পানির অভাবে হচ্ছে না আবাদ

নিউজ ডেস্কঃ

গোয়াইনঘাটের চাষিরা মহাসংকটে। আমন মৌসুমে থাকে অধিক জল আর শুস্ক মৌসুমে সেচের পানির থাকে প্রচুর অভাব। বর্ষায় থাকে পাহাড়ি ঢল আর শুস্ক মৌসুমে সেচকাজে থাকে প্রয়োজনীয় পানির অভাব। যা কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে এ অঞ্চলের কৃষকদের জন্য।

জানা যায়, গত বর্ষা মৌসুমে অতিমাত্রায় বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল আর কয়েক দফা বন্যায় কৃষকদের আমন ধানের ফলন নষ্ট হয়েছে। এখন শুস্ক মৌসুমে উপজেলার অধিকাংশ এলাকার খাল-বিল, হাওর-বাঁওড় আর জলাশয়ের পানি শুকিয়ে যাওয়াসহ নদ-নদীর পানিও অনেকটাই কমে গেছে। এ ছাড়া ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় অনেক এলাকার গভীর নলকূপ দিয়েও তেমন পানি উঠছে না। এতে করে দেখা দিয়েছে সেচকাজে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় পানির তীব্র সংকট। আর সেচের পানির সংকটের কারণে কৃষকরা এখন নতুন করে রোপা-ইরি-বোরো ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন।

কৃষক ফিরোজ মিয়া জানান, গত আমন ধানের মৌসুমে ৩০ হাজার টাকা খরচ করে তিনি প্রায় সাড়ে তিন একর জমিতে চাষাবাদ করেন। কিন্তু পাহাড়ি ঢল আর লাগাতার বন্যার কারণে তার সব ফসল নষ্ট হয়ে যায়। সেই শোক কাটিয়ে উঠতে না পারলেও মনের মাঝে নতুন করে সাহস জুগিয়ে এবার দুই একর জমিতে ইরি ও বোরো ধানের চাষ করেছেন। কিন্তু পানির অভাবে জমিতে সেচ দিতে না পারায় ফসল নিয়ে আবারও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুলতান আলী জানান, এ উপজেলায় এবার ৮ হাজার ১২৫ হেক্টর জমিতে ইরি ও বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও চাষাবাদ হয়েছে সাড়ে ৯ হাজার হেক্টর; যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে দেড় হাজার হেক্টর বেশি। গেল বর্ষায় ঢল আর বন্যায় আমন ধানের চাষাবাদ সুবিধাজনক না হওয়ায় কৃষকরা ইরি আর বোরো ধান চাষে বেশি মনোযোগী হয়েছেন। তবে সেচের পানির সংকট দেখা দিয়েছে। সে জন্য খাল ও জলাশয় খননে প্রস্তাবনা পাঠানো হচ্ছে শিগগির।

নলজুরী খাল পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক আজির উদ্দিন সরকার জানান, প্রতি বছরই পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে পলি ও বালি মাটি এসে উপজেলার নিম্নাঞ্চলের খাল-বিল, হাওর-বাঁওড় এবং জলাশয় ক্রমেই ভরাট হয়ে যাচ্ছে। ফলে জলাধারগুলোতে পানি মজুদের পরিমাণও কমে যাচ্ছে।

তিনি আরো জানান,ভূগর্ভস্থ পানির স্তরও এখন অনেকটাই নিচে চলে গেছে। যার কারণে অনেক এলাকার গভীর নলকূপ থেকেও ঠিকমতো পানি উঠছে না। সব মিলিয়ে গোয়াইনঘাটের হাওর-বাঁওড় এবং জলাশয়ে পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এ সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য পরিকল্পিতভাবে নদী-নালা, খাল-বিল ও জলাশয় খনন করে নদীর নাব্য রক্ষার পাশাপাশি বিভিন্ন জলাধারে পানি মজুদ করতে হবে। অন্যথায় এ অঞ্চলের কৃষি ক্ষেত্রে বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।

  •  
  •  
  •  
  •  
ad0.3

Tags: