ভারতে দেয়া হচ্ছে করোনার টিকা

নিউজ ডেস্কঃ

যে চিকিৎসাকর্মীরা শনিবার করোনা টিকাকরণ কর্মসূচির প্রথম দিনেই পেয়ে যাচ্ছেন বহু প্রতীক্ষিত করোনার ভ্যাকসিন কোভিশিল্ড, মোটের উপর তাঁরা সবাই উত্তেজিত। এমন ঐতিহাসিক দিনের শরিক ও সাক্ষী হতে পেরে তাঁরা খুশিও।

কেউ বলছেন, পরম সৌভাগ্য। কেউ আবার দারুণ উত্তেজিত ও গর্বিত এই ভেবে যে প্রথম তিন লক্ষের একজন তিনিও! কেউ বলছেন, লটারিতে যেন শিকে ছিঁড়ল! কারও মনে আবার যুদ্ধজয়ের আগাম অনুভূতি!

যে চিকিৎসাকর্মীরা আজ, শনিবার টিকাকরণ কর্মসূচির প্রথম দিনেই পেয়ে যাচ্ছেন বহু প্রতীক্ষিত করোনার ভ্যাকসিন কোভিশিল্ড, মোটের উপর তাঁরা সবাই বেশ উত্তেজিত। এমন ঐতিহাসিক দিনের শরিক ও সাক্ষী হতে পেরে খুশিও। নাতি-পুতিকে গল্প শোনানোর মতো রসদ তাঁরা শুক্রবারই পেয়ে গিয়েছেন। কো-উইন পোর্টাল থেকে আসা এসএমএস অথবা প্রশাসনের ফোন বলে দিয়েছে- ‘ইউ আর ইন।’

রাজ্যে এমন টিকা প্রাপকের সংখ্যাটা শনিবার প্রায় ২১ হাজার, কলকাতায় ১৯০০। তাঁদেরই অন্যতম এসএসকেএমের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রধান চিকিৎসক রাজা রায় ও তাঁরই ল্যাবে কর্মরত মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট শুভময় ভট্টাচার্য কিংবা বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজের কমিউনিটি মেডিসিনের প্রধান চিকিৎসক ইন্দ্রজিৎ সাহা।

শুভময় বলছিলেন, ‘গত ন’মাসে লাখ চারেক করোনার নমুনা ঘেঁটেছি। যার মধ্যে লাখখানেকের কাছাকাছি নমুনা পজিটিভ। সুরক্ষাবর্ম থাকলেও মনে মনে প্রার্থনা করেছি, তাড়াতাড়ি আসুক ভ্যাকসিনটা! যে দিন কোভিশিল্ড আর কোভ্যাক্সিন দিল্লির অনুমোদন পেল, সে দিন খুব আনন্দ হয়েছিল। মনে হচ্ছে, করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধটা এ বার জিতেই গেলাম!’ তাঁর সঙ্গে একমত ইন্দ্রজিৎও। একই সুর আইডি হাসপাতালের উপাধ্যক্ষ আশিস মান্না কিংবা অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপার সুতপা মজুমদারের গলায়। তাঁরাও আজ টিকা পাচ্ছেন।

চিত্তরঞ্জন সেবাসদনের অধ্যক্ষ আশিস মুখোপাধ্যায় বলছেন, ‘এমন একটা দিনের জন্যই তো সকলে অপেক্ষা করে ছিল। সেই দিনটা যখন আসছে, আনন্দ তো হবেই।’ আজ ভ্যাকসিন পাচ্ছেন বলে জানানো হয়েছে ঢাকুরিয়া আমরি হাসপাতালের মেডিসিনের চিকিৎসক অনুপম দাসকেও। টানা কোভিড ওয়ার্ডে কাজ করে আসা এই তরুণ চিকিৎসক কিছুটা নার্ভাস, তবে প্রথম দিনে সুযোগটা পেয়ে দারুণ গর্বিতও। তাঁর কথায়, ‘একটা সন্তুষ্টিও আছে। কেননা, ভ্যাকসিনের প্রথম শটটা নেওয়ার মানে, নিজে সংক্রমিত না-হয়ে পড়া এবং অন্যকে সংক্রমিত না-করে ফেলার লক্ষ্যে এক ধাপ এগিয়ে যাওয়াও।’

 

তবে আমরির নার্স বর্ষা সরকারের অনুভূতিটা মিশ্র। তাঁর বক্তব্য, ‘এত দিন ধরে এই দিনটার অপেক্ষায় ছিলাম ঠিকই। কিন্তু দিনটা যখন আসছে, তখন কেন জানি না, অজানা একটা ভয়ও কাজ করছে!’ আরএন টেগোর হাসপাতালের নিউরো ওটি-র নার্সিং স্টাফ সীমা বালা সিনহাও আজ ভ্যাকসিন পাচ্ছেন বলে জেনেছেন শুক্রবার বিকেলে। তাঁর গলাতেও বর্ষার সুর, ‘অদ্ভুত একটা অনুভূতি হচ্ছে, যেটা ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। ভালো তো লাগছেই। আবার একদম নতুন একটা ভ্যাকসিন নিচ্ছি বলে অজানা একটা আশঙ্কাও আছে।’

রাজ্য সরকার ও আইএমএ-র যৌথ উদ্যোগে শুক্রবারই ঠিক হয়েছে, আজ সাত জন বিশিষ্ট চিকিৎসককেও এনআরএসে টিকা দেওয়া হবে। তাঁরা হলেন সুকুমার মুখোপাধ্যায়, ধীমান গঙ্গোপাধ্যায়, আলোকগোপাল ঘোষাল, অলোক রায়, শান্তনু সেন ও দীপক ঘোষ। সপ্তম চিকিৎসক হিসেবে অরুণাভ সেনগুপ্ত টিকা নেবেন এসএসকেএমে। গত মে মাসে তিনি করোনার শিকার হয়েছিলেন। সূত্রের খবর, আজ দুপুর ১টা নাগাদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এঁদের সঙ্গে হয়তো নবান্ন থেকে কথাও বলবেন ভিডিয়ো-কলে। চিকিৎসক এবং ডাক্তার সংগঠনের নেতা হওয়ার সুবাদে শান্তনু করোনাকালে অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছেন। শুক্রবার তিনি বলেন, ‘আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম দিন থেকে পথে নেমেই মানুষকে সচেতন করেছেন, অভয় দিয়েছেন। তাই নির্ভয়ে কাজ করে গিয়েছি।’ প্রবীণ ফুসফুস রোগ বিশেষজ্ঞ ধীমান গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘একটা কৃতজ্ঞতাবোধ কাজ করছে মনের ভিতর। চিকিৎসক হিসেবে ভ্যাকসিনটা তো পেতামই। কিন্তু প্রথম দিনেই লক্ষ লক্ষ চিকিৎসাকর্মীর মধ্যে সেই সুযোগটা পাওয়া তো পরম সৌভাগ্যের।’ তবে ভ্যাকসিনের ট্রায়াল রিপোর্ট এখনও পুরো জানা নেই বলে কিছুটা সংশয় রয়েছে ডাক্তারদের একাংশের মনে।

  •  
  •  
  •  
  •