ধানের বাজারে স্থবিরতা

নিউজ ডেস্কঃ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ ধানের বাজার দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বৃহৎ ধানের বাজার বলে খ্যাত। সেখানে ধানের সরবারাহ নেমে এসেছে ১০ ভাগে। বাজারের এ স্থবিরতায় সমস্যায় পড়ছেন ধান বিক্রেতা-পাইকাররা। তবে ইরি-বোরো ধানের উৎপাদন স্বাভাবিক হলে বাজারে ধানের সরবরাহ ও বিক্রি স্বাভাবিক হবে বলে জানান আড়তদার ও মিল মালিকরা।

এদিকে ধানের দাম বেশি ও উৎপাদন খরচের চেয়ে চালের বাজারমূল্য কম থাকায় সরবরাহ হওয়া ১০ ভাগ ধানও ক্রেতার অভাবে বিক্রি হচ্ছে না বলেও জানা যায়।

সংশ্নিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৪০০ চাতাল কল সমৃদ্ধ আশুগঞ্জের মেঘনা নদীর বিওসি ঘাট এলাকার এ ধানের বাজার দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মধ্যে সর্ববৃহৎ। ব্রাহ্মণবাড়িয়া, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোনা জেলার উৎপাদিত ধান বিক্রি করতে কৃষক ও পাইকাররা এখানে নিয়ে আসেন। সারা বছরই প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এখানে চলে ধান বিক্রি। ভরা মৌসুমে গড়ে দৈনিক ৭০-৮০ হাজার মণ ধান সরবরাহ ও বিক্রি হয়।

জানা যায়, মৌসুমের শেষে প্রতি বছর ধানের সরবরাহ কমে যায় এবং দৈনিক গড়ে ৭-৮ হাজার মণ ধান সরবরাহ হয়। কিন্তু ধানের বাজারমূল্য বেশি থাকায় এ অল্প পরিমাণ ধানও বিক্রি করতে পারছেন না পাইকাররা। আড়তদার ও চাতাল মালিকরা জানান, শ্রেণি ও মানভেদে বর্তমানে ধানের বাজারমূল্য প্রতি মণ সাড়ে ১৩শ থেকে ১৫শ টাকা। এক মণ ধান থেকে সর্বোচ্চ ২৫ কেজি চাল হয়। মিলিংসহ অন্যান্য খরচ মিলিয়ে কেজিপ্রতি উৎপাদন খরচ পড়ে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। বর্তমান বাজারে প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) চাল ২৮শ টাকা বা এরও কমে বিক্রি করতে হয়। ফলে অনেক মিল চাল উৎপাদন বন্ধ রেখেছে। এ জন্য বাজারে ধানের বিক্রিও কমছে। তারা জানান, ইরি-বোরা ধান বাজারে এলে ধান-চালের বাজারমূল্য স্বাভাবিক এবং ধানের সরবরাহ ও বিক্রি স্বাভাবিক হবে।

ধানের পাইকার কয়েকজন জানান, ধানের আমন মৌসুম শেষ। এলাকায় ধান কম। কৃষকদের কাছ থেকেই বেশি দামে ধান কিনতে হচ্ছে। এদিকে ধান বিক্রি না হওয়ায় লোকসানের মুখে পড়ছেন বলে জানান তারা।

আশুগঞ্জ উপজেলা আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মিজানুর রহমান বলেন, ধানের মৌসুমে দৈনিক গড়ে ৬০-৭০ হাজার মণ ধানের সরবরাহ হলেও বর্তমানে তা গড়ে ৬-৭ হাজারের বেশি নয়। এদিকে ধানের বাজারমূল্য বেশি থাকায় বিক্রিও কম। তিনি আরও জানান, বর্তমানে প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) চালের উৎপাদন খরচ তিন হাজার টাকা পড়ছে। কিন্তু বাজারে প্রতি বস্তার বিক্রয়মূল্য ২৮শ টাকার বেশি নয়।

  •  
  •  
  •  
  •