শেকৃবিতে শিক্ষকদের দ্বন্দ্বে বিপাকে শিক্ষার্থীরা

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) এগ্রিবিজনেস ম্যানেজমেন্ট অনুষদের শিক্ষকদের দ্বন্দ্বে বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। এখানে ‘বিবিএ ইন এগ্রিবিজনেস’ ও ‘বিএসসি ইন এগ্রিকালচারাল ইকোনমিক্স’ নামে দুটি ডিগ্রিতে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন শিক্ষকরা। এক ডিগ্রির শিক্ষার্থীদের খাতা পেলে অন্য ডিগ্রির শিক্ষকরা নম্বর কম দেওয়া, এমনকি অকৃতকার্য পর্যন্ত করছেন। এরই প্রভাবে সম্প্রতি এগ্রিবিজনেসের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের (১৯ব্যাচ) ফল বিপর্যয় ঘটেছে।

এ ডিগ্রির শিক্ষার্থীরা জানান, ভালো পরীক্ষা দেওয়ার পরও চূড়ান্ত ফলাফলে তাদের মাত্র দুজন জিপিএ-৩.৫ এর উপরে পেয়েছেন। বিপরীতে ইকোনমিক্সের ১৭ জন ৩.৫-এর উপরে পেয়েছেন। আবার ছয় মাস পার হলেও তাদের লেবেল-১ এর সেমিস্টার-২ পরীক্ষার ফলাফল দেওয়া হয়নি।

ফাইনাল পরীক্ষার আগে ক্লাসটেস্টের মার্ক প্রকাশ, পরীক্ষার সময় বিবিএপন্থি শিক্ষকদের এক্সাম উইক ঘোষণার প্রতিবাদ এবং আলাদা অনুষদের দাবি জানিয়ে এগ্রিবিজনেসের শিক্ষার্থীরা একাধিকবার উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, ট্রেজারার ও ডিন বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে এগ্রিবিজনেসবিরোধী শিক্ষকরা রেজিস্ট্রেশন নাম্বার চেয়ে তাদের দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইকোনমিক্সের একাধিক শিক্ষার্থীর অভিযোগ, শিক্ষকদের দ্বন্দ্বে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এগ্রিবিজনেসপন্থি এক শিক্ষক ম্যানেজমেন্ট কোর্সের প্রথম ক্লাস টেস্টে নেতিবাচক নম্বর এবং চূড়ান্ত পরীক্ষায় ১১ জনকে ফেল করান। পরে ডিনের কাছে প্রতিকার চেয়েও তারা পাননি।

ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ফাইন্যান্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবু জাফর মো. মুকুল বলেন, ‘এগ্রিবিজনেসের শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো যৌক্তিক। শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশে অন্যান্য কৃষি বিদ্যালয়ের মতো ডিগ্রি দুটির জন্য আলাদা অনুষদ করা দরকার।’

এগ্রিবিজনেসের ১৯তম ব্যাচের ফল বিপর্যয় নিয়ে এগ্রি ইকোনমিক্সের কোর্স শিক্ষকরা বলছেন, শিক্ষার্থীরা যেমন লিখেছে, তেমন নম্বর পেয়েছে। এখানে পক্ষপাতিত্বের কোনো সুযোগ নেই। অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান সরকারও বলেন, ‘পড়ালেখা খারাপ করলে শিক্ষার্থীরা বেশি নম্বর কীভাবে পাবে? তারা খাতা দেখে বলুক, মার্ক দেওয়া হয়নি। এগ্রিবিজনেসের শিক্ষার্থীরা উপাচার্যকে স্মারকলিপি দিলেও, কোন শিক্ষক পক্ষপাতিত্ব করেছেন তা উল্লেখ নেই। বিষয়টি এখন উপাচার্যই দেখবেন।’

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শিক্ষকদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ আসা অনাকাক্সিক্ষত। মুখের কথায় কাউকে দোষী করা যায় না। প্রমাণসহ ডিপার্টমেন্ট কিংবা ডিন অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর চাইলেই আমরা আলাদা অনুষদ করতে পারি না।’

  •  
  •  
  •  
  •