জাবি উপাচার্যের বিরুদ্ধে অনৈতিক বিলাসিতার অভিযোগ!

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলামের অনৈতিক বিলাসিতার পিছনে প্রতি বছর বিশাল অংকের অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়কে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মানুয়ায়ী, একজন উপাচার্যের জন্য ১টি গাড়ি বরাদ্দ রয়েছে। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পরপরই দেশের প্রথম এই নারী উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪টি গাড়ি ব্যবহার করা শুরু করেন। এই নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে তুমুল সমালোচনা শুরু হয়। পরবর্তীতে শিক্ষকদের সমালোচনার মুখে তিনি ১টি গাড়ি কমিয়ে ৩টি গাড়ি ব্যবহার করা শুরু করেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম নিজে চলাচলের জন্য পাজারো ব্রান্ডের (ঢাকা মেট্টো ঘ ১৫-২২০৭) গাড়িটি ব্যবহার করেন। ফিল্ডার (ঢাকা মেট্টো গ ৩৩-৯৪৭৬) এবং ল্যান্সার (ঢাকা মেট্টো গ ২০-২৩৬৯) ব্রান্ডের অপর দু’টি গাড়ি যথাক্রমে উপাচার্যের স্বামী ও পুত্র ব্যবহার করেন। এছাড়া প্রথম দিকে উপাচার্যের পুত্রবধূও একটি গাড়ি ব্যবহার করতেন।

এদিকে উপাচার্যের একটি গাড়ির জন্য প্রতি মাসে সাত’শ লিটার তেলের খরচ বহন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন অফিস। এছাড়া উপাচার্যের পুত্র ও স্বামীর চলাচলের জন্য ব্যবহৃত বাকি ২টি গাড়ির তেলের খরচও বিশ্ববিদ্যালয়কে বহন করতে হয়। কয়েক মাস আগে নেত্রকোনায় উপাচার্যের স্বামী বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ি নিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হন। পরে সেই গাড়ি মেরামত করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন অফিসকে প্রায় দেড় লক্ষাধিক টাকা খরচ করতে হয়।

উপাচার্যের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে উপাচার্যের গাড়ির জ্বালানি বাবদ ব্যয় হয় ৪ লক্ষ ৭৫ হাজার ৪৩২ টাকা এবং উপাচার্যের গাড়ির রক্ষনাবেক্ষণ ও মেরামতের জন্য ব্যয় হয় ৬ লক্ষ ২১ হাজার ৭৯৫ টাকা। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে উপাচার্যের গাড়ির জ্বালানি বাবদ ব্যয় হয় ৫ লক্ষ ৭ হাজার ৪৩৮ টাকা এবং উপাচার্যের গাড়ির রক্ষনাবেক্ষণ ও মেরামতের জন্য ব্যয় হয় ৩ লক্ষ ১৪ হাজার ৫৪০ টাকা। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে উপাচার্যের গাড়ির জ্বালানি বাবদ ব্যয় হয় ৫ লক্ষ ৯১ হাজার ৫৯৯ টাকা এবং উপাচার্যের গাড়ির রক্ষনাবেক্ষণ ও মেরামতের জন্য ব্যয় হয় ৬৫ হাজার ৪২ টাকা। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে উপাচার্যের গাড়ির জ্বালানি বাবদ ব্যয় হয় ৪ লক্ষ ৮৫ হাজার ৪৩২ টাকা এবং উপাচার্যের গাড়ির রক্ষনাবেক্ষণ ও মেরামতের জন্য ব্যয় হয় ৬ লক্ষ ২১ হাজার ৭৯৫ টাকা। বিগত ৪ বছরে শুধু উপাচার্যের গাড়ির রক্ষনাবেক্ষণ, মেরামত ও জ্বালানি বাবদই ব্যয় হয়েছে ৩৬ লক্ষ ৮৩ হাজার ৭৩ টাকা।

এছাড়াও গত ৪ বছর ধরে উপাচার্যের স্বামী এবং পুত্রের ব্যবহৃত ২টি গাড়ির রক্ষনাবেক্ষণ, মেরামত ও জ্বালানির ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয় বহন করে আসছে। তবে সে ব্যয়ের হিসাব জানা যায় নি। এসব কারণে প্রতি বছর পরিবহন খাতে কোটি টাকা ভর্তূকি দিতে হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়কে। এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিন জন ড্রাইভারসহ উপাচার্যের বাসায় মোট কর্মচারী রয়েছে মোট ১৩ জন। যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই প্রো-উপাচার্যের বাসায় কর্মচারী রয়েছে মাত্র ১ জন করে। আর উপাচার্যের বাসভবনে শুধু শীতাতপ নিয়ন্ত্রন যন্ত্রই (এসি) সংযুক্ত করা হয়েছে ১২টি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা মনে করেন, উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে ধারণ করেন না। এগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থের অপচয় ও আর উপাচার্যের অনৈতিক বিলাসিতা ছাড়া আর কিছুই না। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলামের অনৈতিক বিলাসিতার বিষয়ে জানতে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।

  •  
  •  
  •  
  •