বাকৃবিতে এনএসটি ফেলোশিপের চেক হস্তান্তর

বাকৃবি প্রতিনিধিঃ

২০১৯-২০ অর্থবছরে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ (NST) কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেলোশিপপ্রাপ্ত ছাত্র-ছাত্রী/গবেষকদের মাঝে চেক বিতরণ করা হয়। পশুপালন অনুষদের প্রফেসর ড. ইয়াহিয়া খন্দকার এর অফিসে সকাল ১০.৩০ টায় চেক বিতরণ করা হয়। করোনা পরিস্থিতির কারণে যারা ময়মনসিংহ ও তারা আশেপাশে অবস্থান করছেন তারা অন্যদের  প্রতিনিধি হিসেবে বাকৃবি ক্যাম্পাসে এসে চেক গ্রহণ করেন। বাকৃবির উপাচার্য প্রফেসর ড. লুৎফুল হাসান মোবাইল ফোনের মাধ্যমে এসময় চেক গ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন।

শিক্ষার্থীরা বলেন বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ঢাকায় গিয়ে চেক নিয়ে আসা তাদের জন্য জীবনের ঝুঁকি ও কষ্টকর হত। এভাবে চেকগুলো একসাথে পেয়ে তাদের জন্য অনেক সুবিধা হয়েছে। এজন্য তারা প্রফেসর ড. ইয়াহিয়া খন্দকার ও উপাচার্য প্রফেসর ড. লুৎফুল হাসান কে ধন্যবাদ জানান এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

শিহাব উদ্দিন (মৃত্তিকা ‍বিজ্ঞান বিভাগ) সায়েমা হক (কৃষিতত্ত্ব বিভাগ), শম্পা (কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজন্ন বিভাগ), নাইমা তাসনিম, নাবিতা হক, জাবের বিন আজিম, সুমিত ঘোষ, মনসুরা আক্তার জাবা সহ অনেকেই উপস্থিত থেকে অন্যান্য শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে চেক গ্রহণ করেন। সামাজিক দুরুত্ব বজায় রেখে চেক প্রদান করা হয়।

প্রফেসর ইয়াহিয়া বলেন, ছাত্রদের জন্য বিপদের সময় এই সমান্যটুকু করতে পরে আমি অত্যান্ত আনন্দিত। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনা করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঢাকা থেকে চেকগুলো সংগ্রহ করে বাকৃবি ক্যাম্পাসে এসে তা সুন্দরভাবে বুঝিয়ে দেয়ার কাজ শেষ করায় অনেকটা স্বস্থি বোধ করছি। তিনি শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা এবং কর্মদক্ষতারও প্রশংসা করে বলেন, শিক্ষার্থীরা দক্ষ ও পারদর্শিতার সাথে কাজগুলো গুছিয়ে দিয়েছে বলে এটি করা সহজ হয়েছে।

উপাচার্য প্রফেসর ড. লুৎফুল হাসান বলেন, “করোনা পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে পেরে সত্যিই ভাল লাগছে এবং আমি মনে করি শিক্ষক ও অভিভাবক হিসেবে এটি আমাদের দায়িত্ব”। যারা করোনার ঝুঁকি নিয়ে  ক্যাম্পাসে এসে চেক প্রদান ও গ্রহণ করছেন তাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং সামাজিক দুরুত্ব বজায় রেখে চলার পরামর্শ প্রদান করেন তিনি।

চেক বিতরণের সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সবুজ বাংলাদেশ24.কমের সম্পাদক ড. সহিদুজ্জামান।

উল্লেখ্য ২০১৯-২০ অর্থবছরে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ (NST) কর্মসূচির আওতায় খাদ্য ও কৃষি বিজ্ঞান গ্রুপের মোট ১৭৮২ জন ছাত্র-ছাত্রী/গবেষক (এমএসসি; এমফিল ও পিএইচডি), জীব ও চিকিৎসা বিজ্ঞান গ্রুপের ৫৯২ জন, ভৌত বিজ্ঞান থেকে ৭৭৮ এবং নবায়ন গ্রুপে ৪৮ জনকে অনুদান প্রদান করা হয়। এর মধ্যে ৭, ৯ ১০ ও ১১ মে ২০২০ তারিখে কৃষি, ভৌত ও জীববিজ্ঞানে তিনটি গ্রুপের জন্য ।প্রাথমিকভাবে ১২০০ জনকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার, বিজয় সরণি ঢাকায় ডাকা হয়েছিল।

করোনা পরিস্থিতি কিছুটা শিথিল করা হলে এক জেলা থেকে আরেক জেলায় চলাচলে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। চলছে না দুর পাল্লার গণপরিবহনও। এমতবস্থায় ফেলোশিপ প্রাপ্ত ছাত্র-ছাত্রী/গবেষকরা করোনা ও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কিভাবে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঢাকায় চেক আনতে যেতে হবে তা নিয়ে সমালোচনা হচ্ছিল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

  •  
  •  
  •  
  •