গবেষণা-উদ্ভাবনে অনন্য বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:
দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি হলো কৃষি খাত। মান্ধাতা আমলের সনাতনী কৃষিপদ্ধতি থেকে সরে এসে উন্নয়ন হচ্ছে ক্রমাগত। এখন কৃষিতে উৎপাদন বৃদ্ধি, আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার, নানামুখী কৌশলে রোগবালাই দমন, কৃত্রিম উপায়ে শাকসবজি ও মাছ চাষ, ছাদকৃষি প্রভৃতির মাধ্যমে অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধিত হয়েছে এই খাতে, যার সিংহভাগ অবদান বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের। কেননা, কৃষিক্ষেত্রে যত ধরনের উদ্ভাবন ও নতুন জাত তৈরি করেছেন কৃষিবিজ্ঞানীরা, তাঁদের অধিকাংশই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী। এ জন্য বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কে কৃষিবিদ তৈরির আঁতুড়ঘর বলা হয়।

কৃষিক্ষেত্রে ঈর্ষণীয় সাফল্যের পেছনে রয়েছে এ দেশের কৃষকের অক্লান্ত পরিশ্রম এবং কৃষিবিজ্ঞানীদের নিরলস সাধনা ও বিস্তর গবেষণা। ১৯৬১ সাল থেকে দক্ষ ও মানসম্মত কৃষিবিদ তৈরি করে যাচ্ছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। ৫৮ বছরের গৌরবোজ্জ্বল পথচলায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছে অনেক সাফল্য। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা বন্যা, খরা, লবণাক্ততা ও দুর্যোগসহিষ্ণু শস্য ও ফলের জাত উদ্ভাবন, নতুন নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার এবং নানামুখী জাত উদ্ভাবনে কাজ করে যাচ্ছে। এখনো বিভিন্ন ধরনের গবেষণা কার্যক্রম চলমান।

আমন, আউশ ও বোরো মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলনে বছরে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টন খাদ্যশস্য উৎপাদনের রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ। বিশ্বে ধানের গড় উৎপাদনশীলতা প্রায় তিন টন। আর বাংলাদেশে তা ৪ দশমিক ১৫ টন। ২০১৪ সাল থেকে বেশ কয়েকটি দেশে ধান রপ্তানি শুরু করেছে বাংলাদেশ সরকার। এসব সম্ভব হয়েছে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর নতুন জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনের জন্য।

বোরো মৌসুমের জনপ্রিয় ধানের জাত ব্রি-২৮ ব্যাপকভাবে পাতা ঝলসে যাওয়া তথা ব্লাস্টরোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এ রোগের আক্রমণে শেষ পর্যায়ে ফসল ঘরে তুলতে পারেন না কৃষক। জমিতে রোগ শনাক্তের পর আর কোনো গ্রুপের ছত্রাকনাশক ছিটিয়ে ফল পাওয়া যায় না। তাই কৃষকদের আগাম প্রতিরোধব্যবস্থা নিতে হয়। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে ব্লাস্টপ্রতিরোধী বাউ-ধান-৩ নামে একটি জাত উদ্ভাবন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের গবেষক প্রফেসর ড. লুৎফুল হাসান। ধানের এই জাত বোরো ও শুষ্ক মৌসুমে চাষযোগ্য এবং আগাম, উচ্চফলনশীল ও ব্লাস্টপ্রতিরোধী হওয়ায় প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকদের জন্য বেশ লাভজনক। এ ছাড়া এ ধানের ভাত ঝরঝরে ও খেতে সুস্বাদু।

ধানের পাশাপাশি মাছ উৎপাদনে এবং দেশি প্রজাতির মাছ টিকিয়ে রাখতে অবিরাম কাজ করে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদ। মাছ উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। খাদ্য ও কৃষি সংস্থার মতে, ২০২২ সাল নাগাদ বিশ্বের যে চারটি দেশ মাছ চাষে বিপুল সাফল্য অর্জন করবে, তার মধ্যে প্রথম বাংলাদেশ। এরপর থাইল্যান্ড, ভারত ও চীন। গত ১০ বছরে মাছের উৎপাদন ৫৩ শতাংশ বেড়েছে। আর মাছ রপ্তানি বেড়েছে ২০ শতাংশের বেশি।

ইলিশ মাছ কার না পছন্দ! একক প্রজাতি হিসেবে বাংলাদেশে ইলিশের অবদান সর্বোচ্চ। দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনের প্রায় ১২ শতাংশ আসে ইলিশ থেকে। অন্যদিকে পৃথিবীর মোট ইলিশ উৎপাদনের প্রায় ৬০ শতাংশ হয় বাংলাদেশে। ইলিশ নিয়ে অধিকতর গবেষণা ও উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে ইলিশের জীবনরহস্য (জিনোম সিকুয়েন্স) উন্মোচন করেছেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক (নেতৃত্বে ছিলেন ফিশারিজ বায়োলজি ও জেনেটিকস বিভাগের প্রফেসর ড. মো. সামছুল আলম)। এ গবেষণার ফলে এখন ভৌগোলিকভাবে ইলিশ শনাক্তকরণ ও ইলিশের ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিরূপণে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

দেশি জাতের মধ্যে ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের ছাগল বাংলাদেশে অধিক পরিচিত। মাংস অত্যন্ত সুস্বাদু হওয়ায় ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের ছাগল ‘গরিবের গাভি’ নামে পরিচিত। বর্তমানে দেশে প্রায় ২ কোটি ৭৬ লাখ ছাগলের ৯০ শতাংশই ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের। দ্রুত প্রজননশীল, উন্নত মানের চামড়া ও প্রতি প্রসবে একাধিক বাচ্চা দেওয়ার কারণে বিশ্বব্যাপী এ জাত জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পশুপ্রজনন ও কৌলিবিজ্ঞান বিভাগের একটি গবেষক দল প্রফেসর ড. এমএএম ইয়াহিয়া খন্দকারের নেতৃত্বে ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের জীবনরহস্যও উন্মোচন করেছে। এর ফলে জনপ্রিয় এ জাতটির জন্ম, বৃদ্ধি, প্রজনন, চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি, পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়াসহ সব জৈবিক কার্যক্রম সম্পর্কে গবেষণার নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।

আমাদের দেশে মাংসের চাহিদা পূরণে বিশেষ চাহিদা রয়েছে মুরগির মাংসের। কিন্তু দেশি মুরগির উচ্চমূল্য ও উৎপাদনস্বল্পতার কারণে প্রাণিজ আমিষের বড় একটি অংশ পূরণ হচ্ছে ব্রয়লার মুরগি দিয়ে। মাংসের জন্য ব্রয়লার মুরগির পাশাপাশি ডিমের জন্য লেয়ার মুরগির খামার স্থাপনও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ডিম ও মাংসের জোগানের ফলে পোলট্রি খাত আজ শিল্পে পরিণত হয়েছে। পোলট্রি জাতের অগ্রগতির পেছনেও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা অপরিসীম। তবে কতিপয় অসাধু খামারি অধিক লাভের আশায় ব্রয়লার মুরগির মাংস উৎপাদনে ক্ষতিকর অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগের ফলে এই মাংসে ভারী ধাতু ও ক্ষতিকর উপাদানের উপস্থিতি ধরা পড়েছে, যা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর। বিষয়টি সম্প্রতি ব্যাপকভাবে সমালোচিত হচ্ছে এবং পোলট্রি খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ফলে ভালো খামারিরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এ সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পশুপুষ্টি বিভাগের গবেষক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল মামুন ‘প্লানটেইন’ নামক একধরনের ঘাসে অ্যান্টিবায়োটিকের বিকল্প খুঁজে পেয়েছেন, যা গবাদিপশু ও পোলট্রি মুরগি সরাসরি খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করতে পারে। এতে মাংস ও দুধের উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং পশুপাখি ও মানবদেহে কোনো ধরনের ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে না। সম্প্রতি ব্রয়লার মুরগিতে এ উদ্ভিদের ব্যবহারে নিরাপদ ও অধিক পুষ্টিসমৃদ্ধ মাংস উৎপাদনে সফল হয়েছেন এই গবেষক। এই প্রক্রিয়ায় গবাদিপশু মোটাতাজাকরণ ও অধিক পুষ্টিসমৃদ্ধ মুরগির মাংস উৎপাদনপ্রযুক্তির নাম দেওয়া হয়েছে বাউ-প্লানটিভ।

গবাদিপশুর ব্যাকটেরিয়াজনিত একধরনের সংক্রামক রোগ ব্রুসেলোসিস। প্রাণী ও মানবদেহে ছোঁয়াচে রোগগুলোর মধ্যে সংক্রমণের দিক থেকে যক্ষ্মা ও অ্যানথ্রাক্সের পরই ব্রুসেলোসিসের অবস্থান। এ রোগ নির্ণয় করা গেলেও দেশে এ রোগের জন্য ঠিক কোন জীবাণু দায়ী, তা এর আগে শনাক্ত করা যায়নি। ব্রুসেলোসিস রোগের জীবাণু শনাক্তকরণ ও এই ব্যাকটেরিয়ার জিনোম সিকুয়েন্স সম্পন্ন করেন ভেটেরিনারি অনুষদের মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড হাইজিন বিভাগের প্রফেসর ড. মো. আরিফুল ইসলাম। ফলে ব্রুসেলোসিসের প্রাদুর্ভাব নিয়ে সংশয় দূর হয়েছে।

প্রচলিত পদ্ধতিতে ধান শুকানো ও তা থেকে চাল সংগ্রহ করার সময় ১৪ শতাংশ অপচয় হয়। সনাতনী ধারার চাষ পদ্ধতিতে ধান শুকানো অনেক সময়সাপেক্ষ। তা ছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় ধান শুকাতে অনেক দুর্ভোগও পোহাতে হয় কৃষকদের। ‘বাউ-এসটিআর’ নামক ধান শুকানো যন্ত্র দিয়ে মাত্র ৩ থেকে ৪ ঘণ্টায় ৫০০ কেজি পর্যন্ত ধান শুকানো সম্ভব। বিদ্যুৎ ব্যবহারে এই যন্ত্রে ১ মণ ধান শুকাতে খরচ হয় মাত্র ২৮ টাকা। সম্প্রতি এই যন্ত্র উদ্ভাবন করেছেন কৃষিশক্তি ও যন্ত্র বিভাগের প্রফেসর ড. মো. মঞ্জুরুল আলম। এই পদ্ধতি ব্যবহারে কৃষকের যেমন অর্থ সাশ্রয় হবে, তেমনি সময়ও। এ ছাড়া সার ও বীজ ছিটানো যন্ত্র, পাম অয়েল মেশিন, আগাছা দমন যন্ত্র—এসবও উদ্ভাবন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়টির সুদীর্ঘকালের পথচলায় এসেছে বহু সাফল্য। ইলিশ ও সিলভার কার্প মাছের স্যুপ ও নুডলস তৈরির প্রযুক্তি, শুকনা পদ্ধতিতে বোরো ধান চাষের প্রযুক্তি, হিমায়িত ভ্রূণ থেকে ভেড়ার কৃত্রিম প্রজনন, ভাগনা মাছের জাত উন্নয়ন, ডেঙ্গু ভাইরাসের সিরোটাইপ নির্ণয়ের প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। এ ছাড়া বাউকুল, ধান, সরিষা, সয়াবিন, আলু, মুখি কচুর বেশ কয়েকটি করে জাত উদ্ভাবন করেছে এ বিশ্ববিদ্যালয়।

তারাবাইম, গুচিবাইম, বড় বাইম, কুঁচিয়া, গাঙ মাগুর, কই ও বাটা মাছের কৃত্রিম প্রজননপদ্ধতিও আবিষ্কার করা হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে মাছ ও সবজির সমন্বিত চাষপ্রযুক্তি, কচি গমের পাউডার উৎপাদন, বিদ্যুৎবিহীন হিমাগার আবিষ্কৃত হয়েছে এখানে। কলা ও আনারস উৎপাদনের উন্নত প্রযুক্তি, জৈব সার উৎপাদনের প্রযুক্তি, মাটি পরীক্ষার সরঞ্জাম, মাছের রোগ প্রতিরোধকল্পে ঔষধি গাছের ব্যবহারের প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা।

সাড়ে ১১ হাজার ফল ও মসলার প্রজাতি নিয়ে এখনকার জার্মপ্লাজম সেন্টার পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম সংগ্রহশালা। এ সেন্টার থেকে শতাধিক নতুন ফলের জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। ২০১৩ সালে এই জার্মপ্লাজম সেন্টারটি বঙ্গবন্ধু কৃষি পদক পাওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানিক্যাল গার্ডেনে রয়েছে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন অঞ্চলের বিরল ও বিলুপ্তপ্রায় ছয় শতাধিক উদ্ভিদের প্রজাতি। অর্কিড ও বিভিন্ন বিলুপ্ত প্রজাতির উদ্ভিদ সংরক্ষণের পাশাপাশি উপকূলীয়, ঔষধি, জলজ, মরুজ, ফলদ উদ্ভিদসহ বিভিন্ন দুর্লভ প্রজাতির উদ্ভিদও সংরক্ষণ করা আছে এখানে।

দেশীয় ঐতিহ্য ও উপকরণ সংরক্ষণে দেশে প্রথম উদ্যোগ গ্রহণ করে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। ২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় কৃষি জাদুঘর। ছয়টি প্রদর্শনীকক্ষে বড় বড় কাচের কাঠামোতে সাজানো রয়েছে পাঁচ শতাধিক উপকরণ। উপকরণগুলো সহজে চেনার জন্য স্থানীয় নাম ব্যবহার করা হয়েছে। রয়েছে বৈজ্ঞানিক নাম ও সংগ্রহের উৎসও। আবহমান কাল থেকে কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত মানুষের জীবন–জীবিকার বাস্তব প্রতিকৃতি ও সম্পর্ক তুলে ধরা হয়েছে এখানে।

এ ছাড়া নদী-নালা ও খাল-বিলের সঙ্গে সঙ্গে হারিয়ে যাচ্ছে বেশ কিছু মাছের প্রজাতি। বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা ও অধিকতর গবেষণার জন্য এ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপন করা হয়েছে ‘ফিশ মিউজিয়াম অ্যান্ড বায়োডাইভার্সিটি সেন্টার’। প্রজাতি সংগ্রহ ও বৈচিত্র্যের দিক থেকে এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সর্ববৃহৎ মৎস্য জাদুঘর।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে এখানে রয়েছে গ্র্যাজুয়েট ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (জিটিআই)। এখানে ক্লাস পরিচালনার আধুনিক কলাকৌশল ও যুগোপযোগী তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এবং গবেষণাকৌশলের নিত্যনতুন আধুনিক পদ্ধতি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করতে পারেন শিক্ষকেরা। এ ছাড়া দক্ষ কৃষিবিদ তৈরিতে ও কৃষিবাজার ব্যবস্থাপনার জন্য ইনস্টিটিউট অব অ্যাগ্রিবিজনেস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ, খাদ্যনিরাপত্তায় চালু হয়েছে ইন্টারডিসিপ্লিনারি ইনস্টিটিউট ফর ফুড সিকিউরিটি। এ ছাড়া দেশের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল ও হাওরাঞ্চলের কৃষি উন্নয়নের ক্ষেত্রে গবেষণা শুরু করেছে এখানকার হাওর ও চর উন্নয়ন ইনস্টিটিউট।

বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও সামগ্রিক কার্যক্রম সম্পর্কে উপাচার্য প্রফেসর ড. লুৎফুল হাসান বলেন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা ও পুষ্টিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ বিশ্ববিদ্যালয় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। নিরাপদ খাদ্যে দেশে প্রথমবারের মতো অনার্স ডিগ্রি চালু করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা কার্যক্রমের মাধ্যমে পাঁচ শতাধিক প্রকল্প চলমান রয়েছে। জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, নেদারল্যান্ডস, ভারতসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ, বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ১২৬টি যৌথ গবেষণা পরিচালিত হচ্ছে। এ ছাড়া কৃষির যান্ত্রিকীকরণ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন কৃষিযন্ত্র উদ্ভাবনে কাজ শুরু হয়ে গেছে। শিক্ষার মানোন্নয়ন ও আধুনিকীকরণ এবং বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। সূত্র: প্রথম আলো

  •  
  •  
  •  
  •