কোটি টিকা সরবরাহ করবে চীন

নিউজ ডেস্কঃ

চীনের উহান শহরে গত বছরের ডিসেম্বরে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। ভাইরাসের উৎস হিসেবে চীনের বিরুদ্ধে অভিযোগও রয়েছে বিস্তার। সেই চীন এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কোটি কোটি টিকা সরবরাহের প্রস্তুতি নিচ্ছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে চীনা টিকা সরবরাহের সে প্রস্তুতির বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।

সিএনএন জানিয়েছে, দক্ষিণ চীনের শেনঝেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ধূসর গুদামের অভ্যন্তরে একটি সারি সাদা চেম্বার চোখে পড়ে। বিশেষভাবে ঘিরে রাখা এসব চেম্বারের বাইরে লাগানো রয়েছে ডিসপ্লে স্ক্রিন। তাতে চেম্বারের ভেতরকার বিশেষ তাপমাত্রা প্রদর্শন করছে। এর সামনেই মুখে মাস্ক, সার্জিক্যাল গাউন ও রাবারের দস্তানা পরে দাঁড়িয়ে রয়েছেন নিরাপত্তারক্ষীরা। এ এলাকায় কাউকে ঢুকতে হলে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন বা আপাদমস্তক ঢাকা স্যুট পরা বাধ্যতামূলক। বিশেষ তাপমাত্রায় নিয়ন্ত্রিত ৩৫০ বর্গমিটার এলাকাজুড়ে থাকা চেম্বারগুলো শিগগিরই ভর্তি হবে চীনা কোম্পানির তৈরি করোনার টিকায়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নিয়ন্ত্রকেরা টিকার অনুমোদন দিলেই তা সরবরাহ করার জন্য প্রস্তুত চীন। এ গুদাম থেকেই তাপমাত্রা–নিয়ন্ত্রিত কার্গো উড়োজাহাজে করে বিভিন্ন দেশে টিকা সরবরাহ করবে চীন।

 

চীনের টিকাটি যেসব দেশে তৃতীয় পর্যায়ের পরীক্ষা চলছে, সেখানে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই কয়েক কোটি ডোজ সরবরাহ করবে। চীনের রাজনৈতিক নেতারা বলছেন, তাঁদের টিকা পরীক্ষা সফল হলে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে টিকার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

করোনাভাইরাসের উৎস নিয়ে ভাবমূর্তির সংকটে পড়া চীন টিকা কূটনীতি দিয়ে তা পুনরুদ্ধার করতে চাইছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের বৈশ্বিক স্বাস্থ্যবিষয়ক জ্যেষ্ঠ ফেলো ইয়ানঝং হুয়াং বলেন, টিকা চীনের বৈদেশিক নীতির বিশেষ উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। আন্তর্জাতিক প্রভাব সৃষ্টিকারী বিদেশনীতির একটি সরঞ্জামও হতে পারে তাদের টিকা। করোনা মহামারির শুরুর দিকে মাস্কসহ অন্যান্য সুরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহ করেছিল দেশটি। তবে তা নিয়ে সমালোচনা হয়। টিকা তাদের আরেকটি সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।

চীনে বর্তমানে চারটি প্রতিষ্ঠানের পাঁচটি টিকা তৃতীয় ধাপের পরীক্ষায় রয়েছে। টিকা পরীক্ষার তৃতীয় ধাপ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এ পর্যায়ে টিকার নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা দেখার পরই নিয়ন্ত্রকেরা অনুমোদন দেন। দেশের অভ্যন্তরে টিকার সফলতার পর চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো বিশ্বের ১৬টি দেশে তা পরীক্ষা চালাচ্ছে। টিকা পরীক্ষা করা দেশগুলোকে শুরুতেই টিকা দেওয়ার ও স্থানীয়ভাবে উৎপাদনদের প্রযুক্তি হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো।

সিনোভ্যাক বায়োটেক ব্রাজিল ও তুরস্কের সঙ্গে টিকা সরবরাহের চুক্তি করেছে। এ ছাড়া ইন্দোনেশিয়াতেও টিকাটি স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করা হবে। ক্যানসিনো বায়োলজিক চীনের সেনাবাহিনীর সঙ্গে যে টিকাটি তৈরি করেছে, তা মেক্সিকোকে সরবরাহের জন্য চুক্তি করেছে। আরও চারটি দেশে এ টিকার পরীক্ষা চলছে। চায়না ন্যাশনাল বায়োটেক গ্রুপ মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার ১০টি দেশে টিকার পরীক্ষা চালাচ্ছে।

গত অক্টোবরে সবার জন্য টিকা নিশ্চিতকরণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নেতৃত্বে গৃহীত ‘কোভ্যাক্স’ উদ্যোগে যুক্ত হয় চীন। এখন পর্যন্ত কোভ্যাক্সে যুক্ত হওয়া সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ চীন।

প্রথম থেকেই চীনা নেতারা বারবার জোর দিয়ে বলছেন, চীন টিকা পেলে উন্নয়নশীল বিশ্বের সঙ্গে তা ভাগাভাগি করা হবে।

  •  
  •  
  •  
  •