৫ লাখ বাগান বাড়ির পতিত জমিতে

নিউজ ডেস্কঃ

বাসা-বাড়ির আঙিনার পতিত জমি ভরে থাকবে নানান সবজি আর ফলে। মিটবে পরিবারের চাহিদা ও পুষ্টি। এছাড়া বিক্রি করেও পাওয়া যাবে নগদ টাকা। সবমিলিয়ে গড়ে উঠবে পারিবারিক পুষ্টি বাগান। চলতি বছরেই দেশজুড়ে দেখা মিলবে এমন দৃশ্যের।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অধীনে অনাবাদি পতিত জমি ও বসতবাড়ির আঙিনায় পারিবারিক পুষ্টিবাগান স্থাপন প্রকল্পের আওতায় দেশজুড়ে এমন বাগান গড়ে তোলা হবে। ৬৪ জেলার ৪৯২ উপজেলায় এসব পুষ্টি বাগানে প্রতিবছর ১৫টি ফসল ও ফলের চাষ হবে।

প্রকল্পের ফোকাল পার্সন ও কৃষিবিদ মো. মাইদুর বলেন, দেশের বিভিন্ন গ্রামে পাঁচ লাখ তিন হাজার ১৬০টি পারিবারিক পুষ্টি বাগান গড়ে তোলা হবে। দুই ভাগে এসব বাগান গড়ে তোলা হবে। এর মধ্যে দেড় শতকের মধ্যে চার লাখ ৮৮ হাজার ৪০০টি বাগান হবে। আর বাকি বাগানগুলো হবে পাঁচ শতক জায়গার ওপর।

এর মধ্যে স্যাঁতস্যাঁতে জায়গায় কচু জাতীয় ও ছায়াযুক্ত স্থানে হলুদ ও আদা ফসলের বাগান গড়ে তোলা হবে। তিন বছর মেয়াদী এ প্রকল্পে বছরে প্রতিটি বাগানে পাঁচটি করে ফল, ফসলের বেডে তিন মৌসুমে মোট ১৫টি ফসল উৎপাদন হবে। একটি বেডে তিনটি ফসলের ফলন পাবেন।

প্রকল্পের অধীনে প্রতি বাগানীকে পাঁচ হাজার টাকার উপকরণ দেওয়া হবে। প্রথম বছর সার, বীজ, চারা কলমসহ একাধিক উপকরণ দেওয়া হবে। দ্বিতীয় বছরে বাগান মেরামত ও চারা কলমের জন্যে দুই হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। পাশাপাশি ১০০টি কেঁচো বা জৈব সার ফার্ম গড়ে তোলার জন্যে সহায়তা দেওয়া হবে।

এছাড়া আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, বাগানসহ নানা বিষয়ে এক লাখ ৭৭ হাজার ১২০ জন বাগানীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। দেড় শতকের প্রতিটি বাগান থেকে বছরে প্রায় ৩৪০ থেকে ৩৯১ কেজি সবজি-ফল উৎপাদন হবে। আয় হবে প্রায় সাত হাজার টাকা।

তিনি বলেন, ইতিমধ্যে আমাদের কাজ শুরু হয়ে গেছে। মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা মূলত এসব কাজ সমন্বয় করবেন। এছাড়া আমরা বাগানীদের একটি তালিকাও তৈরি করব। ‍সার্বিক বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মহাপরিচালক কৃষিবিদ মো. আসাদুল্লাহ বলেন, গতকাল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী (একনেক) কমিটির সভায় প্রকল্পটি চূড়ান্তভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

মূল উদ্দেশ্যে হিসেবে তিনি জানান, প্রতিটি গ্রামের মানুষ বসতবাড়ির আঙিনা, পুকুর ও খালের পাড়, বাড়ির আশপাশ, স্যাঁতস্যাঁতে ছায়াযুক্ত অনাবাদি জমিতে শাকসবজি ও ফলমূল উৎপাদন করতে সার্বিক সহায়তা করা হবে। এতে মানুষের পুষ্টিহীনতা দূর হওয়ার পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তাও নিশ্চিত হবে।

  •  
  •  
  •  
  •