করোনা মোকাবেলায় জাতীয় বাজেটে কৃষি খাতের বরাদ্দ বৃদ্ধি ও যৌক্তিকতা

ড. মোঃ সাইদুর রহমান

বিগত ১১ জুন জাতীয় সংসদে ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করা হয়েছে।  মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন, মুজিব বর্ষ উদযাপন, উন্নত দেশে রূপান্তরিত হওয়া ও করোনা মোকাবেলায় এ বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। ২০২০-২১ অর্থ বছরে সরকারের ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার এ বাজেট ২০১৯-২০ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের (৫,১০,৫৭৭ কোটি টাকার) চেয়ে ১৩.২ শতাংশ বেশি এবং ঐ বছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ৫,২৩,১৯০ কোটি টাকার চেয়ে ৮.৬ শতাংশ বেশি। বাজেটের আয় ১ লক্ষ ৮৩ হাজার ১৩ কোটি টাকা যা গত বছরের সংশোধিত বাজেটের (১,৫১,৫২৩ কোটি টাকা) চেয়ে ৮.৭ শতাংশ বেশি। ব্যয় নির্বাহে ঘাটতি ১ লক্ষ ৯০ হাজার কোটি টাকা যা গত বছরের ঘাটতি ১,৫৩,৫০৮ কোট টাকার চেয়ে ২৩.৮ শতাংশ বেশি। উক্ত ঘাটতি বৈদেশিক সাহায্য এবং আভ্যন্তরীণ ব্যাংকিং খাত থেকে সরকার ধার করে পরিচালনা করবে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীতে সরকারের বরাদ্দ ২ লক্ষ ৫ হাজার ১ শত ৪৫ কোটি টাকা যা গত বছরের সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ৬.৩ শতাংশ বেশি। করোনার কারণে বাজেটে ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রবৃদ্ধি ৫.৪ শতাংশ এবং ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৮.২ শতাংশ প্রাক্কলন করা হয়েছে। এছাড়া বাজেটে মূল্যস্ফীতি ধরা হয়েছে ৫.৪ শতাংশ।করোনর প্রকোপ না কমলে প্রাক্কলিত প্রবৃদ্ধি অর্জন হওয়া দুষ্কর হবে বলে অর্থনীতিবিদদের ধারণা।

করোনা পরিস্থিতিতে কৃষি খাতে ২৯ হাজার ৯ শত ৮১ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে যা ২০১৯-২০ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের ২৭ হাজার ১৮ কোটি টাকার চেয়ে ১১ শতাংশ বেশি। তবে তা ঐ বছরের প্রস্তাবিত ২৮ হাজার ৩ শত ৫১ কোটি টাকার চেয়ে মাত্র ৫.৮ শতাংশ বেশি। কৃষি খাতের বাজেটে ৫ টি মন্ত্রণালয় অন্তর্ভূক্ত রয়েছে। এসব মন্ত্রনালয়ের মধ্যে কৃষি মন্ত্রণালয় যার বরাদ্দ ১৫ হাজার ৪ শত ৩৭ কোটি টাকা যা গত বছরের বরাদ্দের চেয়ে ১৯ শতাংশ বেশি; মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় যার বরাদ্দ ৩ হাজার ১ শত ৯৩ কোটি টাকা যা গত বছরের বরাদ্দের চেয়ে ২৬ শতাংশ বেশি; পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় যার বরাদ্দ ১ হাজার ২ শত ৪৭ কোটি টাকা যা গত বছরের বরাদ্দের চেয়ে ১৬ শতাংশ বেশি; ভুমি মন্ত্রণালয় যার বরাদ্দ ২ হাজার ১৫ কোটি টাকা যা গত বছরের বরাদ্দের চেয়ে ১৯ শতাংশ বেশি এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় যার বরাদ্দ ৮ হাজার ৮৯ কোটি টাকা যা গত বছরের বরাদ্দের চেয়ে ০.০৮ শতাংশ কম। কৃষি খাতে পরিচালন বরাদ্দ ১৯ হাজার ৭ শত ২৫ কোটি টাকা এবং উন্নয়ন বরাদ্দ ১০ হাজার ২ শত ৫৬ কোটি টাকা এবং উন্নয়ন ব্যয় মোট বরাদ্দের ৩৪ শতাংশ গত অর্থবছরে যা ছিল মোট বরাদ্দের ৪০ শতাংশ। সংখ্যাতাত্ত্বিক বিচারে কৃষি খাতে উন্নয়ন বরাদ্দ কমানো হয়েছে ৫.৮ শতাংশ। মোট বরাদ্দ ও উন্নয়ন বরাদ্দ উভয়ই সবচেয়ে বেশি বাড়ানো হয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বাজেটে যার বৃদ্ধিও পরিমাণ যথাক্রমে ২৬ ও ৫৬.৮ শতাংশ। এ বৃদ্ধির এ হার বিগত যে কোন অর্থবছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেশি। আশা করা যায় করোনা মোকাবেলায় বাজেটে সংশ্লিষ্ট খাতে এ বর্ধিত বরাদ্দ প্রাণিজ উৎস থেকে পুষ্টি চাহিদা মেটাতে বিশেষভাবে ভূমিকা রাখবে। তাছাড়া মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে গ্রামীণ কর্মসংস্থান ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং পাবে যা অত্যন্ত আশা ব্যঞ্জক দিক।

বর্তমান শেখ হাসিনার সরকার কৃষিতে আগাগোড়াই বেশি গুরুত্ব দিয়ে আসছে। কোভিড-১৯ মোকাবেলায় ১ লক্ষ ৩ হাজার ১ শত ১৭ কোটি টাকা প্রণোদনা দিয়েছে যার মধ্যে ৫ হাজার কোটি টাকা ৪ শতাংশ সুদে শুধুমাত্র কৃষির সাথে সংশ্লিষ্ট ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য। সরকার এ অর্থবছর সকল খাতসমূহে মোট ৩৮ হাজার ৬ শত ৮৮ কোটি টাকা ভর্তুকির প্রস্তাব করেছে যা গত বছরের সংশোধিত বাজেটের ৩১ হাজার ৯ শত ৮৩ কোটি টাকার চেয়ে ২০ শতাংশ বেশি। উক্ত ভর্তুকির ২৪.৫ শতাংশই প্রদান করা হয়েছে কৃষি খাতে যার পরিমাণ ৯ হাজার ৫শত ১ কোটি টাকা যা গত বছরের সংশোধিত বরাদ্দ ৮ হাজার ১ কোটি টাকার চেয়ে ১৯ শতাংশ বেশি। এ বাড়তি বরাদ্দের মধ্য দিয়ে সরকার কৃষিকে গুরুত্ব সহকারে দেখেছে তাতে কো সন্দেহ নেই।

আগামী ২০২০-২১ অর্থবছরে মোট ৩হাজার ২ শত ১০ হাজার মে. টন চাল-গম ক্রয় করা হবে যা পূর্বের বছরের তুলনায় ১৬ শতাংশ বেশি। টাকার হিসাবে উক্ত চাল-গম ক্রয় করা হবে ১৩ হাজার ৭ শত ৮৪ কোটি টাকার যা ২০১৯-২০ অর্থবছরে ব্যয়ের চেয়ে ১৭ শতাংশ বেশি। মোট চাল-গম ক্রয়ে ব্যয়ের হিসাবে দেখা যায় যে, আভ্যন্তরীণ বাজার থেকে চাল ক্রয়ে ৬৮.৯ শতাংশ ব্যয় এবং গম ক্রয়ে ৪.৭ শতাংশ ব্যয় ক্রয় করা হবে। অন্যান্য দেশ থেকে খুব কম পরিমাণ চাল আমদানি করা হলেও গম আমদানিতে সরকার বেশি ব্যয় করে থাকে।

কৃষি খাতে সার্বিক বরাদ্দ বাড়েনি, বাড়েনি উন্নয়ন খাতেও কৃষির বরাদ্দ তথাপিও কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক। করোনায় প্রমাণিত হয়েছে যে, কৃষিই বাংলাদেশের অর্থনীতির সবচেয়ে মজবুত জায়গা। এটা প্রমানিত যে, বন্যা, খড়া, ঘূর্ণিঝড় যদি কৃষিকে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ না করে তাহলে কৃষি তার যোগান প্রাক্কলিত হারেই দিয়ে যায়। বহুল জনসংখ্যার এ দেশকে খাদ্য দ্রব্য সরবরাহে তেমন কোন অসুবিধায় পরতে হয় না। আর সে কারণে স্বাভাবিকভাবে কৃষির সাথে সংশ্লিষ্ট সকলেই কৃষিতে একটু বেশি বরাদ্ধ আশা করে। যার প্রতিফলন এবারের বাজেটেও রয়েছে। তবে করোনাকে মোকাবেলা করার জন্য প্রত্যাশা স্বাভাবিকভাবেই আর একটু বেশি।

বাজেটে জিডিপি’র প্রবৃদ্ধি, কৃষি খাতে বরাদ্ধ, কৃষির অবদান এবং কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধির তুলনামূলক চিত্রঃ

বর্ণনা বাজেট
২০২০-২১
সম্পুরক বাজেট
২০১৯-২০
বাজেট
২০১৯-২০
বাজেট
২০১৮-১৯
জিডিপি’র প্রবৃদ্ধি (%) ৮.২ ৫.২০ ৮.১৩ ৮.১৫
কৃষি খাতে বরাদ্দ (%) ৫.৩ (৩.৬*) ৫.৪ (৩.৭*) ৫.৪  ৫.৭
উন্নয়ন খাতে কৃষিতে বরাদ্দ (%) ৫.৫ ৫.৫ ৫.৪ ৫.৫
জিডিপিতে কৃষির অবদান(%)) ১৩.৮০** ১৩.৬০ ১৩.৬৫ ১৪.৭৪
কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধি(%) ৩.৯৫** ৩.৯২ ৩.৭ ৩.৮

তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশ পরিসংখ্যাণ ব্যুরো, অর্থ ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন রিাের্ট
*ভর্তুকি, পেনশন ও অন্যান্য সুবিধা ব্যতীত বরাদ্দের শতাংশ
**আগামী অর্থবছরে কৃষির অবদান ও প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন একটু বেশি করা হতে পারে বলে অনুমেয়।

বাজেটে শস্যখাতে আমদানি, রপ্তানি ও সরবরাহের বিপর্যস্ত হওয়ার বিষয় উল্লেখ করে বোরো ধান কর্তনে অনিশ্চয়তা দূর করা হয়েছে। গম আমদানির চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা এবং সবজি সরবরাহ ঠিক রাখতে সবজি বাজারজাতকরণে উৎসাহ দিতে সরকার ব্যবস্থা নিবে। কৃষি খাতে ভর্তুকি, সার, বীজসহ অন্যান্য কৃষি উপকরণে প্রণোদনা ও সহায়তা কার্ড, কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা এবং স্বল্প সুদে ও সহজশর্তে বিশেষ কৃষি ঋণ সুবিধা প্রদান অব্যাহত রাখা হবে। বর্তমানে কৃষি উপকরণ সহায়তা কার্ডধারী কৃষকের সংখ্যা ২ কোটি ৮ লক্ষ ১৩ হাজার ৪৪৭ জন যা উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় বেশি।

বাজেটে বিগত সময়ে ১০৯টি জলবায়ু সহনশীল জাত উদ্ভাবনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। শস্য বহুমুখীকরণ, ফসল সংগ্রহোত্তরক্ষতি কমানো, খামার যান্ত্রিকীকরণ জোরদারকরণ এবং বাস্তবায়নের জন্য আগামী অর্থবছর ৩ হাজার ১ শত ৯৮ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ, কৃষি পুন: অর্থায়ন স্কীমে ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা, রাসায়নিক স্যারসহ অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে ভর্তুকি অব্যাহত রাখার ঘোষণা সরকারের অত্যন্ত প্রশংসনীয় উদ্যোগ।

বাজেটে দেশে মাছ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্নতা অর্জন, মিঠা পানির মাছের নতুন জাত উদ্ভাবন গবেষণা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া, সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ আহরণে নতুন প্রযুক্তি উন্নয়নে উদ্যোগ গ্রহণ এবং প্রস্তাবিত সামুদ্রিক আইন-২০২০ অনুমোদনের পদক্ষেপ গ্রহণ এবং তার সঠিক বাস্তবায়ন, গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার জন্য জাহাজ সংগ্রহের প্রকল্প গ্রহণ, ব্লু ইকোনমির সুফল পাওয়ার জন্য গভীর সমুদ্রে জেলেদের ব্যবহৃত ইলেকট্রিক্যাল সিগনেলিং উপকরণে আমদানি শুল্ক হ্রাস করার প্রস্তাব এবং বেসরকারী খাতেও গভীর সমুদ্র থেকে মাছ সংগ্রহের পৃষ্ঠপোষকতার ঘোষণা সামুদ্রিক মাছ আহরণের অপার সম্ভাবণাকে আরো বেগবান করবে।

প্রাণিসম্পদ খাতে বিশেষ করে গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগী ইত্যাদি পালনে অভূতপূর্ব অগ্রগতি হয়েছে, ডিম ও দুধ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে উৎপাদন ও গবেষণা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা, ডিম-দুধ বাজারজাতকরণে সরকারী সহযোগিতা বৃদ্ধি, নতুন জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবণে গবেষণায় এবং প্রশিক্ষণে অনুদান বৃদ্ধির পদক্ষেপ কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবণাময় প্রাণিসম্পদ খাতকে নি:সন্দেহে গতি সঞ্চার করবে।

এছাড়া কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য নিরাপত্তায় গৃহীত কার্যক্রম চালু রাখার জন্য বাজেটে ২২ হাজার ৪ শত ৮৯ কোটি টাকা বরাদ্ধ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে যা গত অর্থবছরের চেয়ে ৪.৬৮ শতাংশ বেশি। কৃষি ও কৃষি সংশ্লিষ্ট ঋৎপাদন ও সেবা, ক্ষুদ্র ব্যবস্যা ও কুটির শিল্প ইত্যাদি খাতে দরিদ্র কৃষক, প্রবাসী শ্রমিক এবং প্রশিক্ষিত যুবকদের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট ৪ টি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ২ হাজার কোটি টাকা ঋণ প্রদানের প্রস্তাব করোনা পরিস্থিতিতে সবাইকে আশাবাদী করে তুলেছে।সাপ্লাই চেইনকে আরো নির্বিঘ্ন করার জন্য ১৯৫ টি গ্রোথ সেন্টার বা হাটবাজারকে উন্নয়ন করা, ১৯টি পণ্যে পাটজাত মোড়ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে ১২ কোটি জনদিবস প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ গ্রহণ, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য যেমন চাল, আটা, আলু, পেঁয়াজ, রসুন ইত্যাদি স্থানীয় পর্যায়ে সরবরাহের ক্ষেত্রে উৎসে আয়কর ৫ শতাংশ থেকে ২ শতাংশে নামিয়ে আনা, পোল্ট্রি শিল্পের বিকাশের জন্য তাদের খাদ্যে ব্যবহৃত কাঁচামাল আমদানিতে আয়কর ২শতাংশে নামিয়ে আনা, দেশে উৎপাদিত আলু থেকে পটেটো ফ্লেক্স তৈরিতে এবং ভুট্টা ব্যবহার করে স্থানীয় পর্যায়ে স্টার্চ উৎপাদনে মূল্য সংযোজন কর ১৫ শতাংশ থেকে হ্রাস করে৫ শতাংশে হ্রাস করা হবে যা অত্যন্ত ফলপ্রসূ পদক্ষেপ। অন্যদিকে পেঁয়াজ চাষীরা যেন ন্যায্য মূল্য পায়, মধু চাষীদের স্বার্থ সংরক্ষণে এবং পোল্ট্রিখাতের প্রতিরক্ষণে প্রক্রিয়াজাত মুরগীর অংশ বিশেষসহ সংশ্লিষ্ট সকল আমদানির ক্ষেত্রে শুক্ল বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে যা আভ্যন্তরীণ উৎপাদনকে অবশ্যই উৎসাহীত করবে।

সবশেষে, কৃষির বিভিন্ন সেক্টর যেমন শস্য, মৎস্য এবং গবাদিপশু বীমা চালু করার উদ্যোগ কৃষক, জেলে, খামারীসহ সংশ্লিষ্ট সেক্টরে বিনিয়োগকারীদের বিশেষভাবে উজ্জীবিত করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সরকারের বাজেটে উল্লেখিত ইতিবাচক প্রস্তাবনার যথাযথ বাস্তবায়ন হলে দেশের কৃষি, কৃষক এবং কৃষির সাথে সংশ্লিষ্ট সকলে উপকৃত হবে। তবে করোনাভাইরাসের ভয়াবহতা মোকাবেলার জন্য আরো কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন ছিল যা প্রচার মাধ্যম ও বিভিন্ন বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় উঠে এসেছে যেমন- কৃষি দ্রব্যের সর্বনিম্ন মূল্য ঘোষণা, ধান-চাল ক্রয় ও সংগ্রহ আরো বাড়ানো, কৃষকদেরকে উৎসাহ দেবার জন্য বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার মন্ডল প্রস্তাবিত মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ‘কৃষক উদ্দিপন ফান্ড’ নামে কৃষকেদের আবাদী জমির বিপরীতে ২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা এবংকৃষি শিক্ষা ও গবেষণায় ১ হাজার কোটি টাকা থোক বরাদ্দ করা হলে কোভিড-১৯ এর বিপর্যয় ঠেকানো যেত বলে আশা করা যায়। এছাড়া, কৃষির সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি শক্তিশালী কৃষি কমিশন থাকা প্রয়োজন যারা বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন কারণে এবং বিভিন্ন দেশের কৃষি পণ্যের সাথে সংগতি রেখে আগাম প্রক্ষেপণ ও সরকারের নীতি প্রণয়নে যথাযথ পরামর্শ প্রদান করতে পারবে।

উল্লেখিত সুপারিশসমূহ সরকারের চুড়ান্ত বাজেটে অন্তর্ভূক্ত হবে এ প্রত্যাশা রেখে আসুন আমরা সকলে মিলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহ্বানে সাড়া দিয়ে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং প্রাণঘাতী করোনার রাহুগ্রাস থেকে দেশের মানুষকে রক্ষা করি।

লেখকঃ অধ্যাপক ড. মোঃ সাইদুর রহমান, কৃষি অর্থনীতি বিভাগ এবং পরিচালক, ইনস্টিটিউট অব এগ্রিবিজনেস এন্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিস, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ, saidurbau@yahoo.com

  •  
  •  
  •  
  •