কবে আলোর মুখ দেখবে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়!

খুলনা প্রতিনিধি:
খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে দীর্ঘসূত্রিতার অভিযোগ উঠেছে। কবে আলোর মুখ দেখবে এটা এখনও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। ২০১৫ সালে জাতীয় সংসদে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় বিল পাস হয়। বিল পাস হওয়ার পর খুলনাবাসী আশান্বিত হয়েছিল দ্রুততম সময়ের মধ্যে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়ন হবে। কিন্তু সেটি আর বেশিদুর এগোয়নি।

সাড়ে তিনবছর পর গত সেপ্টেম্বর মাসে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য ড. শহীদুর রহমান হিসেবে নিয়োগ পান।

এদিকে, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে দীর্ঘসূত্রিতায় জমি অধিগ্রহণের ব্যয় বাড়ছে। তিন বছরে জমির মূল্য বেড়েছে প্রায় তিনগুণ।

সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালের ৫ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খুলনায় একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেন। সেই প্রতিশ্রুতির প্রায় চার বছর পর ২০১৫ সালের ৫ জুলাই জাতীয় সংসদে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বিল পাস হয়। বিল পাস হওয়ার তিন বছর পর গত ১১ সেপ্টেম্বর প্রথম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন প্রফেসর ড. মো. শহীদুর রহমান।

দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ধীরগতিতে এতদিন হতাশায় ভুগছে খুলনার মানুষ। উপাচার্য নিয়োগের পর নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। কিন্তু কবে নাগাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হবে সেটা সঠিকভাবে বলতে পারছেন না নতুন উপাচার্য কিংবা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ইতোপূর্বে একটি প্রকল্প তৈরি করা হলেও সেটি স্থগিত করা হয়। নতুন উপাচার্য নিজেই এখন প্রকল্প তৈরি করবেন। সেই প্রকল্প অনুমোদনের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শুরু হবে। এখন কবে নাগাদ সেই কাজ শুরু হয়-সেটা জানার অপেক্ষায় রয়েছে খুলনার মানুষ।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণার পর ২০১১ সালের ২৪ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান নির্ধারণের জন্য তৎকালীন সিটি মেয়র তালুকদার আবদুল খালেককে প্রধান করে ১২ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। তারা নগরীর দৌলতপুরে কৃষি সম্প্রসারণ প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের অব্যবহৃত ৫০ একর জমিসহ ব্যক্তি মালিকানাধীন ১২ একর জমি নিয়ে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও কৃষি সম্প্রসারণ প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের জমিতে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রস্তাব অনুমোদন দেয়। এর পর শুরু হয় জমি অধিগ্রহণের কাজ। ২০১১ সালের ৯ নভেম্বর জমির ম্যাপ, দাগ-খতিয়ানসহ অন্যান্য তথ্য উপাত্ত চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) উপ-পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) নূর মোহাম্মদ মোল্লা খুলনার জেলা প্রশাসককে চিঠি দেন। ওই বছরের ২৭ নভেম্বর জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে যাবতীয় কাগজপত্র পাঠানো হয়। তখন ওই ৬২ একর জমির দাম ছিল ৪০ কোটি টাকা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠামো নির্মাণের জন্য একটি প্রকল্প তৈরির কাজও শুরু হয়। কিন্তু আইন তৈরি না করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভৌত কাজ শুরু করা যাবে না এমন আলোচনার পর প্রকল্প তৈরির কাজ থমকে যায়। মন্ত্রণালয় থেকে আইন তৈরির ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়।

২০১৫ সালের ৫ জুলাই সংসদে ‘খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বিল-২০১৫’ পাস হয়। এরপর ফের জমি অধিগ্রহণের জন্য ব্যয় প্রাক্কলন পাঠানোর জন্য খুলনার জেলা প্রশাসনকে চিঠি দেয় ইউজিসি। ২০১৭ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি আড়ংঘাটা মৌজার ৬২ একর জমির প্রাক্কলন ব্যয় ইউজিসিতে পাঠায় খুলনার জেলা প্রশাসন। তখন এই জমির অধিগ্রহণ ব্যয় ধরা হয় ১৩১ কোটি ২৪ লাখ টাকা।

বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির মহাসচিব শেখ আশরাফ উজ জামান নিউজবাংলাদেশকে বলেন, খুলনাবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন এ অঞ্চলে একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হবে। কিন্তু সব কাজে ধীরগতির কারণে সেই স্বপ্ন হতে বসেছিল। দীর্ঘ ৮ বছর পর উপাচার্য নিয়োগ দেয়ার পর আবারও মানুষ স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে। এখন দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ শুরুর প্রত্যাশায় রয়েছে খুলনার মানুষ।

খুলনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন বলেন, খুলনা কৃষি বিদ্যালয় স্থাপনের কাজ অনেকদুর এগিয়েছে। ইতোমধ্যে উপাচার্য নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তিনি কাজও শুরু করেছেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কার্যক্রম শুরু হতে সময় লাগবে। খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা দেয়া হবে।

এ বিষয়ে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শহীদুর রহমান বলেন, আইন পাস হলেও অন্যান্য বিষয়গুলো কী অবস্থায় রয়েছে-খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে। পরিকল্পনা গ্রহণ, প্রকল্প তৈরিসহ আনুসঙ্গিক কাজ নিয়ে মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে দৌড়াদৌড়ি করতে হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কাজ করার মত কোন পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি। খুলনায় অফিস নেয়া, ঢাকায় লিয়াঁজো অফিস নিতে হবে। অফিস চালানোর মত জনবলও দরকার। এখন একাই সকল কাজ করতে হচ্ছে।

উপাচার্য বলেন, প্রাথমিকভাবে অফিস নেয়াসহ আনুসঙ্গিক খরচ চালাতে ১০৯ কোটি টাকার মত বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •