দেশের ৮৬.৪ শতাংশ শিক্ষার্থী হতাশাগ্রস্ত!

রোহান ইসলাম, নিজস্ব প্রতিবেদক

করোনা মহামারীর কারণে প্রায় একবছর দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আর্থিক সংকট, সামাজিক চাপ, সেশনজটের আশঙ্কাসহ নানা কারণে চরম হতাশার মধ্যে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা।

সম্প্রতি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘দ্যা সেভ আওয়ার সোসাইটি’র উদ্যোগে করা এক অনলাইন জরিপের মাধ্যমে জানা গেছে করোনার ছুটিতে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে দেশের ৮৬ দশমিক ৪ শতাংশ শিক্ষার্থী। এছাড়া পড়াশোনা থেকে সম্পৃক্তহীন হয়ে পড়েছে দেশের ৬৪ দশমিক ২ শতাংশ শিক্ষার্থী।

তবে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হলেও দীর্ঘদিন বাড়িতে থাকার কারণে পারিবারিক সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে ৬৩ দশমিক ৭ শতাংশ শিক্ষার্থীর। একই সময়ে ১৭.৫ শতাংশ শিক্ষার্থী নতুন কিছু করার মাধ্যমে নিজেদের কর্মব্যস্ত করে তোলেন। এ জরিপে বিভিন্ন অঞ্চলের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে অধ্যায়নরত ১ হাজার ৫০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন।

জরিপ থেকে আরও জানা যায়, বাইরের বন্ধুদের সাথে ৩৪.৫ শতাংশ শিক্ষার্থীর যোগাযোগ কমেছে। কিন্তু “প্রথম আলো তারুণ্য জরিপ-২০১৯” অনুযায়ী ৫৮.১ শতাংশ তরুণ শিক্ষার্থী বাইরের বন্ধুদের উপর নির্ভরশীল ছিলেন।

জরিপের ব্যাপারে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. আশিক শাহরিয়ার বলেন, মানসিক চাপটা একেক বয়সের একেক রকম। যারা ছোট তাদের মধ্যে এক রকম, আবার যারা বড় তাদের মধ্যে আরেক রকম। এই প্রভাবটি শুধু শিক্ষার্থীদের ওপর পড়ছে তা নয় বরং পুরো পরিবারের ওপরই পড়ছে। বৃহৎ পরিসরে যদি চিন্তা করা যায়, সেক্ষেত্রে বলা যায় এটা পুরো সমাজ ব্যবস্থাকেই প্রভাবিত করছে। এই জায়গাটাতে শিক্ষার্থীদের পর্যবেক্ষণ করার মতো কেউ নেই।

প্রসঙ্গত করোনাভাইরাস মহামারির কারণে চলতি বছরের ১৭ই মার্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এর পর দফায় দফায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই অনলাইনে ক্লাস পরিচালনা করছে।

মনোবিজ্ঞানীরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলছেন, অনলাইন ক্লাসের কারণে মোবাইল এবং ইন্টানেটের প্রতি আসক্তি বাড়তে পারে। মানসিক চাপ ও হাতাশা থেকে বাঁচতে মেডিটেশন, আত্মপ্রণোদনা, আত্মমূল্যায়ন, সমমর্মিতা, উপযোগীকরণ ও শারীরিক ব্যায়াম ইত্যাদি করা যেতে পারে। এসব বিষয় মানুষের আবেগ ও উদ্দীপনকে ইতিবাচক দিকে বিকশিত হতে সহায়তা করে। তা ছাড়াও সৃজনশীল ভাবনা, মনোদৈহিক কার্যক্রম, সামাজিক সহযোগিতামূলক কর্ম, জ্ঞানমূলক আচরণ চর্চা ও কৌশল মানুষের মানসিক সংবেদনকে স্বাভাবিক রাখতেও সহায়ক বলে প্রমাণিত।

 

  •  
  •  
  •  
  •