অনলাইন ক্লাসে যাচ্ছে না পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়

নিউজ ডেস্কঃ

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের এই সময় দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদালয়ে অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালুর সিদ্ধান্ত হলেও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখনই অনলাইনে ক্লাসে যাচ্ছে না। বিচ্ছিন্ন কেউ কেউ ছাড়া বাকিরা বলছে, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে এখন অনলাইনে ক্লাসের পরিবেশ ও প্রস্তুতি, কোনোটাই তাদের নেই।

এ অবস্থায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কয়েক মাসের সেশনজট সৃষ্টির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যদিও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বলছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বন্ধের ক্ষতি পোষাতে সাপ্তাহিক ছুটিসহ অন্যান্য ছুটি কমিয়ে অতিরিক্ত ক্লাস নেওয়া হবে।

বর্তমানে সারা দেশে ৪৬টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে অবশ্য চারটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রায় সোয়া আট লাখ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকায় অন্য শিক্ষার্থীদের মতো এই শিক্ষার্থীরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এর মধ্যে গত ৩০ এপ্রিল শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক সভায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর সিদ্ধান্ত হয়। প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে সংসদ টিভিতে ক্লাস হচ্ছে। কলেজেও বিচ্ছিন্নভাবে অনলাইনে ক্লাস শুরু হয়েছে।

তবে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তারা এখন অনলাইনে ক্লাসে যাচ্ছে না। কারণ, হিসেবে তারা বলছে, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের অসংখ্য শিক্ষার্থী পড়ছেন। তাঁদের অনেকের যেমন অনলাইনে ক্লাস করার মতো সুযোগ নেই, আবার বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সম্ভবও নয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামানের সঙ্গে গত সোমবার অনলাইনে বিশ্ববিদ্যালয়টির বিভিন্ন অনুষদের ডিনদের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। তাতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থীই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিজ নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন এবং ইন্টারনেটসহ প্রযুক্তিগত অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা না থাকায় অনলাইন ক্লাসে তাঁদের অংশগ্রহণের সক্ষমতা নেই। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে এখনই অনলাইনে ক্লাসের পরিবেশ ও প্রস্তুতি নেই সাপ্তাহিক ছুটি কমানোসহ অতিরিক্ত ক্লাস নেওয়া হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রায় একই ধরনের অবস্থানে আছে জাহাঙ্গীরনগর, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফারজানা ইসলাম বলেন, তাঁরাও অনলাইনে ক্লাসের কথা ভাবছেন না।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এমফিল ও পিএইচডির কার্যক্রম অনলাইনে হলেও নিয়মিত ক্লাস অনলাইনে হবে না। বিকল্প কী করা যায়, সেটিও ঈদের পর বসে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য শিরীণ আখতার বলেন, তাঁদের চিন্তাভাবনা হলো পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সাপ্তাহিক ছুটিতেও ক্লাস নেওয়া, ক্লাসের সময় বিকেল পর্যন্ত করা ইত্যাদি।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ডিন ও বিভাগীয় প্রধানদের মতামতের জন্য অপেক্ষা করছে। মতামত পেলে বিকল্প বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এম আবদুস সোবহান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নির্দেশনা অনুযায়ী অনলাইনের সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে জরিপ হিসেবে ডিন ও বিভাগীয় চেয়ারম্যানদের মতামত চাওয়া হয়েছে। মতামত পেলে বলা যাবে।

তবে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইনে ক্লাস শুরু হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য এম রুস্তম আলী বলেন, প্রথমে দু-একটি বিভাগে অনলাইনে ক্লাস শুরু হলেও এখন প্রায় বিভাগেই তা শুরু হয়েছে। তবে সব শিক্ষার্থীর সুবিধা নেই। এ জন্য ক্লাসগুলো ওয়েবসাইটে আপলোড করা করা হচ্ছে, যাতে শিক্ষার্থীরা এখান থেকে সুবিধা নিতে পারে। অনলাইনে শুধু ক্লাস ও অ্যাসাইনমেন্ট হচ্ছে। পরীক্ষা সম্ভব নয়।

এ ছাড়া আরও একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেল তারা অনলাইনে ক্লাসে যাচ্ছেন না।

জানতে চাইলে ইউজিসির চেয়ারম্যান কাজী শহীদুল্লাহ বলেন, বাস্তবতা হলো, বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইনে পড়াশোনার মতো সুযোগ-সুবিধা নেই। সেশনজট কীভাবে মোকাবিলা করতে হয়, সেটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিজ্ঞতা আছে। সেই অভিজ্ঞতায় অতিরিক্ত ক্লাস নিয়ে হয়তো একটি সেমিস্টারের (ছয় মাস) সেশনজট মোকাবিলা করতে পারবে। তবে ছুটি দীর্ঘ হলে সমস্যা হবে।

সুত্রঃ প্রথম আলো

  •  
  •  
  •  
  •