ব্যস্ততা বেড়েছে এশিয়ার কারখানা গুলোতে

নিউজ ডেস্কঃ

প্রযুক্তি সামগ্রীর চাহিদা বৃদ্ধিতে গত ফেব্রুয়ারি মাসে এশিয়ার কারখানাগুলোতে প্রবৃদ্ধির দেখা মিলেছে। অবশ্য কভিড-১৯ মহামারীর বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে মরিয়া এশিয়ার রফতানিমুখী অর্থনীতিগুলোর চ্যালেঞ্জকে আচ্ছন্ন করে রাখছে চীনের উৎপাদনে মন্দা ভাব। যদিও বিশ্লেষকরা বলছেন, চরম পরিস্থিতিতেও চীন উৎপাদন ধরে রাখতে পেরেছিল, ফলে এ মন্দা ভাব সাময়িক।

বিশ্বব্যাপী কভিড ভ্যাকসিনের গণপ্রয়োগ শুরু এবং চাহিদা বৃদ্ধি বিভিন্ন ব্যবসা খাতে নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে। যেখানে মহামারীকালে কয়েক মাস ধরে নগদ-প্রবাহের সংকটে সংকুচিত এবং মুনাফার খরায় ভুগেছে এসব খাত।

এদিকে গত ফেব্রুয়ারিতে জাপানে উৎপাদন কার্যক্রম দুই বছরের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুতগতিতে প্রসারিত হতে দেখা গেছে। যেখানে দক্ষিণ কোরিয়ার রফতানি একই সময় টানা চতুর্থ মাসের মতো বৃদ্ধি পেয়েছে। এ চিত্র ইঙ্গিত দিচ্ছে বিশ্ব বাণিজ্য পরিস্থিতি এ অঞ্চলের রফতানিনির্ভর অর্থনীতিগুলোতে গতি ফেরাচ্ছে।

উল্টো দিকে চীনের কারখানাগুলোর কার্যক্রমে ফেব্রুয়ারিতে নয় মাসের মধ্যে সবচেয়ে মন্দা ভাব কেটেছে। কভিড-১৯-এর কারণে অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি ও ভোক্তা চাহিদায় ধস এবং নতুন করে লকডাউন কার্যকর করা দেশগুলোতে দুর্বল চাহিদা চীনের কারখানা প্রবৃদ্ধিকে পেছনের দিকে টানছে—এইচএসবিসির অর্থনীতিবিদ ইরিন জিন বলেছেন।

এ ব্যাপারে এইচএসবিসি ব্যাংকের অর্থনীতিবিদ ইরিন শিন বলেন, সর্বোপরি, বর্তমানে চীনা উৎপাদন পরিস্থিতির মন্দা গতি সাময়িক হওয়ারই কথা। আমরা আশা করি, অভ্যন্তরীণ চাহিদা পুনরুদ্ধার এবং বিশ্বব্যাপী চাহিদা বৃদ্ধির প্রভাবে প্রবৃদ্ধিতে আবার গতি ফিরবে।

তবে শ্রমবাজারের অব্যাহত চাপের কারণে পরিবারিক ব্যয়, যা পুনরুদ্ধারের পর্যায়ে রয়েছে, তার এখনো পুরোপুরি প্রাক-মহামারী স্তরে পৌঁছেনি।

কভিড-১৯ থেকে পুনরুদ্ধারের নেতৃত্ব দানকারী প্রধান অর্থনীতিই ছিল। সুতরাং এশিয়ার প্রবৃদ্ধির ইঞ্জিনের শীতলাবদ্ধা দীর্ঘায়িত হওয়ার যে কোনো ইঙ্গিতই বড় উদ্বেগের কারণ হতে পারে।

বৈশ্বিক পুনরুদ্ধার প্রবণতা কিন্তু এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্লেষকরা বলছেন, গণটিকা প্রয়োগ কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন হচ্ছে। এটি নিয়ে অত্যন্ত আশাবাদী কোম্পানিগুলো। কভিড টিকা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে স্বাভাবিক করবে, এমন বিশ্বাস রেখেই তারা ইনভেন্টরি মজুদ বাড়াতে উৎপাদন বাড়িয়ে দিচ্ছে। এটি সবার জন্যই অত্যন্ত আশার কথা।

টেকসই পণ্যের চাহিদা পুনরুদ্ধার অব্যাহত রয়েছে, যা এশিয়ার উৎপাদকদের জন্য একটি ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করছে, অক্সফোর্ড ইকোনমিক্সের জাপানি অর্থনীতি বিভাগের প্রধান শিগেতো নাগাই এমনটাই মনে করছেন।

তিনি বলেন, ভ্যাকসিন প্রয়োগ অনিশ্চয়তা কাটিয়ে তোলার পাশাপাশি মূলধন ব্যয়ও ধীরে ধীরে বাড়াতে ভূমিকা রাখবে। এর ফলে জাপান লাভবান হবে, যে দেশটি মূলধনি পণ্য রফতানির জন্য সুবিদিত।

অপরদিকে চীনের কক্সিন/মার্কিট ম্যানুফ্যাকচারিং পারচেজিং ম্যানেজারের সূচক (পিএমআই) ফেব্রুয়ারিতে ৫০ দশমিক ৯-এ নেমে গেছে, এটি গত মে মাসের পর সর্বনিম্ন স্তর। যেখানে ৫০ শতাংশের নিচে হলে সেটিকে সংকোচনমুখী বলে ধরে নেয়া হয়।

এটি অফিশিয়াল ম্যানুফ্যাকচারিং পিএমআই সূচকের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ, যা বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিটির কারখানা কার্যক্রম ফেব্রুয়ারিতে গত বছরের মে মাসের পর সবচেয়ে দুর্বল বলেই বোঝায়।

অবশ্য অন্য এশীয় জায়ান্টগুলোর কারখানা কার্যক্রম বেশ ভালোই ছিল। গত সোমবার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জিবুন ব্যাংক জাপান ম্যানুফ্যাকচারিং পারচেজিং ম্যানেজার সূচক (পিএমআই) ফেব্রুয়ারিতে আগের মাসের (৪৯.৮) তুলনায় ৫১ দশমিক ৪-এ উন্নীত হয়েছে। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের পর এটিই দ্রুততম সম্প্রসারণ।

আঞ্চলিক রফতানি জায়ান্ট দক্ষিণ কোরিয়া সরবরাহ ফেব্রুয়ারিতে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৯ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। ফলে টানা চতুর্থ মাসের মতো প্রবৃদ্ধি দেখেছে দেশটি। মূলত মেমোরি চিপ এবং গাড়ি বিক্রির ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির কারণেই কোরীয় অর্থনীতি ইতিবাচক প্রবণতা ধরে রেখেছে।

চাহিদা এবং উৎপাদন বৃদ্ধির ফলে ফেব্রুয়ারিতে ভারতের কারখানার কার্যক্রম সপ্তম মাসের মতো সম্প্রসারিত হয়েছে। যদিও উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণে করপোরেট মুনাফা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া এবং ভিয়েতনামেও ফেব্রুয়ারিতে উৎপাদন কার্যক্রম সম্প্রসারিত হয়েছে। এ অঞ্চলটি মহামারীর প্রাথমিক আঘাত থেকে ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধারের দিকেই যাচ্ছে, এটি তারই ইঙ্গিত।

  •  
  •  
  •  
  •