জরুরি অবস্থা ঘোষণা লন্ডনে

নিউজ ডেস্কঃ

যুক্তরাজ্যে করোনা ভাইরাসের অতিসংক্রামক নতুন ধরনের সংক্রমণ ‘নিয়ন্ত্রণের বাইরে’ চলে যাওয়ায় হাসপাতালগুলোতে রোগী উপচে পড়ার ঝুঁকির মুখে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে লন্ডনে। এদিকে শুক্রবার দেশটিতে এক দিনে সর্বোচ্চ আক্রান্ত ও মৃত্যুর রেকর্ড হয়েছে।

শুক্রবার লন্ডনের মেয়র সাদিক খান ‘গুরুতর পরিস্থিতি’র (মেজর ইনসিডেন্ট) ঘোষণা দেন, যা জরুরি অবস্থা জারির শামিল। এই সময়ে জনগণকে ঘরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। সাদিক খান বলেন, ভাইরাসের বিস্তার ‘নিয়ন্ত্রণের বাইরে’ চলে যাওয়ায় লন্ডনের হাসপাতালগুলোর শয্যা আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে। তিনি বলেন, ‘আমরা গুরুতর পরিস্থিতির ঘোষণা দিচ্ছি। কারণ, আমাদের শহরে হুমকি হয়ে ওঠা করোনা ভাইরাসের প্রকোপ সংকটময় মুহূর্তে পৌঁছে গেছে।’

বড় ধরনের কোনো হামলা বা ভয়াবহ দুর্ঘটনা এবং বিশেষত যেসব ঘটনায় মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতি, জনজীবন বিপর্যস্ত হওয়া, মানবজীবন, মানবকল্যাণ, অপরিহার্য সেবা, পরিবেশ কিংবা জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ে, সেসব ক্ষেত্রেই সচরাচর ‘মেজর ইনসিডেন্ট’ ঘোষণা করা হয়। লন্ডনে এর আগে সর্বশেষ ২০১৭ সালে সুউচ্চ গ্রেনফেল টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের সময় এমন গুরুতর পরিস্থিতির ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। ঐ দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছিল ৭২ জন। এবার করোনা ভাইরাসের তাণ্ডবও উদ্বেগজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। সাদিক খান জানান, লন্ডনের কিছু কিছু জায়গায় ২০ জনে এক জন করে ভাইরাসে সংক্রমিত হচ্ছে। অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসেও বেড়ে গেছে চাপ। দিনেই আসা ৯ হাজার কল সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

যুক্তরাজ্য এরই মধ্যেই ফাইজার/বায়োএনটেক ও অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা অনুমোদন করেছে। শুরু হয়েছে টিকাদান কর্মসূচি। তৃতীয় টিকা হিসেবে দেশটি শুক্রবার মডার্নার টিকাও অনুমোদন করেছে। তার পরও করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি বাগে আনতে পারছে না দেশটি। বিশ্বে করোনা ভাইরাসে মৃত্যুর হিসাবে পঞ্চম স্থানে আছে যুক্তরাজ্য। যুক্তরাজ্যে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে শুক্রবার মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ৩২৫ জনের, যা এখন পর্যন্ত এক দিনে সর্বোচ্চ। এর আগের দিন (বৃহস্পতিবার) মৃতের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ১৬২ এবং বুধবার ছিল ১ হাজার ৪১। এ পর্যন্ত দেশটিতে মোট মৃতের সংখ্যা ৭৯ হাজার ৮৩৩। শুক্রবার সর্বোচ্চসংখ্যক মৃত্যুর পাশাপাশি এক দিনে সর্বোচ্চ আক্রান্তও শনাক্ত হয়েছে। এদিন যুক্তরাজ্যে ৬৮ হাজার ৫৩ জনের শরীরে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে।

  •  
  •  
  •  
  •