আলুর দাম কিছুটা কমেছে

নিউজ ডেস্কঃ

আলুর দাম কমতে শুরু করেছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাজধানীর বাজার থেকে অনেকেই ৪৫ টাকা কেজি দরে আলু কিনতে পেরেছেন। ৫ টাকা কমে আলু পাওয়ায় ক্রেতাদের অনেকেই খুশি। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ধীরে ধীরে আলুর দাম আরও কমে আসবে।

রাজধানীর মানিকনগরে থাকেন আবুল হাসান। তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। করোনার কারণে তার বেতন অর্ধেক কমেছে। কিন্তু আলু দাম ৬০ টাকা হওয়ায় বড় বিপদে ছিলেন। তিনি বলেন, ৪৫ টাকায় এক কেজি আলু পাওয়া অনেকটাই ভাগ্যের ব্যাপার ছিল। তার ধারণা ছিল, বৃষ্টির অজুহাতে সবজির দাম আরও বাড়বে। তিনি হয়তো সবজি কিনতেই পারবেন না। কিন্তু অবাক করা ব্যাপার, সবজির দামও এই বৃষ্টির মধ্যে নতুন করে বাড়েনি।

এ প্রসঙ্গে কাওরান বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী নাছির বলেন, মাস খানেকের মধ্যে আলু ৩৫ টাকায় নেমে আসতে পারে। একইভাবে শীতের সবজির দামও কমে আসবে।

খুচরা বাজারে আলুর দাম আগামী দু-তিন দিনের মধ্যে সরকার নির্ধারিত দামের নিচে নেমে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

সরকারি বিপণন সংস্থা টিসিবি’র তথ্য বলছে, গত চার দিনের ব্যবধানে আলুর দাম কমেছে ৯. ৫৭ শতাংশ। শুধু আলুই নয়, আমদানি করা পেঁয়াজের দামও কমেছে। চীন, পাকিস্তান ও মিয়ানমার থেকে আমদানি করা প্রতিকেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬৫-৭৫ টাকা। টিসিবি’র হিসাবে, ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে আমদানি করা পেঁয়াজের দাম কমেছে ৯.৬৮ শতাংশ। এছাড়াও দাম কমার তালিকায় রয়েছে চাল, ডাল, মুরগি ও জিরা।

চাল ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত এক সপ্তাহে প্রতিকেজিতে ৪ টাকা কমেছে মোটা চালের দাম। আগের সপ্তাহে মোটা চাল ৫২ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে। শুক্রবার সেই চাল ৪৮ টাকায় তারা বিক্রি করছেন। একইভাবে চিকন ও মাঝারি চালের দামও কেজিতে ২-৪ টাকা পর্যন্ত কমেছে বলে জানান কাওরান বাজারের চাল ব্যবসায়ী আজিবর রহমান।

তবে ক্রেতাদের অধিকাংশই বলছেন, নতুন করে জিনিসপত্রের দাম না বাড়লেও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে রয়েছে অধিকাংশ পণ্যের দাম। মানিকনগর এলাকার বাসিন্দা আবদুল আজিজ বলেন, ‘আগের মতোই চড়া দামে সবজি কিনতে হয়েছে।’

বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত সপ্তাহের একশ’ টাকার ওপরে প্রতিকেজি বরবটি ও শসা এখন ১০০ টাকার নিচেই পাওয়া যাচ্ছে। তবে স্বস্তি মিলছে না কাঁচা মরিচ ও পেঁয়াজের দামে। এক কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে এখনও ২৫০ টাকায়। পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০-৯০ টাকায়।

বাজারে এখনও ৫/৬ প্রকার সবজির কেজি একশ’ টাকার ওপরে। পেঁপের দাম কমে ৪০ টাকার ঘরে। শিম, পাকা টমেটো, গাজর, বেগুন ও উচ্ছের কেজি ১০০ টাকার বেশি। অবশ্য শিমের দাম কিছুটা কমে ৯০ টাকায়ও বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ১২০-১৪০ টাকা। আর শসার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ১০০ টাকা। বরবটির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ১২০ টাকা। বেগুন গত সপ্তাহের মতো ১১০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। দাম অপরিবর্তিত রয়েছে উচ্ছের। প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়। পটলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা, গত সপ্তাহের মতো ঢেঁড়সের কেজি ৮০ টাকা, ঝিঙার কেজি ৮০ টাকা ও কাঁকরোল ৭০ টাকা। লাউ গত সপ্তাহের মতো বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়। এক হালি কাঁচা কলা বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকা। বাজারে আসা শীতের আগাম সবজি ফুলকপি ও বাঁধাকপির পিস বিক্রি হচ্ছে ৩০-৫০ টাকা।

  •  
  •  
  •  
  •