বাকৃবিতে অজ্ঞাত ব্যক্তিকে হত্যা ও নিরাপত্তা

বাকৃবি প্রতিনিধি:

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) আম বাগানে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বুধবার (২৫ নভেম্বর) দিবাগত রাতে ঐ ব্যক্তিকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে টহল পুলিশকে খবর দেয় স্থানীয় পথচারী দুই যুবক।

অজ্ঞাতনামা ঐ ব্যক্তিকে জখম করে টেনে হেঁচড়ে নিয়ে হত্যা করার সময় কেউ তার চিৎকার শুনতে পায়নি। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োজিত নিরাপত্তা প্রহরীর কেউ আশেপাশে ছিল না বলেও জানা যায়।

শুধু এই হত্যাকান্ডই নয়, অতি সম্প্রতি অটো চালকের গলায় দড়ি পেঁচিয়ে অটো রিকসা ছিনতাই করার চেষ্টা, ধারালো অস্ত্র ও মাদকদ্রবসহ মাদক ব্যবসায়ী আটকের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া টাকাসহ ব্যাগ ও মোবাইল ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক আবাসিক হলে বহিরাগত একজনকে বাকৃবির শিক্ষক পরিচয়ে প্রবেশ করার ঘটনাও ঘটেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে দিনে- রাতে বহিরাগত ছেলে মেয়েদের বিভিন্ন জায়গায় এমনটি আবাসিক এলাকার কিছু জায়গায় বসে থাকতে দেখা যায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কিছু গুরুত্বর্পূণ জায়গায় বিশেষ করে আমবাগানসহ খামার এলাকায় পর্যাপ্ত লাইটিং ও সিসি ক্যামেরার অভাবে বিভিন্ন দূর্ঘটনা প্রতিনিয়িত ঘটছে বলে অনেকেই মনে করেন। এছাড়া দূর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থার ফলে বিভিন্ন অপকর্মের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে বাকৃবি ক্যাম্পাস। জানা যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১০টরে অধিক সিসি ক্যামেরা নষ্ট হয়ে আছে যা মেরামতের জন্য দেওয়া হয়েছে । আবার যেগুলো রয়েছে তা কতটুকু কাজ করছে তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। অনেক গুরুত্বপূর্ণ জায়গা আছে যেখানে এখনও কোন সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়নি। সবমিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় অনেকটাই অরক্ষিত হয়ে আছে।

অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর দিয়ে যাওয়া রেললাইনের জব্বারের মোড় রেল ক্রসিং অরক্ষিত থাকায় যেকোন সময় দূর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক এলাকা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসলেও অন্যান্য জায়গায় বহিরাগতদের অবাধ বিচরণ অব্যাহত রয়েছে। মাঝেমধ্যেই মটরসাইকেল, গাড়ী ও অটোরিক্সায় ভরে যায় কিছু কিছু জায়গা। বিশেষ করে জব্বারের মোড়, ইয়াসিন মার্কেটসংলগ্ন এলাকা, রেললাইন সংলগ্ন জায়গা, আমবাগান ও ফার্ম এলাকাগুলোতে ছুটির দিন বহিরাগতদের বিচরণ বেশী থাকে। ভীড় জমানো, ছবি তোলা, যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা ফেলানো, নেশাকরাসহ নানধরনের অপকর্ম করতে দেখা যায়। কিছুকিছু ক্ষেত্রে চুরির ঘটনাও ঘটে। কখনও কখনও বিনা’র পিছনে গাড়ি নিয়ে ফার্মের ভিতরে প্রবেশ করতে দেখা যায় বহিরাগতদের। এসব দৃশ্য দিনে বিশেষ করে দুপুরের পর থেকে রাত ৮-৯ টা পযর্ন্ত কমবেশী দেখা যায়। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে আশেপাশের লোকদের তুলনায় দুরদুরান্ত থেকে বখাটেদের সমাগম বেশী হয় এসব জায়গায়।

বিগত কয়েকমাস আগে আমবাগান এলাকায় উপাচার্যের অনুমতিতে বিশ্ববিদ্যালয়েরে একজন শিক্ষক (প্রফেসর ড. সহিদুজ্জামান সবুজ) সেখানকার দায়িত্বরত কিছু নিরাপত্তাকর্মীর আন্তরিক সহযোগিতায় বেরিকেড দিয়ে দীর্ঘদিন বহিরাগতদের নিয়ন্ত্রণ করার ব্যবস্থা করলেও বর্তমানে সেই বেরিগেট ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। পরিস্থিতি আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ায় সেখানে আবারো দূর্ঘটনা ঘটছে।

ছবি: আমবাগান এলাকার রাস্তা নিয়ন্ত্রণে এভাবে বেরিকেড দেওয়া হয়েছিল কয়েক মাস আগে

বিশ্ববিদ্যালয়কে নিরাপত্তা শাখার জন্য বছরে প্রায় ৬ কোটি টাকার অধিক বাজেট দিতে হয়। এই বিপুল পরিমান অর্থ খরচ করে নিরাপত্তা কতটুকু নিশ্চিত করা বা সেবা পাওয়া সম্ভব হচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তার জন্য ১৫টির মত ওয়াকিটকি দেওয়া হয়েছিল নিরাপত্তা শাখাকে সেগুলো নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। নিরাপত্তা রক্ষীকের দাড়ানোর জন্য বিভিন্ন জায়গায় চৌকি (ঘর) বসানোরও বাজেট দেওয়া হয়েছিল সেগুলো এখনও করা হয়নি। এমনকি রেল লাইনের ওপারে অর্থ্যাৎ খামার এলাকার নিরাপত্তার জন্য বেসরকারী নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছিল সিন্ডিকেটে। কোনটির বাস্তবায়ন দেখা যায়নি।

আমবাগান এলাকায় নতুন করে নিরাপত্তা জোন স্থাপন করলে এলাকাটি নিয়ন্ত্রন করা যাবে বলে নিরাপত্তাকর্মীর অনেকেই মত দেন।

আজ দুর্বল নিরাপত্তার জন্য বিশ্বদ্যিালয়ের ভাবমূর্তি নতুন করে ক্ষুন্ন হল।  এটিকে ছোট করে দেখার কোন সুযোগ নেই বলছেন সকলেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ও সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো এবং সশ্বস্ত্রবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তাকে প্রধান নিরাপত্তার দায়িত্ব দেয়ার পরামর্শ অনেকের।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশের জন্য অপরিহার্য। এখানে মেধাবী শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে এবং সমাজের আলোকিত মানুষেরা বিচরণ করে। মুক্তচিন্তার এই প্রাঙ্গনে সার্বিক নিরাপত্তার খাতিরে অতিদ্রুত বাস্তব ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। অন্যথায় দেশের এই অন্যত্তম বিদ্যাপীঠে নিরাপত্তায় বিদ্যমান সমস্যাগুলো শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশে মারাত্বক প্রভাব ফেলবে।

  •  
  •  
  •  
  •