হাওর থেকে বিদেশে যাচ্ছে হবিগঞ্জের বোতাম

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি:
প্রত্যন্ত হাওর অঞ্চলের নারীদের সুতা দিয়ে তৈরি বোতাম দেশের গণ্ডি পেরিয়ে রপ্তানি হচ্ছে সুদূর দুবাইসহ আরো অনেক দেশে। এখানে তৈরিকৃত বোতামের গুণগত মান ভালো ও দাম কম হওয়ায় দুবাইয়ে এর চাহিদা অনেক বেশি। বোতাম তৈরি করে সচ্ছল হয়েছেন এলাকার অন্তত ৬০০ পরিবার। তবে তাদের বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। সেগুলো দূর করলে আরও ভালো করতে পারবেন বলে দাবি উদ্যোক্তাদের।

জানা যায়, বানিয়াচং উপজেলার প্রত্যন্ত হাওর অঞ্চলের একটি গ্রাম দৌলতপুর। হবিগঞ্জ শহর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে গ্রামের অধিকাংশ পরিবারই এক সময় ছিল অসচ্ছল। এলাকার দুবাই প্রবাসীদের পরামর্শ ও সহযোগিতায় সুতা দিয়ে বোতাম তৈরি করে এখন ভাগ্য ঘুরেছে অনেকেরই। গৃহস্থালি কাজের পাশাপাশি একজন নারী দিনে ১৫০ থেকে ২০০ বোতাম তৈরি করতে পারেন। প্রতি পিস বোতাম বিক্রি হয় এক টাকা। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও এ কাজ করে চালিয়ে যাচ্ছেন লেখাপড়ার খরচ। তবে বোতাম তৈরি ও রপ্তানিতে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। সরকারি উদ্যোগে সেগুলো দূর করে উন্নত প্রশিক্ষণ ও স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়ার দাবি উদ্যোক্তাদের।

এ ব্যাপারে কলেজছাত্রী শুভরা রানী বলেন, ‘আমরা তিন বোন এক ভাই। গরিব বাবার পক্ষে ভরণ-পোষণ দেওয়াই কঠিন ছিল এক সময়। কিন্তু সুতা দিয়ে বোতাম তৈরি করে এখন ভালো চলছি। সংসারের খরচ চালিয়েও তিন বোন লেখাপড়া করছি। এখন আমরা অনেক সুখী।’

আরেক কলেজছাত্রী বিউটি আক্তার বলেন, ‘কলেজ থেকে এসে বোতাম তৈরি করতে বসলে ৬০/৭০টি বোতাম তৈরি করতে পারি। ফলে লেখাপড়ার পাশাপাশি মাসে ২/৩ হাজার টাকা আয় হয়। এ ছাড়াও অন্য ভাই-বোনরাও বোতাম তৈরি করে আমরা ভালো চলছি।’ তিনি বলেন, উন্নত প্রশিক্ষণসহ স্বল্প সুদে ঋণ দিলে এ কাজ করেই আমরা অনেক উন্নতি করতে পারতাম।

সাবেক ইউপি সদস্য ও বাজার কমিটির সভাপতি আজিজুর রহমান বলেন, কোনো প্রশিক্ষণ না পাওয়ার কারণে অনেক সময় কিছু কিছু বোতাম নষ্ট হয়ে যায়। তাই তাদের উন্নত প্রশিক্ষণের প্রয়োজন। বোতামের সুতাগুলো দেশের বাহির থেকে আনতে হয়। এ সময় ঢাকা এয়ারপোর্টে বিভিন্ন হয়রানির শিকার হতে হয়। এ ক্ষেত্রে সরকার যদি সুতা আমদানিসহ এয়ারপোর্টে হয়রানি বন্ধ করতে ব্যবস্থা নেয় তাহলে অনেক ভালো হয়।’

হবিগঞ্জ বিসিক শিল্পনগরীর প্রটোকল অফিসার মো. নাজমুল হোসাইন বলেন, যে কোনো উদ্যোক্তাদের জন্য সরকারি ঋণের ব্যবস্থা রয়েছে। উদ্যোক্তারা আবেদন করলে তাদের প্রশিক্ষণ ও ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

  •  
  •  
  •  
  •