসল ও মাল্টা গাছ লাগিয়েছেন তিনি। তার বাগানে বড়ইয়ের চমৎকার ফলন রয়েছে। গাছের পাতায় পাতায় বল সুন্দরী কুল দুলছে। এ জাতের কুল দেখতে খুব সুন্দর। খেতে মিষ্টি, অধিক রসালো ও পুষ্টিগুণে ভরপুর।

বাগানের মালিক কৃষক ইউনুস ভূঁইয়া জানান, আমি বিদেশে ছিলাম। বেকার হয়ে পড়েছিলাম। অনেক ভাবনা চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নিই যে আর অন্যের অধীনে চাকরি করব না। এবার উদ্যোক্তা হয়ে নিজেই কিছু একটা করব। তাই আমার পরিত্যক্ত নয় বিঘা (২৭০ শতক) জমির সাথে আরো ৫২ বিঘা (১৫৬০ শতক) জমি লিজ নিয়ে একটি মাছের প্রজেক্ট তৈরি করি। মাছের ব্যবসা ভালো না হওয়ায় প্রজেক্টের ভিতর বরই ও লেবুর বাগান করার সিদ্ধান্ত নিই। মাছের প্রজেক্টের মতো নিচু জায়গায় ফল বাগান করছি দেখে এলাকার মানুষ আমাকে পাগল বলছে। নানা রকম সমালোচনাও করছে।

তিনি আরো বলেন, চারা রোপণের পর মুরাদনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাইন উদ্দিন স্যার সার্বক্ষণিক বাগানটির খোঁজ খবর নিয়েছেন এবং গাছের পরিচর্যায় প্রয়োজন পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। চারা রোপণের তিন মাস পর বাগানের প্রতিটা গাছে কুল এসেছে। কুল বাজারে নিয়ে বিক্রি করতে হয় না। প্রতিদিন প্রচুর মানুষ বাগানে এসে কুল নিয়ে যায়। একটি গাছ ২৫-৩০ কেজি কুল আসে । একশ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছি। এই বাগানে প্রতিদিন ১৫ জন কৃষি শ্রমিক কাজ করে। এছাড়াও বাগানের নিরাপত্তার জন্য সার্বক্ষণিক দুইজন লোক নিয়োজিত আছে। আমার বিশ্বাস ছিল সফল হবো এবং হয়েছি।

মুরাদনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাইন উদ্দিন আহমেদ কুমিল্লায় সম্ভবত এর চেয়ে বড় প্রজেক্ট নাই উল্লেখ করে জানান, বিস্ময়কর হলেও সত্য, চারদিকে পাড় বাঁধানো ১৮৩০ শতক জমির মাছের প্রজেক্ট এখন ফল আর সবজিতে ভরপুর। গাছে কুল এসেছে, বিক্রিও করা হচ্ছে। লেবু রমজানের মধ্যে বিক্রি করতে পারবে। লেবুর ফাঁকে রয়েছে সাথী ফসল। আমি রীতিমতো এই কৃষি প্রজেক্টটি দেখাশোনা করছি।

কৃষক ইউনুস ভূঁইয়ার মত যারা উদ্যেক্তা হয়ে পরিত্যক্ত কৃষি জমিতে ফসল ফলাতে চান তাদের সার্বিক সহযোগিতায় মুরাদনগর কৃষি অফিস পাশে থাকবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।

  •  
  •  
  •  
  •