আইসিইউ সাপোর্ট না পেয়ে মারা গেলেন চবি শিক্ষক

করোনা ডেস্কঃ

চট্টগ্রাম নগরীর মেট্রোপলিটন হাসপাতালে শ্বাসকষ্টে মারা গেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) এক শিক্ষক। শনিবার রাত পৌনে তিনটার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

জানা যায়, রাত দশটার দিকে ওই শিক্ষকের শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়। এরপরই তাকে মেট্রোপলিটন হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করানো হয়। কিন্তু এসময় আইসিইউর প্রয়োজন ছিল। কোথাও আইসিইউ শয্যা খালি ছিল না। অবশেষে রাত পৌনে তিনটার দিকে শ্বাসকষ্ট নিয়েই মারা যান তিনি।

তার স্বামী তারই বিভাগীয় সহকর্মী অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম চৌধুরী, আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের শিক্ষক, প্রাক্তন পরিচালক। আচার-আচরণে, কথাবার্তায় তিনিও একজন অতি অমায়িক মানুষ। এই শিক্ষক দম্পতি চবি ক্যাম্পাসের সকলের প্রিয়ভাজন ছিলেন স্বকীয় গুণে।

উভয়েই ছিলেন চট্টগ্রামের দক্ষিণের উপজেলা বাঁশখালীর মানুষ। চট্টগ্রাম তাদের আত্মা ও অস্তিত্বের অংশ। সেই চট্টগ্রামে তিনি মারা গেলেন এক ধরনের বিনা চিকিৎসায়। একটি আইসিইউ পাওয়া গেলো না এই নিবেদিতপ্রাণ, মুমূর্ষু শিক্ষকের জন্য।

সাবরিনা ইসলাম সুইটি আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায়। আজ রোববার সেখানেই দাফন করা হয় তাকে।

সাবরিনা ইসলাম সুইটি তীব্র শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তার মধ্যে করোনাভাইরাস সংক্রমিত হয়েছিল, নাকি তিনি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ছিলেন, সেটা উপযুক্ত টেস্টের মাধ্যমে স্পষ্ট নয়। যা সকলের সামনে দিবালোকের মতো স্পষ্ট, তা হলো, তিনি ভীষণ অসুস্থ ছিলেন, তার আইসিইউ বেডে নিবিড়ভাবে চিকিৎসার দরকার ছিল, কিন্তু তিনি তা পাননি বলে জানা গেছে।

সুদীর্ঘ জীবনের শিক্ষকতায় অসংখ্য শিক্ষার্থী ও সমাজকে তিনি উজাড় করে দিলেও জীবনের ঘোরতর সঙ্কটকালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার সুযোগটুকুও পেলেন না সহকর্মী ও শুভাকাঙ্খীদের অনেকেই আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, সকলের জন্যেই এর চেয়ে গভীর দুঃখ, বেদনা, হতাশা ও ক্ষোভের বিষয় আর কিছুই হতে পারেনা। যে সমাজের জন্য তিনি সবকিছু করলেন, সেই সমাজের পক্ষে তার মতো একজন নিবেদিত শিক্ষকের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে না পারার ব্যর্থতা কার? সমাজে এসব অসঙ্গতি, অবহেলা, অপ্রতুলতা ও ভারসম্যহীনতার উত্তর জানা সবার জন্যেই জরুরি।

 

  •  
  •  
  •  
  •