বিশাল সামুদ্রিক প্রাণী আরশোলাসদৃশ আবিস্কার

নিউজ ডেস্কঃ

ভারত মহাসাগরের গভীরে ভয়ঙ্কর-দর্শন একটি আরশোলার মত প্রাণী আবিস্কার করেছেন সিঙ্গাপুরের বিজ্ঞানীরা।

বিজ্ঞানীদের দাবি অনুযায়ী একদম নতুন আবিষ্কৃত প্রজাতি এটি, যার সম্পর্কে মানুষ আগে জানতো না। খবর ইংল্যান্ডের ডেইলি মেইলের।

ই্ন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বীপের ব্যান্টেন উপকূলের কাছে সমীক্ষা চালানোর সময় আবিষ্কৃত হয় ১৪ পায়ের এই কিম্ভুতদর্শন, দানবীয় আইসোপড, যার চোখ আর মাথা দেখতে স্টার ওয়ার্স সিরিজের হেলমেট পরা খলনায়ক সিথ লর্ড, ডার্থ ভেডারের মতো।

বিজ্ঞানীদের দাবি অনুযায়ী একদম নতুন আবিস্কৃত প্রজাতি এটি, যার নামকরণ করা হয়েছে ব্যাথিনোমাস রাকসাসা।

যে অভিযানে এই প্রজাতি আবিষ্কৃত হয়, তার নেতৃত্বে ছিলেন সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির পিটার নং।

ইন্দোনেশিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্সের সহযোগিতায় পরিচালিত এ অভিযান চলে দুই সপ্তাহ।

এসময় বিজ্ঞানীরা সমুদ্রের ৮০০ মিটার থেকে ক্ষেত্র বিশেষে এক কিলোমিটারেরও বেশি গভীর ৬৩টি জায়গায় অনুসন্ধান চালান।

নমুনা হিসেবে কাঁকড়া, জেলিফিশ, মাছ, চিংড়ি, স্পঞ্জ, তারামাছ,আর্চিন বা সজারুর মতো কাঁটাঅলা সামুদ্রিক প্রাণী, পোকামাকড়সহ সমুদ্রতলদেশে বিচরণ করে এমন ৮০০ প্রজাতির ১২ হাজারের মতো প্রাণী সংগ্রহ করেন তারা।

এর মধ্যে অন্তত ১২টা প্রজাতি নিয়ে বিজ্ঞানে কোনো আলোচনাই নেই।

ব্যাথিনোমাস রাকসাসা স্থলের আরশোলার মতো হলেও কাকড়া, চিংড়ির সঙ্গে তার মিল আছে।

এরা সমুদ্র তলদেশে অন্যান্য সামদ্রিক প্রাণীর দেহাবশেষ খেয়ে বেঁচে থাকে। তবে আরশোলাদের মতো তারাও না খেয়ে অনেকদিন বেঁচে থাকতে পারে।

সাধারণত আইসোপড সর্বোচ্চ ১৩ ইঞ্চি হলেও ব্যাথিনোমাস রাকসাসা ২০ ইঞ্চির মতো হয়ে থাকে। এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত আইসোপডের মধ্যে এরাই সবচেয়ে বড়, দাবি গবেষক দলের।

ইন্দোনেশিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্সেসের ক্যাথিও রাহমাডি বিবিসিকে বলেন, ‘প্রজাতিটির আবিষ্কার বড় অর্জন। বিশেষ করে এর যে আকার, আর এটি যেখানে পাওয়া গেলো, সেই নিরীখে।’

‘একই সঙ্গে এই আবিষ্কার ইন্দোনেশিয়ার সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্যের আরো একটি প্রমাণ, যার এখনো অনেক কিছুই অনাবিস্কৃত রয়ে গেছে,’ জানিয়েছেন তিনি।

  •  
  •  
  •  
  •