জবির সমাবর্তন ১১ জানুয়ারি, আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক:
রেডি, এক দুই তিন ক্লিক-হুররে…..। টুপিগুলো উড়ল আকাশে। শিক্ষার্থীরা সবাই যেন একই রঙের পাখি, আকাশে ওড়ার জন্য লাফ দিয়েছেন। সমাবর্তনের চিরচেনা উৎসবের এ ছোঁয়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে আগামী ১১ জানুয়ারী ধূপখোলা মাঠে প্রথম সমাবর্তনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে সমাবর্তনের উপকরণ বিতরণ শুরু হয়েছে। এছাড়া ৮ ও ৯ জানুয়ারি সমাবর্তনের উপকরণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের ৯ম ব্যাচের শিক্ষার্থী হিমেল দে বলেন, ‘ইতিহাস ও ঐতিহ্য লালিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাসে এটি প্রথম সমাবর্তন। আমার মতে সমাবর্তন শিক্ষা জীবনে সবচেয়ে বড় স্বপ্নবিজরিত দিন। সমাবর্তনকে কেন্দ্র করে হাজারো গ্র্যাজুয়েটদের পদচারণায় ক্যাম্পাসে বসন্তের ছোঁয়া লেগেছে। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্রথম সমাবর্তনে অংশগ্রহণের সুযোগ পাওয়ায় আমরা সবাই গর্বিত।’

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রথম সমাবর্তনে সভাপতিত্ব করবেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর ও রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। সমাবর্তন বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের এমেরিটাস অধ্যাপক ড. অরুণ কুমার বসাক।

এছাড়া আরো জানা যায়, সমাবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে ২০১২-২০১৩ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত স্নাতক, স্নাতকোত্তর, এমফিল, পিএইচডি ও সান্ধ্যকালীন ডিগ্রিধারী শিক্ষার্থীরা যারা অন্তত একটি ডিগ্রি জবি থেকে অর্জন করেছে তারাই অংশগ্রহণ করছে। এর মধ্যে স্নাতক ১১ হাজার ৮৭৭ জন, স্নাতকোত্তর ৪ হাজার ৮২৯, এমফিল ১১, পিএইচডি ছয় ও ইভেনিং প্রোগ্রামের ১৫৭৪ জন অংশ নেবেনে। এর মধ্যে ছেলে ১৩ হাজার ৭৬২ ও মেয়ে ৪ হাজার ৫৫৫ জন। যারা সুযোগ পেয়েও এ বছর সমাবর্তনে অংশগ্রহণ-আবেদন করেনি তারা আর কখনও সমাবর্তনে অংশগ্রহণ করতে পারবে না। সমাবর্তন উপলক্ষে ১৮ হাজার ৩১৭ জন শিক্ষার্থীর সার্টিফিকেট তৈরি করতে হচ্ছে। সমাবর্তনে অংশগ্রহণকারীদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দেয়া সমাবর্তন গাউন শিক্ষার্থীদের ফেরত দিতে হচ্ছে না।

১৮৫৮ সালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে আনুষ্ঠনিক যাত্রা শুরু করে। পরে এর নাম বদলে ১৮৭২ সালে ‘জগন্নাথ স্কুল’ করা হয়। ২০০৫ সালে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০০৫ পাসের মাধ্যমে এটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল স্লোগান হলো ‘শিক্ষা, ঈমান, শৃঙ্খলা’।

  •  
  •  
  •  
  •