যেভাবে শুঁটকি হয় সেন্টমার্টিনের বালুতে

নিউজ ডেস্কঃ

সাগরের গর্জন, নীলাভ পানি, পূর্ণিমা রাত, সৈকত, প্রবাল-শৈবাল, কেয়া গাছ, মুক্ত বাতাস, দীর্ঘসময় জাহাজে ভ্রমণসহ নানা কারণে ভ্রমণপিপাসুদের কাছে প্রিয় দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। অনেকেই জানেন না, সেন্টমার্টিনেও শুঁটকি উৎপাদন হয় এবং সে উৎপাদন প্রক্রিয়াও মুগ্ধ করার মতো।

সম্প্রতি সেন্টমার্টিন ঘুরে ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সেখানকার অনেকেরই ট্রলার রয়েছে। তারা ট্রলারে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরেন। ছোট জাতের মাছগুলো সেন্টমার্টিনের সৈকতের বালুতে প্রাথমিকভাবে শুকান। দু-একদিনের মধ্যে সেগুলো প্রাথমিকভাবে শুকালে পলিথিনের ওপর আরেকবার শুকান। ছেকে শুকানো মাছ থেকে বালু ফেলে দেয়া হয়। এরপর তা প্যাকেটজাত করে বিক্রির জন্য তোলা হয়।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, সেন্টমার্টিনের লঞ্চঘাট থেকে সৈকত ধরে ছেঁড়া দ্বীপের দিকে যেতে মাঝপথে বালুতে ছোট ছোট চাপিলা মাছ শুকানো হয়। যেগুলো শুকিয়েছে সেগুলো পলিথিনের ওপর আবার শুকানো হচ্ছে। ধানের চাতালে যেভাবে ধান সারিবদ্ধভাবে রাখা হয় এবং শুকানোর জন্য দুই পা দিয়ে ছড়িয়ে দেয়া হয়, ঠিক সেভাবেই ঢিবি করে রাখা প্রাথমিকভাবে শুকানো মাছগুলো পলিথিনে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে।

সেন্টমার্টিনে ভ্রমণকারীদের অনেকেই হেঁটে এবং সাইকেল ও মোটরসাইকেলে ছেঁড়া দ্বীপ ভ্রমণ করেন কিংবা দ্বীপের চারপাশ ঘুরে দেখেন। তাদের ভাগ্যেই সাধারণত শুঁটকি উৎপাদনের এই দৃশ্য দেখা সম্ভব হয়। পর্যটকদের সামনে যখন সৈকতে শুঁটকি উৎপাদনের দৃশ্য চোখে পড়ে, তখনই তারা ছবি তোলা, ভিডিও করা কিংবা একটু দাঁড়িয়ে উৎপাদন প্রক্রিয়া দেখেন।

সৈকতের এক পাশে মাটিতে, অন্য পাশে পলিথিনের ওপর মাছ শুকাতে দেয়া। মাঝখান দিয়ে পথচারী, সাইকেল ও মোটরসাইকেল চলার রাস্তা। এমন আবহেই পলিথিনে মাছ শুকাতে দিয়ে তার ওপর দাঁড়িয়ে ছিলেন জেলে মো. জুবায়ের। তার দুটি ট্রলার রয়েছে। সেগুলো দিয়ে সাগর থেকে চাপিলা মাছ ধরে শুঁটকি করেন তিনি।

জুবায়ের বলেন, ‘এখানে সবই চাপিলা মাছ। কাঁচা মাছগুলো প্রথমে বালুতে শুকিয়েছি। সেগুলো দ্বিতীয়বার পলিথিনের ওপর রেখে শুকাচ্ছি। পলিথিনের ওপর ভালোভাবে শুকানোর পর নাড়াচাড়া করে বালুগুলো ফেলে দেব। তারপর পলিথিনে প্যাকেট করে শহরে পাঠাব।’

 

জুবায়ের কাঁচা মাছ বালুর ওপর শুকালেও সেখানকার বাসিন্দা আব্দুল খালেক পাতলা জালের ওপর কাঁচা মাছ শুকাচ্ছিলেন। নিজের একটি ট্রলারে ধরা মাছগুলো ছড়িয়ে দিতে দিতে আব্দুল খালেক বলেন, ‘তার জাল আছে, তাই জালের ওপর শুকাতে দিয়েছেন। বড় বড় ছিদ্র থাকায় বালুর তাপে মাছগুলো দ্রুত শুকায়। কাঁচা মাছ শুকাতে একদিন লাগে। আজ শুকাতে দিলে কাল সকালে বা বিকেলে এসে তা পলিথিনের ওপর দ্বিতীয়বার শুকানোর জন্য রাখবেন।’

 

স্থানীয়রা জানান, পর্যটন এলাকা হওয়ায় সেন্টমার্টিনের কিছু মানুষ হোটেল, রিসোর্ট ও খাবারের ব্যবসা করেন। তবে তাদের সংখ্যা তুলনামূলক কম। বেশিরভাগেরই আয়ের প্রধান উৎস সাগর থেকে মাছ ধরা। কারও কারও মাছ ধরার জন্য নিজস্ব ট্রলার আছে, আবার অনেকে অন্যের ট্রলারে মাছ ধরার কাজ করেন। তারা সামুদ্রিক বড় বড় মাছ ধরেন, সেসব মাছের আলাদা বাজার। সেখানকার আড়ত থেকে সামুদ্রিক মাছগুলো দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্তে যায়। পাশাপাশি তাদের অনেকে ছোট মাছও ধরেন। ছোট মাছই শুঁটকি করে বিক্রি করেন।

  •  
  •  
  •  
  •